ভারতের পালনোর সময় ট্রাক চালক আটক গতির বিরুদ্ধে মহাসড়কে মোবাইল কোর্ট
সাবজাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের আলোচিত সড়ক ট্রাজেডিতে মাস্টার্সের ৬ শিক্ষার্থীসহ ১২ জন নিহতের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে ওই মামলার আসামী ট্রাকের চালক রনি গাজিকে যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালীা সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক করেছে বারোবাজার হাইওয়ে পুলিশ। আটকৃত রনি যশোরের শার্শা উপজেলার সনাতনকাঠি গ্রামের মশিয়ার গাজির ছেলে। এরপর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে মহাসড়কে চলাচলরত দ্রুতগ্রতির গাড়ির নিয়ন্ত্রনে আনতে রোববার দিনভর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রান সাহা এ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ঢাকা -খুলনা মহাসড়কের কালীগঞ্জ মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের সন্মুখে অবস্থান নিয়ে দ্রুত গতির ট্রাক,যাত্রীবাহি গড়াই ও রপসা পরিবহনসহ ৯ টি যানবাহনে মামলা ও সাড়ে ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান মিয়াসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সূবর্না রানী সাহা জানান, সম্প্রতি এ মহাসড়কে দূর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। পরিবহন চালকদের প্রতিযোগীতামুলক বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর কারনে মহাসড়কে বেড়েছে দূর্ঘটনা। শিকার হয়ে অনেকের জীবনহানী ঘটছে। আবার সারাজীবনের জন্য অনেককে পঙ্গুত্ববরন করতে হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন যানবাহনের গতিরোধ ও চালকদের কাগজপত্র দেখতে অভিযানে নেমেছেন। এ সময়ে তিনি ওই সড়কের আলোচিত দ্রুতগতির যাত্রীবাহি গড়াই ও রুপসা পরিবহন সহ ৯ টি যানবাহনের নামে মামলা ও সাড়ে ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। তিনি আরো জানান, যানবাহন চলাচলে সড়কে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য,গত ১০ ফেব্রুয়ারী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার পেট্রোল পাম্পের সামনে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ৬ মাষ্টার্সের শিক্ষার্থীসহ ১২ টি তরতাজা জীবন ঝরে যায়। নিহত শিক্ষার্থীরা ওই দিন যশোর এম এম কলেজে মাস্টার্স পরিক্ষা শেষে দূর্ঘটনার শিকার জেকে পরিবহনে করে ঝিনাইদহের দিকে বাড়ি ফিরছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের বাস ও ট্রাকের দুই চালকই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ফলে দুই চালকই অপরাধী। এ ঘটনায় বাস ও ট্রাকটির চালকের নামে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হলেও শুক্রবার ওই ট্রাক চালককে আটক করা সম্ভব হলেও বাসের চালক এখনও রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে। এদিকে মহাসড়কের এ শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই একদিন পরে ১২ ফেব্রুয়ারী ভোরে কালীগঞ্জ শহরের হক চিড়ামিলের নিকটে অদক্ষ হেলপারের চালানো বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক মহাসড়কের পাশের একটি দোকানে সজোরে আঘাত করে। এ সময় দোকানে বসে থাকা দোকান মালিকসহ ৪ জন আজ পঙ্গুত্বের পথে। সাথে সাথে ওই দোকানের মালিক একদিকে শারীরিকভাবে অন্যদিকে দোকানসহ সকল মালামাল গুড়িয়ে যাওয়ায় ওই পরিবারের সব শেষ হয়ে গেছে।










































