মাগুরা প্রতিনিধি
কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রবেশ পথে এভাবেই বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। এলাকার একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিক। গর্ভবতীদের সেবা থেকে শুরু করে যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা পেতে এই ক্লিনিকেই ভিড় করেন এলাকাবাসী। প্রায় দুই হাজার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এটি। বিষয়টি বিবেচনায় না এনেই এই কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রবেশ পথে বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের একমাত্র সরকারি ক্লিনিকের প্রবেশ পথে বাঁশের বেড়াটি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কমিউনিটি ক্লিনিকের একমাত্র প্রবেশ পথটি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালি তুলে ক্লিনিকের চারপাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। বালি উত্তোলনের সময় বালির সাথে পানিও আসছে। সেই পানি জমা হচ্ছে ক্লিনেকের পথ ও আঙিনায়।
ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের ইমরান হুসাইন, গোপালপুরের আকলিমা বেগমসহ কয়েকজন জানান, গত সাত দিন ধরে গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ওষুধ নিতে পারছেন না। সাধারণ জ্বর বা সর্দি-কাশির জন্য মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। সরকার গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য এ কমিউনিটি ক্লিনিক দিয়েছেন। কিন্তু ক্লিনিকে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষের কষ্ট বেড়েছে। তারা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শহিদুল ইসলাম নামে এক বয়স্ক রোগী বলেন, ‘ক্লিনিকের চারপাশ দিয়ে ঘিরা রইছে। কোনোভাবেই ভিতরে ঢুকতি পারলাম না। বহুত লোক ফিরে যাচ্ছে। মাজার ব্যাথার জন্যি গিছিলাম, কিন্তু ঔষধ পালাম না। পরে আর কি করা। বাজারের থেকে টাকা দিয়ে ঔষধ কিনে খাইছি।’ ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী আলী রেজা জানান, ক্লিনিকের সামনের জমির মালিক শাহাদত ও তার ভাই নায়েব আলী। তারাই বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে একমাত্র প্রবেশ পথটি। প্রতিদিন ৫০/৬০জন রোগী এই ক্লিনিকে আসে। গত সাত দিন ধরে কোনো রোগী ভিতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। চিকিৎসা ও ওষুধ নিতে না পেরে তারা ফিরে যাচ্ছেন।
আলী রেজা আরও জানান, ক্লিনিক থেকে রোগীদের প্রায় ২০ ধরনের সরকারি ওষুধ বিনা পয়সায় দেওয়া হয়। এছাড়া গর্ভবতী মাসহ সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করা হয়। জমির মালিক নায়েব আলী ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘ক্লিনিকে যারা জমি দিয়েছিল, তারা যাওয়ার পথ দেবে না? শুধু আমরা জমি ছেড়ে দিয়ে পথ করে দেব? তবে, জনস্বার্থে আমি বাঁশের বেড়া খুলে দেব।’ তবে ১৫ বছর ধরে ক্লিনিক চলার পর এখন পথ বন্ধ করলেন কেন? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মকছেদুল মোমিন বলেন, ‘ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’ মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমাকে কিছু জানাননি। তবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মাগুরার ভারপ্রাপ্ত সির্ভিল সার্জন ডা. রেজোয়ান আহমেদ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে বিষয়টি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’










































