স্টাফ রিপোর্টার।।
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে দুপুর ১২টার পর থেকেই খুলনা জেলা ও নগরের প্রধান সড়কের দুই পাশে হাজারো মানুষের অপেক্ষা, ফুলেল শুভেচ্ছা ও নানা আয়োজনে নগরজুড়ে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন, বেলুন নিয়ে রাস্তার দুপাশে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
সরকার গঠনের পর দুই দফায় খুলনা সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই খুলনার বিভিন্ন সড়কে জড়ো হয়েছেন বিএনপির নেতা কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে নগরীর জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা, রূপসা বাইপাস সড়ক, শেরে বাংলা রোড ও পাওয়ার হাউস মোড়, ডাকবাংলো মোড়, পিকচার প্যালেস মোড় হয়ে জেলা স্টেডিয়ামমুখী সড়কের বিভিন্ন স্থানে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন দলীয় নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষ। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার আশায়।
কেউ এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউবা দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য শোনার সুযোগ পাবেন। পুরো পথজুড়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর প্রস্তুতিও নিয়েছেন স্থানীয় নেতা কর্মীরা।
কেউ ভ্যানে বিরিয়ানি, কেউ জাতীয় ও বিএনপির পতাকা, কেউ ভাজা, কেউবা পানির বোতল মাথায় নিয়ে বিক্রির জন্য হাঁকডাক দিচ্ছেন। নগর ভবনের সামনে বসা হায়দার বাবুর্চি বলেন, সকাল ৭টা থেকে বিক্রি করছেন। পানিসহ এক প্যাকেট বিরিয়ানি ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। পতাকা বিক্রেতা পারভেজ মোশারফ বলেন বিক্রি ভালোই হচ্ছে।
রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি দেখার সুযোগ হবে। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই এখানে অপেক্ষা করছি।’
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, কুদির বটতলা থেকে স্টেডিয়ামমুখী পুরো পথজুড়ে খুলনাবাসীর পুষ্পবৃষ্টি ও অভিনন্দনের জোয়ার স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফিকুল আলম মনা বলেন, বিগত ১৭ বছর খুলনা অঞ্চল চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খুলনার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
এদিকে অন্যান্য দিনের চাইতে আজ সকাল থেকে খুলনা নগরীতে যানবাহন চলাচল অনেকটা কম পরিলক্ষিত হয়েছে। নগরভবন, সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আদালত পাড়ায় গিয়ে জনসাধারণের উপস্থিতি কম দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে খুলনা নগরী ও জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
গতকাল বুধবার থেকেই খুলনা জেলা স্টেডিয়াম নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় আনা হয়েছে। নিরাপত্তা জনিত কারণে আজ সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আদালত পাড়ার মোড় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বেলা ১টা ২০ মিনিটি স্টেডিয়ামের ফটক খুলে দেওয়া হয়। প্রথমে সেখানে প্রবেশ করে নতুন কুঁড়ি ইভেন্টে অংশ গ্রহণকারীরা। বেলা ৩টায় খুলনা সেখানে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২) ’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সকালে মোংলা বন্দরে পৌঁছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (র.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত শেষে দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউজে যান।
বিকেলে তিলক মোড়ের উপর নির্মিত পথসভা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন বলে প্রত্যাশা করছেন নেতা কর্মীরা।











































