মিলি রহমান।।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন বেশ সাড়া ফেলেছে নতুন এক স্বাস্থ্যচর্চা—‘ফাইবারম্যাক্সিং’। সহজ কথায়, প্রতিদিনের খাবারে ফাইবারের (আঁশ) পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।
হজমশক্তি ভালো রাখা, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফাইবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—ফাইবারম্যাক্সিং করতে কোন খাবারটি বেছে নেবেন? চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড (তিসি) নাকি ইসবগুলের ভুসি? চলুন, জেনে নিই।
ফাইবার মূলত দুই প্রকার–
দ্রবণীয় ফাইবার: পানিতে গুলে জেলের মতো রূপ নেয়। এটি হজম প্রক্রিয়া ধীর করে পেটে দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি বজায় রাখে এবং রক্তে শর্করা কমায়।
অদ্রবণীয় ফাইবার: পানিতে গলে না, বরং হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।
চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড এবং ইসবগুল—তিনটিতেই প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে। তবে আপনার শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক শস্য বেছে নেওয়া জরুরি।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে (ইসবগুলের ভুসি):
ইসবগুল প্রচুর পানি শোষণ করে মল নরম করে তোলে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে ইসবগুলই সবচেয়ে কার্যকর। তবে চিয়া বা ফ্ল্যাক্স সিডও কাজ করে, যদিও এতে প্রোটিন ও ফ্যাট থাকায় হজম হতে একটু বেশি সময় নেয়।
ওজন কমাতে (চিয়া সিড):
চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ফুলে জেলের মতো হয়ে যায়। এটি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে, ফলে বারবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য চিয়া সিড আদর্শ।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে (ফ্ল্যাক্স সিড/তিসি):
ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা রক্তনালির প্রদাহ কমায় এবং হার্ট সুস্থ রাখে। তবে খোসার কারণে এটি হজম হতে সমস্যা হলে গুঁড়ো করে খাওয়া ভালো।
নিয়ম মেনে খাবেন যেভাবে—-
দিনে তিন বেলা তিনটিই খাওয়া সম্ভব—সকালে চিয়া সিড দিয়ে লেবু পানি, দুপুরে ফ্ল্যাক্স সিড মেশানো টকদই এবং রাতে ইসবগুলের ভুসি। ফাইবার জাতীয় খাবার খাওয়ার সময় প্রচুর পানি পান করতে হবে। দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি না খেলে উপকার পাওয়ার বদলে উল্টো কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তৈরি হতে পারে।











































