Home স্বাস্থ্য শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে কীভাবে বুঝবেন?

শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে কীভাবে বুঝবেন?

2

মিলি রহমান।।

শরীরের গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মধ্যে পটাশিয়াম অন্যতম। এ খনিজটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। পটাশিয়াম কমে যাওয়া মানেই বেড়ে যায় উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের অসুখ, স্ট্রোকের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনে অন্তত ৪৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম খাওয়া দরকার।

পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে মারাত্মক বিপদ। ভারতের মণিপাল হসপিটালের কনসালট্যান্ট চিকিৎসক ডা. পার্থসারথি মণ্ডল (ইন্টারনাল মেডিসিন ও ডায়াবেটোলজি) জানান, পটাশিয়াম কমে গেলে সবসময় ক্লান্ত ও দুর্বল লাগে।

পর্যাপ্ত ঘুম হলেও ক্লান্তি পিছু ছাড়ে না। পেশিতে ব্যথা, টান, খিঁচুনি দেখা দেয়। হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব বা অসাড় ভাব অনুভূত হয়।

নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকলে শরীরে ইনসুলিন কম উৎপাদিত হয় এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ে। এতে মাংসপেশির দুর্বলতা এবং মাংসপেশিতে ঘন ঘন টান লাগার মতো সমস্যাও তৈরি হয়। হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফাঁপাও পটাশিয়াম কমের ইঙ্গিত হতে পারে। মাথা ধরা, বমি বমি ভাব, ঝিমিয়ে পড়া বা কোনো কাজ করার উৎসাহ হারিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও এড়িয়ে যাবেন না।

ডায়াবিটিস বা কিডনির অসুখ থেকে বেশি বা কম মাত্রায় মূত্র হলে কিংবা খাবারে লবণের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা কম হলেও ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দন বা বুক ধড়ফড় করা, বারবার পেশি কেঁপে ওঠাও পটাশিয়াম কমার লক্ষণ হতে পারে। ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হলে রক্তে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের মাত্রা কমতে পারে। অত্যধিক ঘামের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে গেলে লবণের মাত্রা কমে যেতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই লক্ষণগুলির পেছনে আরো অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই এগুলো দেখা মানেই যে শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হয়েছে, এমন নয়।

কিন্তু যদি এই উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা খুব তীব্র হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা জানা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ খাওয়া উচিত নয়, কারণ পটাশিয়াম খুব কম বা খুব বেশি, দুই অবস্থাই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

পটাশিয়ামের ঘাটতি কমাতে কী খাবেন
কলা, কমলালেবু, ডাবের পানি, পালং শাক, টমেটো, আলু, মিষ্টি আলু, বিভিন্ন ধরনের বিনস, ডাল, দই এবং অ্যাভোকাডোয় ভরপুর পটাশিয়াম থাকে। ঘাটতি মেটাতে এ খাবারগুলো খাদ্যতালিকায় রাখুন।