Home স্বাস্থ্য সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব হয়? কারণ জানুন

সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব হয়? কারণ জানুন

11

মিলি রহমান।।

রাতে পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও যদি দিনের বেশিরভাগ সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন লাগে, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। অনেকেই এটিকে অলসতা মনে করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাবের পেছনে জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসের পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের সঙ্গে শুধু বিশ্রামের সম্পর্ক নয়, শরীরের জৈবিক ছন্দও জড়িত। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, একঘেয়ে কাজের চাপ, নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব কিংবা রাতের শিফটে দায়িত্ব পালনের কারণে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের রুটিন বিঘ্নিত হতে পারে। এর প্রভাব দিনের বেলায় ক্লান্তি ও ঘন ঘন তন্দ্রা হিসেবে প্রকাশ পায়।

হরমোনজনিত পরিবর্তনও অতিরিক্ত ঘুমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে ক্লান্তি, অবসাদ এবং ঘুমের প্রবণতা বাড়ে। একইভাবে ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে বা কমে গেলে দুর্বলতার পাশাপাশি তন্দ্রাভাব দেখা দিতে পারে।

কিডনি বা লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমতে শুরু করে, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলেও সারাক্ষণ ঘুম ঘুম লাগার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ বেরিয়ে গেলে দুর্বলতার সঙ্গে ঘুমের প্রবণতাও বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে পানিশূন্যতার কারণে ক্লান্তি, মাথা ঝিমঝিম করা এবং তন্দ্রাভাব দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।

রক্তশূন্যতাও অতিরিক্ত ঘুমের একটি পরিচিত কারণ। শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি ও ঘুমের অনুভূতি তৈরি হয়। ভাইরাসজনিত সংক্রমণের সময় বা সুস্থ হওয়ার পরও কিছুদিন অবসাদ ও তন্দ্রাভাব থাকতে পারে। অন্যদিকে রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যার কারণে ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাস বারবার বাধাগ্রস্ত হলে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পেতে পারে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এ সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। বিশেষ করে অ্যালার্জি, সর্দি-কাশি, ব্যথানাশক বা উদ্বেগ কমানোর কিছু ওষুধ তন্দ্রাভাব বাড়িয়ে দিতে পারে।

যেসব লক্ষণ থাকতে পারে

অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাবের পাশাপাশি সবসময় ক্লান্ত লাগা, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং কাজের সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

সমস্যা কমাতে করণীয়

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থাকা, স্ক্রিনে কম সময় ব্যয় করা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এ সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। কোনো ওষুধ খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘুম এলে সেটিও চিকিৎসককে জানানো উচিত।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

যদি অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায় অথবা এর সঙ্গে অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।