স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনায় চাঞ্চল্যকর কিশোরী নির্জনা হত্যা মামলায় ঘাতক বাবা আকাশ আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১-এর বিচারক মো. আসাদুর জামান আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার একটি বাজার থেকে র্যাব ও খুলনা সদর থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে আকাশকে গ্রেপ্তার করে। উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাও মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
নেপথ্যে যা ছিল: তদন্ত সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই সকাল ১০টার দিকে নির্জনা তার স্বামী রনির সঙ্গে চলে যাওয়ার জন্য নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাড়ি থেকে বের হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাস্তা থেকে ধরে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। ওই দিন বিকেলে মা সীমার সঙ্গে নির্জনার তীব্র কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে নির্জনা তার মায়ের গায়ে হাত তোলে ও গলা টিপে ধরে। এ সময় বাবা আকাশ কাঠের চেলা দিয়ে নির্জনাকে শাসন করতে গেলে তা অসাবধানতাবশত তার মাথায় লাগে। এরপর তারা নির্জনাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
লাশ গুমের লোমহর্ষক চেষ্টা: নির্জনা মারা যাওয়ার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বাবা আকাশ কালো লুঙ্গি দিয়ে মেয়ের হাত-পা বেঁধে ফেলেন। এরপর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দোতলা থেকে নিচে নামানো হয়। কয়েক দফা চেষ্টার পর মরদেহটি মোটরসাইকেলে তুলতে সক্ষম হন আকাশ। এরপর মোটরসাইকেলে করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে লাশ ফেলার জায়গা খুঁজতে থাকেন তিনি। কোথাও সুবিধাজনক স্থান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে বস্তাবন্দী মরদেহটি ফেলে দেওয়া হয়।
বাসায় ফিরে তারা ঘরের রক্ত মুছে ফেলেন, রাতে কান্নাকাটি করেন এবং পরদিন সকালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রথমে পিবিআই ও সিআইডিও মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। ঘটনার ৬ দিন পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং ১০ দিন পর ডুমুরিয়া থেকে ঘাতক বাবাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।











































