স্পোর্টস ডেস্ক।।
২ গোলে পিছিয়ে থেকেও মিসরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে এখন উড়ছে আর্জেন্টিনা। নাটকীয় এই জয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আরো এক ধাপ এগিয়ে দিল।
আগামী রবিবার (১২ জুলাই) সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নামবে মেসি বাহিনী। তবে আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। মিসরের খেলোয়াড়রা তো প্রকাশ্যেই ম্যাচে রেফারির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
এই বিতর্কের মধ্যেই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন-এএফএর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। আর্জেন্টাইন সংবাদপত্র ‘লা নাসিওন’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন-এর আর্থিক কার্যক্রমের ওপর একটি তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই। এএফএর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে অবৈধভাবে কোটি কোটি ডলার লেনদেন, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত কয়েক মাসে লা নাসিওন কর্তৃক সংগৃহীত ও বিশ্লেষণ করা এবং ২০২৫-এর শেষ ও এই বছরের শুরুতে প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী এএফএ ৫টি মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খোলা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অন্তত ২৬ কোটি ডলার লেনদেন করেছে।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: সিটিব্যাংক, সিনোভুস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান এবং পিএনসি ব্যাংক। এএফএ-এর বৈদেশিক আর্থিক বাধ্যবাধকতা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি’ এই লেনদেন করেছে।
তবে রেকর্ড অনুযায়ী, এই বিশাল অঙ্কের কেবল একটি ছোট অংশই ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দৃশ্যমান পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে মিলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার এমন কিছু কম্পানি ও সুবিধাভোগীদের দেওয়া হয়েছে, যার কোনো বৈধ অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা পাওয়া যায়নি।
নথিপত্রে দেখা গেছে, কোটি কোটি ডলারের ওয়্যার ট্রান্সফার করা হয়েছে এমন কিছু কম্পানির অ্যাকাউন্টে, যারা বাস্তবে কোনো সেবাই প্রদান করত না।
তারচেয়ে বড় কথা হলো, এই কম্পানিগুলো এমন কিছু ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো, যারা বুয়েনস আইরেস বা বারিলোচে এলাকায় বসবাস করতেন এবং সরকারি নথিতে সামাজিক কল্যাণ ভাতা পেতেন।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক স্পন্সরশিপ ও বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে আসা কোটি কোটি ডলারের কর ফাঁকি ও ওয়্যার জালিয়াতির বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এএফএর বিরুদ্ধে তদন্তে এফবিআইকে সহায়তা করছে আর্জেন্টিনা সরকার। এফবিআই যখন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এএফএ-এর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের তদন্তের নথি জমা দেয়, তখন আর্জেন্টিনার সরকার মার্কিন প্রসিকিউটরদের চিঠি পাঠিয়ে এই তদন্তে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়ার অঙ্গীকার করে।
তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি-এর সঙ্গে তাদের চুক্তি সম্পূর্ণ বৈধ এবং ফুটবল প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এই প্রচার চালানো হচ্ছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সঙ্গে এএফএ প্রধান ক্লাউডিও তাপিয়ার দ্বন্দ্ব অনেকদিনের। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই আর্জেন্টিনার ফুটবল ক্লাবগুলোকে ইউরোপের মতো বেসরকারি লিমিটেড কম্পানি বা কর্পোরেট মালিকানায় রূপান্তর করতে চান।
অন্যদিকে, ক্লাউডিও তাপিয়া এবং এএফএ আর্জেন্টিনার ঐতিহ্য অনুযায়ী ক্লাবগুলো অলাভজনক সামাজিক সংস্থা হিসেবে পরিচালনা অব্যাহত রাখতে অনড়। এর আগে গত মার্চ মাসে তাপিয়ার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছিল। এএফএ’র বিরুদ্ধে এফবিআয়ের তদন্ত মিলেই ও তাপিয়ার দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা আনবে।










































