Home Lead খুলনায় বিএনপি নেতা কচি হত্যা মামলা: সত্য উদঘাটনে আগামীকাল লাশ উত্তোলন

খুলনায় বিএনপি নেতা কচি হত্যা মামলা: সত্য উদঘাটনে আগামীকাল লাশ উত্তোলন

203


স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা সদরের আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচি (৬৩) নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবার ভিকটিমের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিসিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনার আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামীকাল ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ (সোমবার) সকাল ১০টায় মৃত মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে ম্যাজিস্টেরিয়াল দায়িত্ব পালনের জন্য সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব নাজমুস সাকিব-কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন মহিবুজ্জামান কচি। অভিযোগ ওঠে, সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ওই কেন্দ্রের ভেতরে পুকুর পাড়ে আসামিরা ভোটারদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রচ্ছন্ন হুমকি ও বেআইনিভাবে চাপ সৃষ্টি করছিল। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে এমন আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ জানান কচি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর চড়াও হয় এবং একপর্যায়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম সরদার তাকে গলা ধরে সজোরে ধাক্কা মারলে তিনি একটি গাছের সাথে সজোরে আঘাত পেয়ে মাথায় গুরুতর জখম হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। তৎকালীন বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু একে সরাসরি জামায়াতপন্থী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের হামলা ও হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন। তবে প্রতিপক্ষ জামায়াত প্রার্থী প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, মহিবুজ্জামান কচি মূলত হৃদরোগে আক্রান্ত (হার্ট অ্যাটাক) হয়ে মারা গেছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের প্রাথমিক বক্তব্যেও শরীরে দৃশ্যমান বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকার কথা বলা হয় এবং কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারাও দাবি করেন যে সেখানে কোনো বড় ধরণের হাতাহাতি তাদের নজরে পড়েনি।


এমন পরিস্থিতিতে নিহতের পরিবার চরম শোকে বিপর্যস্ত থাকায় ঘটনার কিছুদিন পর খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ হারুন মজনু বাদী হয়ে বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি নালিশি মামলা (সিআর মামলা নং- ৮২৩/২৬) দায়ের করেন।


মামলায় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম সরদারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেন পিবিআইকে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ‘হৃদরোগ’ নাকি ‘হত্যাকাণ্ড’-সেই রহস্যের জট খুলতেই পিবিআই-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলনের এই চূড়ান্ত আদেশ দেন।

আগামীকাল নির্ধারিত সময়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে, যার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী আইনি গতিপথ।