বিবিসি
প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবার বৈশ্বিক রূপ নিতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ২টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। যেখানে একে অপরের মুখোমুখি হবেন ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ও আর্সেনাল ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল।
প্রিমিয়ার লিগে নিজ নিজ ক্লাবকে শ্রেষ্ঠত্ব এনে দেওয়ার লড়াইয়ে হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েল দুজনই ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। সেটি করতে গিয়ে তাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও সামনে আসে। যেটির প্রকাশ দেখা গেছে বিভিন্ন ম্যাচে। রোববার তা আবারও দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন বলছেন, চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এম্বাপে, হ্যারি কেইন ও হালান্ডদের মধ্যে গোল্ডেন বুট জয়ের প্রতিযোগিতা দেখা গেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বৈরথ নেই। রোববার হালান্ডের নরওয়ে ও গ্যাব্রিয়েলের ব্রাজিল যখন মুখোমুখি হবে, তখন দ্বৈরথের দৃশ্য দেখা গেলেও যেতে পারে।
ক্রিস সাটন বলেন, চলতি বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত দ্বৈরথ হতে যাচ্ছে এটি। তাদের দুজনের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই এক ধরনের তিক্ততা আছে। এর আগেও মাঠের খেলায় দেখা গেছে- তারা একে অপরকে খুব একটা পছন্দ করেন না।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারারও এই লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি দুর্দান্ত লড়াই হবে। কারণ, তাদের মধ্যে স্পষ্টতই কিছুটা খিটখিটে ভাব বা তিক্ততা আছে।’
এই লড়াইয়ের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে একটি আকর্ষণীয় পরিসংখ্যান। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসে চারবার নরওয়ের মুখোমুখি হয়েছে। দুটিতে হার ও দুটি ড্র হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে নরওয়েই একমাত্র দল যাদের বিরুদ্ধে সেলেসাওরা জয়ের মুখ দেখেনি।
হালান্ড-গ্যাব্রিয়েল দ্বন্দ্বের শুরু যেভাবে
এর জন্য ফিরে যেতে হবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তখন টানটান উত্তেজনা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ড লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্সেনাল। তা সত্ত্বেও এক ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল গানার্সরা। কিন্তু ম্যাচের ৯৮তম মিনিটে ম্যান সিটির জন স্টোন্স গোল করে সমতা ফেরান।
ঠিক ওই গোলের পরই শুরু হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। হতাশ গ্যাব্রিয়েল যখন জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ছিলেন, তখন তাঁর মাথার পেছনে সজোরে বল ছুড়ে মারেন হলান্ড। পরে ওই ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা একটা যুদ্ধ, একটা লড়াই। তাই ফুটবলে এমন উসকানিমূলক আচরণ হওয়াটা নতুন কিছু নয়। এটা খেলার একটা অংশ।’
কিন্তু ঘটনা সেখানেই থেমে থাকেনি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ম্যান সিটিকে ৫-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে আর্সেনাল। সেই ম্যাচে গোলের পর হালান্ডের সামনে গিয়ে চিৎকার করে উদযাপন করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল। যা নিয়ে পরে তিনি বলেন, ‘সে আমার মাথায় বল ছুড়ে মেরেছিল। আমাকে যেভাবে উসকানি দিয়েছিল, ঠিক সেভাবেই তাকে পাল্টা জবাব দিয়েছি।’
হালান্ড-গ্যাব্রিয়েলের এই দ্বন্দ্ব চলতেই থাকে। একই বছরের এপ্রিল মাসে আর্সেনালের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর টিভি ক্যামেরার সামনে উদযাপন করতে গিয়ে ‘গুড ফিলিং’ শিরোনামের একটি গানের লাইন গান হালান্ড। ওই ম্যাচ চলার সময় হালান্ডকে মাথা দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল। হালান্ডও তখন দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন আচরণের কারণে দুজনই হলুদ কার্ড পান।
পরের মাসে গানার্সরা যখন প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে, তখন গ্যাব্রিয়েল ট্রফি উঁচিয়ে ধরার একটি ছবি পোস্ট করেন। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে জুড়ে দেন সেই গানের লাইন, যেটি ক্যামেরার সামনে গেয়েছিলেন হালান্ড।
রোববার এই দুজনের এমন রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতে প্রস্তুত নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়াম।









































