# প্রযুক্তি ব্যবহারে ঘটছে পরিবর্তন # স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
এক সময় শুধু প্রয়োজনই নয়, বাঙালি পরিবারে আভিজাত্যের প্রতীক ছিল ল্যান্ড ফোন, রেডিও কিংবা রঙিন টেলিভিশন। তবে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ছোঁয়ায় এখন ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে এসব পণ্যের কদর অনেকটাই কমে গেছে। বিপরীতে নাটকীয়ভাবে বাড়ছে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নতুন এক জরিপ প্রতিবেদনে প্রযুক্তি ব্যবহারের এই পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। গত ২ জুলাই বিবিএস ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ’-এর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় কোয়ার্টারের (জানুয়ারি-মার্চ) ফলাফল নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেডিও ব্যবহারকারী পরিবার ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। ল্যান্ড ফোনের ব্যবহার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে।
এ ছাড়া বিনোদনের প্রধান মাধ্যম টেলিভিশনের ব্যবহারও ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারে নেমে এসেছে।
বিপরীত দিকে, পরিবারগুলোতে স্মার্টফোনের ব্যবহার ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের ব্যবহার ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারে।
সার্বিকভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী পরিবারের হার ৯৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যদিও বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার আগের মতোই ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশে স্থির রয়েছে।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে আইসিটি ব্যবহারের তথ্যে দেখা যায়, দেশের ১১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার এবং ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া সার্বিকভাবে ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন এবং ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।
প্রযুক্তির এই পালাবদল নিয়ে ‘ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে জেলা ভিত্তিক আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ প্রকল্পের পরিচালক মারুফা সাকি জানিয়েছেন, ল্যান্ড ফোনে অতীতে ভূতুড়ে বিল আসা ও লাইন পাওয়ার সমস্যার কারণে মোবাইল আসার পরপরই মানুষ ল্যান্ড ফোন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন ল্যান্ড ফোনের ব্যবহার মূলত অফিস-আদালতেই সীমাবদ্ধ।
তার ভাষ্য, এক সময় মানুষের বিনোদনের একমাত্র ভরসা রেডিও-টেলিভিশন হলেও, পরবর্তী সময়ে তা কেবল খবর ও টকশো দেখার মাধ্যম হিসেবে টিকে ছিল। তবে বর্তমানে স্মার্টফোন ও ফেসবুকের সহজলভ্যতার কারণে মানুষ আর আগের মতো টেলিভিশন দেখছে না, ব্যস্ততার কারণে ঘরে টিভি খোলার সময়ও কমে এসেছে। এসব কারণেই মূলত রেডিও, টেলিভিশন ও ল্যান্ড ফোনের ব্যবহার কমছে।
প্রকল্প পরিচালক আরও বলেছেন, ৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী নারী-পুরুষ এবং শহর ও পল্লি অঞ্চলের সূচক হিসাব করে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এই জরিপ করা হচ্ছে। দেশের ৬৪টি জেলায় ২১৪ জন তথ্য সংগ্রহকারীর মাধ্যমে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য নেওয়া হয়। সারা দেশের ২ হাজার ৫৬৮টি নির্বাচিত নমুনা এলাকা থেকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে মোট ৬১ হাজার ৬৩২টি পরিবার বা খানা থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই জরিপের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সূচকের অগ্রগতি জানার পাশাপাশি আইসিটি খাতে নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া সহজ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিবিএস জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রথম ২০১৩ সালে মডিউলার সার্ভে হিসেবে এই জরিপটি হয়েছিল। পরে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ২০২২ ও ২০২৩ সালেও এই জরিপ চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউইং বা কেপি পদ্ধতিতে মাঠ পর্যায়ে এই জরিপ কার্যক্রম সচল রয়েছে।









































