Home Lead নড়াইলে টিকটকে আসক্ত থাকার অভিযোগে স্ত্রীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী আটক

নড়াইলে টিকটকে আসক্ত থাকার অভিযোগে স্ত্রীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী আটক

3


নড়াইল প্রতিনিধি।।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে টিকটকে আসক্ত থাকার অভিযোগে স্ত্রী সুমনা ফেরদৌসীকে (৩০) পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী লিমন মল্লিককে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে নিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন সুমনা ফেরদৌসী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, টিকটকে ভিডিও পোস্ট করা এবং অন্য পুরুষদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদানকে কেন্দ্র করে লিমন ও সুমনার মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। এরই জেরে গতকাল সকালে লিমন সুমনাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরের মধ্যে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে বেরিয়ে যান।

লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে যান লিমন। বিকেল ৫টার দিকে বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন তিনি। লিমনের কান্নার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ পরিদর্শক অজিত কুমার রায় আরও জানান, স্ত্রী সুমনা আত্মহত্যা করেছেন—প্রথমে এমন প্রচার চালানোর চেষ্টা করেন লিমন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রাথমিকভাবে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

আটক লিমন মল্লিক পুলিশকে জানিয়েছেন, ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরির সময় সুমনার সঙ্গে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি লিমন ও সুমনা উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে।

স্বজন ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, পরবর্তীতে সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চরদিঘলিয়ায় আসেন লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে প্রায়ই কলহ হতো। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান।

বর্তমানে লিমন স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।