Home খেলাধুলা ফুটবল উন্মাদনায় বাধা হবে না তো লোডশেডিং?

ফুটবল উন্মাদনায় বাধা হবে না তো লোডশেডিং?

3

স্পোর্টস ডেস্ক।।

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬। বিশ্বমঞ্চের এই মহারণকে ঘিরে দেশজুড়ে ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে চেনা ফুটবল উন্মাদনা।

পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—সবখানেই এখন ফুটবল নিয়ে তুমুল আলোচনা। তবে এই উম্মাদনার মাঝেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে উঁকি দিচ্ছে একটি বড় শঙ্কা; চলমান গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিং খেলা উপভোগের আনন্দে জল ঢেলে দেবে না তো?

তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আশার কথা শোনাল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চলমান লোডশেডিং যতটা সম্ভব কমিয়ে আনাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। এর মধ্যেও প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দুই-তিন দিনে দেশে সর্বোচ্চ ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে।

সরকারি খাতায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কম দেখানো হলেও দেশের গ্রাম ও শহরের বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন।

ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ সাধারণ মানুষের। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ গেলে আসতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে, আবার কিছু এলাকায় টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকার ঘটনাও ঘটছে। ফলে খেলা দেখার মূহূর্তে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া নিয়ে গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা কাটছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘এখনও কিছু এলাকায় সামান্য লোডশেডিং রয়েছে, এটি সত্যি। মূলত কয়েকটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র জরুরি মেরামতের জন্য সাময়িক বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি খেলা শুরুর আগেই সেগুলো দ্রুত মেরামত করে পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে।’

বিশ্বকাপ চলাকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশেষ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করে বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকাপের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে খেলা উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’