স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান আসামি মো. রফিকুল ইসলাম হাওলাদার (৩৮) খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে জবানবন্দি রেকর্ড করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফরিদুজ্জামান। পরে রফিকুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বরিশালের কাশিপুর এলাকা থেকে আকে গ্রেফতার করে র্যাব-৬।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের কর্মকর্তা কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) অনিমেষ মন্ডল জানান, ঈদের দিন রাতে মেরী বেগমের মা রাগ করে রফিকুলকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরের দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুনরায় ওই বাড়িতে ফিরে আসেন মেরী বেগমের স্বামী রফিকুল।
সকালে মেইন গেট ও ঘরের দরজা খোলা ছিল। রফিকুল ঘরে ঢুকতে গেলে শাশুড়ি বেবী বেগম তাকে দেখে গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় তাকে ঠেলা দিয়ে ঘরের ভেতরে ফেলে দেন রফিকুল। গায়ে থাকা ওড়না দিয়ে শাশুড়ি বেবী বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর বিষয়টি শিশু শামীম দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। এরপর শামীমের চিৎকার শুনে মুস্তাকিম ঘুম থেকে জেগে হত্যার বিষয়টি দেখে ফেলে।
ট্রাংকের ওপর থাকা পায়জামা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকেও হত্যা করেন রফিকুল। এরপর শাশুড়ি বেবী বেগমের মরদেহ খাটের নিচে, শামীমের মরদেহ ট্রাংকের ওপর ও মুস্তাকিমের মরদেহ ওয়ারড্রবের একটি ড্রয়ারের মধ্যে লুকিয়ে রেখে তালা দেন। মেরী বেগম ঘুম থেকে উঠে দেখেন বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া। ভেতর থেকে একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর রফিকুল দরজা খুলে দেন। পরবর্তীতে ছেলে ও মায়ের সন্ধান করতে থাকেন মেরী বেগম। তখন তাকে রফিকুল জানান- শাশুড়ি তাদের সাথে থাকবেন না বলে বাড়ি থেকে চলে গেছে। দুপুরে একই বাড়িতে একসাথে খাওয়া দাওয়া করেন রফিকুল। ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে তালা কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় রফিকুল ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। প্রথমে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এসে দৌলতপুর ও ফুলবাড়িগেটে কিছুক্ষণ অবস্থান করে রাতে বরিশালের উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করেন।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে র্যাব-৬ এর সদস্যরা আসামি রফিককে থানায় হস্তান্তর করে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে এ সময় তিনি নিজের দোষ অস্বীকার করতে থাকেন। পরে রাতে নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চান। পরে শনিবার (৬ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার সুজুকি কর্নার সংলগ্ন দারুল আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে নানী বেবি (৬৫), নাতি শামীম ব্যাপারী (১২) ও মোস্তাকিমের (৪) লাশ উদ্ধার করা হয়।








































