Home আঞ্চলিক যশোর জেনারেল হাসপাতালে দুপুর-রাতে খাবার দেওয়া হয় অনেক রোগীই জানেন না

যশোর জেনারেল হাসপাতালে দুপুর-রাতে খাবার দেওয়া হয় অনেক রোগীই জানেন না

1

যশোর অফিস।।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অনেকেই জানেন না দুপুরে কিংবা রাতে খাবার দেওয়া হয়। রোগীদের বেশ কয়েকজন এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, সকালের নাশতা পেলেও দুপুর আর রাতে যে খাবার দেওয়া হয়, সেটি তারা জানেন না। অবশ্য, বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি করেছেন খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের স্টুয়ার্ট মো. শাহজাহান।

সরেজমিন নারী ওয়ার্ডে গাইনি রোগী লাইলি আক্তারের মা পারুল বেগম বলেন, সকালে দুটি ডিম, দুটি কলা আর পাউরুটি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে দিয়েছে খাসির মাংস, ডাল আর ভাত। রাতে সবজি ও ভাত। খাবারের মান বেশ ভালো।

পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি যশোর সদরের সরুইডাঙ্গা এলাকার জসিমউদ্দিন শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, সকালে হাসপাতাল থেকে এক টুকরো পাউরুটি, দুটি ডিম আর দুটি কলা দেওয়া হয়। কিন্তু দুপুরে দেওয়া ভাত, তরকারি কিংবা মাছ আমরা নিই না। বাড়ি থেকেই খাবার আসে।

বুকে ব্যথা নিয়ে ঈদেরদিন বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন সদরের বিরামপুরের মুরশিদুল ইসলাম। তার স্বজনরা জানিয়েছেন, সকালের নাশতা নেওয়া হলেও অন্য দু-বেলার খাবারের বিষয়টি তারা জানেন না। খাদ্য সরবরাহ বিভাগ (হান্ডিখানা) সূত্র জানায়, সোমবার হাসপাতালে ভর্তি রোগী ২৫০ জনের জন্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে সকালে পাউরুটি ১০০ গ্রাম, দুটি ডিম এবং দুটি কলা। দুপুরে সাদা ভাত, ডাল আর মাছের ঝোল এবং রাতের জন্যে ভাত, সবজি আর একটি করে ডিম ভুনা। হান্ডিখানার দায়িত্বে থাকা স্টুয়ার্ট মো. শাহজাহান বলেন, সপ্তাহের ৫ দিন মাছ এবং দুদিন শুক্র ও সোমবার মুরগির মাংস দেওয়া হয়।

এছাড়া ডায়াবেটিস রোগী থাকলে সকালে তাদের জন্যে ৩ পিস করে হাতে বানানো রুটি এবং যারা ভাত-মাছ কিংবা মাংস খান না তাদের জন্যে রাতে গুঁড়া দুধ ১৪৬ গ্রাম এবং চিনি ১০০ গ্রাম বরাদ্দ থাকে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, খাবারের মান ঠিক থাকলেও রোগীদের অনেকেই দুপুর ও রাতের খাবার নেন না। সেই খাবার হান্ডিখানা সংশ্লিষ্টরা নিয়ে যান। যদিও এ কথা স্বীকার করেননি কেউই। স্টুয়ার্ট মো. শাহজাহান বলেন, হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও এখানে ৭০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকে। আমরা সরবরাহ করি ২৫০ থেকে ২৬০ জনের খাবার। রোগীপ্রতি খরচ ১৭৫ টাকা। এর মধ্যেই হিসাব করে মাংস কিংবা মাছ দিতে হয়। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রোগীদের অনেকেই দুপুর কিংবা রাতের খাবারের বিষয়টি জানেন না-এটি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি আমি দেখব। তবে হাসপাতালের টেন্ডারে তিনবেলা কী কী খাবার ও কত পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি লিখিত কিছুই দিতে চাননি। এমনকি দায়িত্বে থাকা অ্যাকাউন্টেন্ট ইসরাফিল আহমেদও মৌখিকভাবে খাবারের তালিকা জানান, মুদ্রিত তথ্য দেননি।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহসান কবির বাপ্পী বলেন, আড়াইশ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে রোগী ভর্তি থাকে ৭ শতাধিক। সে কারণে ৪ থেকে ৫শ রোগী খাবার পান না, এ অভিযোগ আসতেই পারে। আর বেডে থাকা রোগী যদি বলে দুপুরের খাবারের কথা জানেন না, তাহলে কী আর বলা! খাবার দেওয়ার সময় কর্মীরা ওয়ার্ডের গেটে দাঁড়িয়ে ডাক দেন। অনেকেই খাবার নেন না-এটা সঠিক, কিন্তু আমাদের প্রতিদিন আরও ১০-১৫ জনের অতিরিক্ত খাবার দিতে হয়, বলেন তিনি। আরএমও বলেন, হাসপাতালে ১২৫ টাকার মিল সরবরাহ সংক্রান্ত একটি মামলা সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে।

বর্তমানে ১৭৫ টাকার মিল দেওয়া হয় রোগীপ্রতি। মাস দুয়েক হলো এ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, খাবারের টেন্ডারে রোগীদের কিসের মাংস দেওয়া হবে, তার কোনো উল্লেখ নেই। সে কারণে বরাদ্দের ওপর ভিত্তি করেই মুরগির মাংস দেওয়া হয়।