স্পোর্টস ডেস্ক।।
ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় কোনো দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে গিয়েই জয় বাংলাদেশ। শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সেরাফাল্লে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে টমাস ডুলির দল।
মাঠের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ কোচের নজর কেড়েছে গ্যালারির চোখধাঁধানো চিত্র। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি দেখে ডুলি ভবিষ্যতে এই মহাদেশে আরও বেশি ম্যাচ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে কোচ হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ার বিরল তালিকায় নাম লিখিয়েছেন টমাস ডুলি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সমর্থকদের বিপুল আগ্রহ ও ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সমর্থকদের বিপুল আগ্রহই তাকে ইউরোপে নিয়মিত ম্যাচ খেলার কথা ভাবাচ্ছে। এই ভালোবাসাই আমাদের বারবার ফিরে আসতে উদ্বুদ্ধ করে। আমরা অন্য কোনো দলের খোঁজ করছি, যাতে আবারও ইউরোপে এসে ম্যাচ খেলতে পারি। কারণ এখানকার অভিজ্ঞতা বেশ চমৎকার ছিল। আমরা জিতব, আমরা অবশ্যই জিতব! আমরা তাদের জন্য লড়াই করি, আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু করি।’
সান মারিনোর মাঠে খেলা হলেও গ্যালারির সিংহভাগ জুড়েই ছিল বাংলাদেশি সমর্থকদের লাল-সবুজ উন্মাদনা। এ বিষয়ে ডুলি বলেন, ‘সমর্থকেরা প্যারিস থেকেও এখানে খেলা দেখতে এসেছেন। ইউরোপের মাটিতে এটাই আমাদের প্রথম ম্যাচ। ম্যাচের আগে আমরা খেলোয়াড়দের বলেছিলাম—দেখো ছেলেরা, ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪ হাজার মানুষ শুধু তোমাদের খেলা দেখতে এখানে এসেছে। চলো ওদের মুখে হাসি ফোটাই। ওদের জন্য খেলি এবং একটি ভালো ফলাফল নিয়ে আসি, যাতে ওরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারে।’
বাংলাদেশে পা রাখার পর থেকে দেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি যে উন্মাদনা দেখেছেন, তা ডুলির কাছে চিরকাল অভাবনীয় হয়ে থাকবে। দেশ ছাড়ার মুহূর্তের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২১১ নম্বর দলের (সান মারিনো) বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে যখন তারা বিমানবন্দর যাচ্ছিলেন, তখনো বাসের সামনে প্রায় ২০০ মানুষ ক্যামেরা হাতে ফুটবলারদের ভিডিও ও ছবি তুলছিল। সত্যিই অসাধারণ!’
বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি এমন আবেগের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন কোচ। তার মতে, ‘বাংলাদেশে আমাদের কোটি কোটি সমর্থক রয়েছে। আর তারা সবাই ফুটবল সম্পর্কে বোঝে—তারা প্রত্যেকেই একেকজন কোচ! তাদের এই যে ফুটবল নিয়ে আবেগ ও উন্মাদনা, এর জন্য তাদের শুধু একটু সাফল্য প্রয়োজন। ম্যাচ জেতার পর তারা কতটা আনন্দিত ছিল, তা খেলা শেষেই দেখতে পেয়েছেন। এই জয় মূলত সমর্থকদের জন্য, আর এটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে।’
বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণাও আছে এই কোচের। তবু সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান তিনি, ‘সমর্থকদের এই আবেগ খেলোয়াড়দের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়। আমরা হয়তো জার্মানি বা ইতালি নই—অবশ্য ইতালি তো কোয়ালিফাই-ই করতে পারেনি, আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর কাতারে নেই। তবে আমাদের সাধ্যের মধ্যে যা কিছু আছে, তা দিয়ে আমরা এই মানুষগুলোকে খুশি করার চেষ্টা করি। আমার মনে হয়, এটি একটি দারুণ সূচনা।’








































