খাইরুল ইসলাম নিরব, ঝিনাইদহ।।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর দুই ইউনিয়নের মানুষের জন্য একমাত্র সহজ যোগাযোগের মাধ্যম ছিল খালের ওপর নির্মিত ৪৫ বছরের পুরনো একটি সেতু| এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে যাওয়ার পর যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ১১ মাস ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ| জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের ˆতরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ| এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে|
জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের একমাত্র ব্যবহারযোগ্য ও সংযোগস্থাপনকারী সড়ক ‘বিষয়খালী জিসি-নগরবাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী’ সড়ক| আনুমানিক ৪৫ বছর আগে সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের’ খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়| স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ সেতুটি নির্মাণ করে|
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় পানির তোড়ে সেতুর মাঝখানের বড় অংশ ধসে পড়ে| এরপর থেকে দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে| স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও সেতুটি প্রায় ১১ মাসেও নির্মাণ করা হয়নি| বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন| এতে স্থানীয় চলাচলকারী, পণ্য পরিবহনকারী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি বেড়েছে| প্রতিদিন শতশত মানুষ মোটরসাইকেল কাঁধে নিয়ে কিংবা হেঁটে সাঁকো পার হচ্ছেন| বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়| বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে| অসুস্থ রোগীদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পরিবারগুলোকে|
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা সেতুর দু’পাশে মানুষের দীর্ঘ ভোগান্তির চিত্র| নড়বড়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে| সামান্য অসাবধানতায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের|
স্থানীয় আবদুল খালেক বলেন, সেতু ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে| এতে বাড়ছে পরিবহন খরচ ও সময়| অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা|
স্থানীয় বাসিন্দা লিখন হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন| এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|
সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে| এতে বাড়ছে সময়, ভোগান্তি ও পরিবহন ব্যয়| এছাড়া রোগী নিয়ে ঝিনাইদহ হাসপাতালে যেতে খুব সমস্যা হয়| রাতে জরুরি রোগী হলে বড় বিপদে পড়তে হয়| একটি সেতুর জন্য মানুষের এত কষ্ট হলেও দেখার যেন কেউ নেই|
এলাকাবাসী আরও জানান, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করলেও এখনো নতুন সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি| দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা|
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ভেঙে যাওয়া সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য একাধিক প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে| অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে|
এলাকাবাসীর দাবি, সামনে বর্ষা মৌসুমের কারণে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে জনসাধারণের মধ্যে| তাদের আশঙ্কা,ভারি বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি পেলে অস্থায়ী সাঁকোটিও ভেঙে যেতে পারে| তখন পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে|











































