স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক, আইসিইউতে থাকা এক রোগীর মৃত্যু এবং হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ—সব মিলিয়ে বুধবার ছিল খুলনার স্বাস্থ্যখাতের জন্য এক অস্থির দিন।
বুধবার ভোর ৬টার দিকে খুমেক হাসপাতালের জরুরি অপারেশন থিয়েটার (ইমারজেন্সি ওটি) এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের পোস্ট-অপারেটিভ রুম ও স্টোর রুমে। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইমারজেন্সি ওটির দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক ডা. দিলীপ কুমার জানান, শর্টসার্কিট থেকে এসির আউটডোর ইউনিটে আগুন লাগে। পরে তা অক্সিজেন আউটডোরে ছড়িয়ে পড়ে। অক্সিজেন লাইনের মুখে আগুন লাগার কারণে বিস্ফোরণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আগুনের সময় ওটির ভেতরে থাকা দুই নার্স ও এক চিকিৎসক জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। তারা আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই সময় ওটি বিভাগে ১৫ জন রোগী ছিলেন। দ্রুত তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে আগুনের আতঙ্কে আইসিইউতে থাকা নাসরিন নাহার নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, জন্মগত ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় কয়েকদিন ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং ভেন্টিলেশনে ছিলেন।
আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. দিলীপ কুমার কুন্ডু বলেন, “আমরা রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছি। তবে রোগীর স্বজনরা তাকে দ্রুত নামিয়ে নেওয়ার সময় অক্সিজেন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পথেই তার মৃত্যু হয়।”

অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক স্বজন রোগীদের দ্রুত অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেন। আগুনের কারণে হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সাময়িকভাবে সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, “আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। তবে অক্সিজেন সাপ্লাই ব্যাহত হওয়ায় আপাতত অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।”
এদিকে একইদিন সকালে আকস্মিকভাবে খুলনা জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগীদের জন্য রান্না করা খাবারের মান পরীক্ষা করেন তিনি।

রান্না করা কুমড়ার তরকারি মুখে দিয়েই তা ফেলে দেন মন্ত্রী। পরে হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি খেতেন?” এ সময় তিনি রান্নার মান উন্নয়নের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “কিছু অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্বাস্থ্যখাতে আগামী বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর কথাও জানান।

পরে তিনি খুমেক হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দ্রুত অপারেশন থিয়েটার সচল করার তাগিদ দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। আমরা বাজেট বৃদ্ধি করছি। আগামী অর্থবছরে হাসপাতালগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।”

তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে খুলনাসহ দেশের পাঁচ বিভাগীয় শহরে অত্যাধুনিক শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।










































