Home আঞ্চলিক ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে কুষ্টিয়ায় ইউপি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে কুষ্টিয়ায় ইউপি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

7


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।


খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় বরাদ্দ ভিজিএফ কার্ড থেকে দাবি করা কার্ড না পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

হামলাকারীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে পরিষদের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং ইউপি সচিবকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরদিন বুধবার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে বিষয়টি জানাজানি হয়।


মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম।

তিনি বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করতে তাৎক্ষণিক মিরপুরের ইউএনওকে বলা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে হামলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল।

ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের অভিযোগ, “আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ৬০০ ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১০০টি কার্ড ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের দেওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

“ঘটনার দিন দুপুরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডলের নেতৃত্বে পরিষদে হামলা চালানো হয়। ঘটনার সময় বার বার অনুরোধ করেও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আনিস মণ্ডলসহ কয়েকজন রামদা হাতে ইউপি সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকীর দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। অন্য একটি ভিডিওতে বৈঠক চলাকালে কয়েকজনকে চেয়ারম্যানের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়।

ইউপি সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকী বলেন, “মোট ৬১৬টি ভিজিএফ কার্ড এসেছে। বিএনপি নেতারা সাড়ে ৪০০ কার্ড দাবি করেছিলেন। তাদের দেড়শ কার্ড নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা জামায়াতকে কোনো কার্ড দিতে রাজি ছিলেন না। এক পর্যায়ে কার্ড ছিনিয়ে নেয়ার জন্য আমার গলায় অস্ত্র ঠেকানো হয়।”

“বিএনপি নেতা আনিস মণ্ডলসহ ১০ থেকে ১৫ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে একটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং আমাকে মারধর করেন”, বলেন তিনি।

কার্ড নেওয়ার বিষয়ে মোবাইল ফোনে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আনিসুজ্জামান বলেন, “ঘটনা সত্য। ভিজিএফ কার্ডের ভাগাভাগি নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে।”

কার্ড নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

“গ্রামের এক যুবকের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে আমরা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে গিয়েছিলাম।”

ঘটনার সময় রাম দা হাতে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অন্য একজনের হাতে থাকা রাম দা কেড়ে নিয়েছিলাম।”

ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ঘটনা শোনার কথা জানিয়ে মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”