ঢাকা অফিস।।
দীর্ঘ বিরতির পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী অক্টোবর মাসে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জট লেগে থাকা নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা করছে ইসি। পরে বিরতিহীনভাবে পর্যাক্রমে ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইতিমধ্যে কমিশনের ভেতরে আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে অতীতের চেয়ে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করতে শেখ হাসিনা আমলে তৈরি কিছু আইনি কাঠামো, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংস্কার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইসি সূত্র বলছে, আগামী মাসে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ করে নতুন আইনি কাঠামো ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এসব প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া বাজেট, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, মৌসুমি বাস্তবতা ও আইনি বিষয় বিবেচনায় একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে দ্রুতই সময়সূচি ও ধাপ ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া আসন্ন নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা নির্বাচন করতে পারবেন কি না তা নিয়েও ভাবছে ইসি। তবে আপাতত এসব প্রশাসকদের স্বপদে বহাল রেখেই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে কমিশনের আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নির্দলীয় কাঠামোয় আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি না থাকলে দলীয় প্রতীক ছাড়াই নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছে ইসি। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোও সম্ভাব্য নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্বাচন ব্যয়, প্রচারণা পদ্ধতি, প্রার্থিতা সংক্রান্ত বিধান ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।Politics
ইসি’র কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু ভোটগ্রহণের বিষয় নয়; ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সমন্বয়, বাজেট ও মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই সময়সূচি নির্ধারণের পরিকল্পনা চলছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে মেয়াদ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচন আয়োজনের প্রশ্নে চাপ বাড়ছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের ওপরও দ্রুত সিদ্ধান্তের চাপ তৈরি হয়েছে। এদিকে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ইসি সূত্র বলছে, প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের স্বপদে বহাল রেখেই নির্বাচন আয়োজন করতে চেষ্টা চলছে। এতে প্রশাসকদের প্রভাব বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে কঠোর আচরণবিধিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে ও পৌরসভায় ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গতকাল বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার চিন্তা করছি। সেই লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছি। এখানে অনেকগুলো নির্বাচন রয়েছে, তবে আমরা যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ও মানুষের উপকার আসে সেটাই আগে করার পরিকল্পনা করছি। সেক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের আর এটার ক্ষেত্রও অনেক বড়। তাই আমরা আগে ইউপি নির্বাচনের কথা ভাবছি। তারপর পর্যাক্রমে বিরতিহীনভাবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা নির্বাচন পর্ব শেষ করবো। ইতিমধ্যে আমাদের বিধিমালা ও আইন সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুনে আমাদের সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। এরপর থেকেই আমরা পুরোদমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে আগাবো। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের কোনো অভিপ্রায় আছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকার থেকে আমাদের কাছে কোনো চাওয়া-পাওয়া আসেনি। তবে আমরা সকল প্রক্রিয়া শেষে সরকারের একটি মতামত চাইতে পারি। তাছাড়া সরকার থেকে কোনো চাপ নেই।
নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা নির্বাচন করতে পারবে কি না এই প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের আইনে বলা আছে, অফিস অব প্রফিটে যদি কেউ থাকেন তাহলে সে নির্বাচন করতে পারবেন না। এখন দেখতে হবে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সরকারের বেতন ভোগ এবং কী কী সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। যদি তারা সরকারি সুবিধা নেন, তাহলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এটা বিস্তারিতভাবে আইনি পর্যালোচনা করতে হবে। তবে আইনের স্পিডে পারবেন বলে আমার ধারণা। তবুও এটা আমাদের যাচাই করতে হবে। যদি আইনে কাভার করে তবে প্রশাসক স্বপদে থেকেই নির্বাচন করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আমরা একটি আচরণবিধি ঘোষণা করে বলে দিবো যে তিনি নির্বাচনে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না। বিষয়টি হলো চেয়ার খালি রাখা যাবে না।











































