Home Lead খুলনায় ঠিকাদার সমিতিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, একজন গুলিবিদ্ধ

খুলনায় ঠিকাদার সমিতিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, একজন গুলিবিদ্ধ

33


স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক পথ) ঠিকাদার সমিতির দখল নিতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাবেক সহ সভাপতি শেখ হারুনুর রাশিদ (৬২) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন| মঙ্গলবার দুপুর ১ টার দিকে নগরীর খানজাহান আলী রোডস্থ আল হেরা জামে মসজিদের তৃতীয় তলায় অফিস ভবনে ঘটনাটি ঘটে| আহত ঠিকাদার খালিশপুর থানার নয়াবাটি এলাকার বাসিন্দা শেখ আব্দুর রউফের ছেলে| তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন|


খানজাহান আলী সড়কের আল হেরা জামে মসজিদের আশপাশের কয়েকজন ব্যক্তি জানান, দুপুরের কিছুক্ষণ আগে খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক পথ) কার্যালয়ে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আগের কমিটি ও বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটে| গুলিটি ওই সমিতির সাবেক সহসভাপতি হারুনুর রশিদের ডান পায়ের ঊরুতে বিদ্ধ হয়| নিজের অস্ত্রেই তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবী করেন ঘটনাস্থল উপস্থিত ঠিকাদার তবিবুর রহমান| পরে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়|


জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত সমিতির বর্তমান আহ্বায়ক এস এম আজিজুর রহমান ¯^পন জানান, আমার এলাকার এক বন্ধু মারা গেছে| আমি সেখানে ছিলাম| হঠাৎ অফিস স্টাফ শাহাদাত হোসেন ফোন করে জানায়, সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কেএম রেজাউল আলম ও হারুনুর রাশিদসহ কয়েকজন অফিস দখল করতে আসছে| তারা সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়| আমি অফিসে এসে দেখি তারা আহবায়ক ও সদস্য সচিবের চেয়ার দখল করে বসে আছে| তখন তাদের কাছে আমি বলি ‘আপনাদের কোনো দাবি দাওয়া থাকলে আমার কাছে লিখিত দেন’| এসময়ে সাধারণ সদস্যরা বলেন যে, ‘এটা কি গরুর হাট যে আপনার দখল করছেন’|


তিনি আরও বলেন, তাদের উদ্দেশ্যে ছিল অফিস দখল করা| তারা অফিস না ছেড়ে একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে| আমি মনে করি আমার ওপর আক্রমনের পরিকল্পনা ছিল| আমরা জীবন নাশের শঙ্কা নিয়ে ওখানে ছিলাম| তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে| কাকে গুলি করেছে জানি না| তবে সাবেক কমিটির সহ সভাপতি হারুনুর রশিদের গায়ে গুলি লেগেছে| তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে| তারা অফিস দখল করতে এসেছিল| তবে তাদের পেছনে আরও লোক আছে| এদিকে খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির ৫ আগস্টের আগের সাধারণ সম্পাদক আওয়ামীলীগ সমর্থিত খান মো. রেজাউল আলম বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়া হারুনুর রাশিদ সাবেক সহসভাপতি| জামায়াতের অনুসারী এস এম আজিজুর রহমান ¯^পন নিজেকে আহবায়ক দাবি করে মব সৃষ্টি করে অফিস দখল করে নেয়| পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আমরা হাইকোর্টে মামলা করি| মামলাটি আমাদের পক্ষে|


সেই মামলার আদেশে আমরা আজ অফিসে গিয়ে আসন গ্রহণ করি| তখন তারা এসে আমাদের আসন ছেড়ে দিতে বলে| তারা কোর্ট বা কোনো কিছু মানে না| তারা শর্টগান দিয়ে গুলি করে| তিনি এ ঘটনার জন্য ¯^পনের লোকদের দায়ী করেন| উল্লেখ ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগে খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আলম খাজা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত রেজাউল আলম|

৫ আগস্টের পরে তার অনেক দিন পলাতক ছিলেন| তখন সাধারণ সভায় জামায়াত অনুসারী আজিজুর রহমান ¯^পন আহবায়ক ও বিএনপি সমর্থিত অহিদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয় |মঙ্গলবার বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আলমের নেতৃত্ব অফিস দখল করতে আসলে এ ঘটনা ঘটে| খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিজেদের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে| একপর্যায়ে প হারুনুর রশিদ গুলিবিদ্ধ হয়| কারা গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি| বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে| উভয়পক্ষের লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে|