মিলি রহমান।।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের সমস্যা সাধারণত বয়স্কদের ক্ষেত্রেই বেশি দেখা যায়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, ইদানীং ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও এই রোগ দ্রুত বাড়ছে।
স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ থেকে ৫ শতাংশ শিশুর মধ্যে এই রোগ পাওয়া যাচ্ছে, আর যেসব শিশুর অতিরিক্ত ওজনের (ওবেসিটি) সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরো বেশি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘পেডিয়াট্রিক হাইপারটেনশন’।
শিশুদের উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণগুলো কী? একেবারে ছোট শিশু এবং কিশোরদের ক্ষেত্রে এই রোগের কারণগুলো একটু ভিন্ন। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে এর পেছনে কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে।
শারীরিক অসুস্থতা : ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময় কিডনি, হার্ট বা হরমোনের সমস্যা থাকলে কিংবা কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে রক্তচাপ বাড়তে পারে।
বংশগত কারণ: পরিবারে বা বাবা-মায়ের উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলে শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
লাইফস্টাইল ও খাদ্যাভ্যাস: একটু বড় শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে জাঙ্ক ফুড ও অতিরিক্ত নোনতা খাবার খাওয়া, মোবাইল-টিভির স্ক্রিনে আসক্তি, বাইরে খেলাধুলো না করা, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ এই রোগের অন্যতম বড় কারণ।
কী কী লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন অভিভাবকেরা?
প্রাথমিক অবস্থায় শিশুদের মধ্যে এই রোগের কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। তবে রোগটি কিছুটা বাড়লে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:
১) ঘন ঘন মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা।
২) চোখে ঝাপসা দেখা।
৩) হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা।
৪) কোনো কারণ ছাড়াই নাক দিয়ে রক্ত পড়া। ৫) অল্পতেই অতিরিক্ত ক্লান্ত বোধ করা।
রোগের ঝুঁকি কমানোর উপায়
শিশুদের এই নীরব ঘাতক থেকে দূরে রাখতে চিকিৎসকেরা জীবনযাত্রায় কয়েকটি জরুরি পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন:
বাইরের খাবার বন্ধ করা: ফাস্টফুড বা বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে বাড়িতে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে।
স্ক্রিন টাইম কমানো: মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি দেখার সময় কমাতে হবে। এর ফলে শিশুদের ঘরের বাইরে গিয়ে খেলাধুলা করার আগ্রহ তৈরি হবে।
শারীরিক পরিশ্রম: শিশুদের প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা বাইরে দৌড়ঝাঁপ বা খেলাধুলো করার সুযোগ দিতে হবে।
খাদ্যাভাসে বদল: প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত ফলমূল, শাকসবজি ও দানাশস্য রাখতে হবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চর্বিহীন প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস বা মাছ) খাওয়া যাবে, তবে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও তেলযুক্ত খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: কোনোভাবেই যেন শিশুর ওজন অতিরিক্ত বেড়ে না যায়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।











































