Home Lead বিশ্লেষকদের মত// পশ্চিমবঙ্গে কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশে

বিশ্লেষকদের মত// পশ্চিমবঙ্গে কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশে

2

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।


ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পরের দিনই সীমান্তে গুলিতে প্রাণ গেছে ২ জনের। আর লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে অনুপ্রবেশ ঠেকিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তের ওপারে কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশে।


সাতচল্লিশের দেশভাগের পর প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার মসনদে এলো গেরুয়া শিবির। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই কলকাতার নিউমার্কেটে বুল ডোজার দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেয়ার ছবি নজর কেড়েছে গোটাবিশ্বের। এছড়াও বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনায় বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা। বিশেষ করে আসামসহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর অতীত অভিজ্ঞতায় সেই শঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

শপথ নেয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী নিরব থাকলেও নির্বাচনী প্রচারে তার বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বাংলাদেশি মুসলমানরা অনুপ্রবেশকারী। তাদের ঝেটিয়ে বিদায় করা হবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তের ওপারে কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশে। ওপারে মুসলিম নির্যাতন বাড়লে এর প্রভাব পড়তে পারে এপারেও।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেন, যেহেতু ৩ লাখ ভোটার এখনও তালিকায় জায়গা পাননি, তাই সেই নম্বরটাকে ব্যবহার করে পুশিং করার চেষ্টা হয় কি-না, সেটার শঙ্কা আছে। এছাড়া, ক্যাম্পেইনের সময় যারা বিভিন্ন ধরনের কথা বলেছেন এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের বিজয়টাকে যারা যেভাবে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে, তাতে এই একটা শঙ্কার জায়গা থাকে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘এটা কোনো ধরনের শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। এটা দুই দেশের পারস্পরিক সার্বভৌম ও সমতার সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণও না।’

তবে রাজনৈতিক নীরবতার মধ্যেও সীমান্তে থামেনি অস্থিরতা। এরইমধ্যে শুক্রবার (৮ মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশির প্রাণ গেছে। এর আগে, বুধবার (৬ মে) লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে অনুপ্রবেশের সময় এক ভারতীয় নাগরিককে পথরোধ করে ফিরিয়ে দিয়েছে বিজিবি।

সীমান্ত অস্থিতিশীল হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতকেও এর নেতিবাচক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. আব্দুর রব খান বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেজন্য সীমান্ত সুরক্ষিত করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত স্থিতিশীল থাকুক; দুই প্রান্তের মানুষের মধ্যে সম্পর্কটা আরও দৃঢ় হোক, সেটাই চাওয়া।’

এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। সংস্থাটির দাবি, যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা সীমান্ত ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা মোকাবিলায় প্রস্তুত তারা।