মিলি রহমান।।
বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে পার্থক্য দিন দিন কমে আসছে। অফিস শেষে বাসায় ফিরলেও কাজের চাপ যেন পিছু ছাড়ে না।
ফোন, ইমেইল কিংবা অনলাইন যোগাযোগের কারণে কর্মজীবীরা প্রায় সারাক্ষণই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকছেন। একসময় ৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম এবং ৮ ঘণ্টা নিজের জন্য-এই ধারণা ছিল স্বাভাবিক জীবনযাপনের মানদণ্ড।
তবে বাস্তবতা এখন ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রেই কাজের সময় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, ফলে ব্যক্তিগত সময় ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভারসাম্যহীনতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর। দীর্ঘ সময় কাজের কারণে ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা এবং মানসিক চাপ বাড়ছে, যা একসময় বার্নআউটের দিকে ঠেলে দেয়।
এর প্রভাব পড়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যাওয়ায় সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এতে অনেকেই এক ধরনের একাকীত্বে ভুগছেন। তবে কিছু সচেতনতা এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করতে পারে। কাজের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা এবং সেই সময়ের বাইরে নিজেকে কাজ থেকে দূরে রাখা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
একইসঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারেও সংযম আনা প্রয়োজন। সবসময় অনলাইনে না থেকে দিনের নির্দিষ্ট সময় প্রযুক্তি থেকে বিরতি নেওয়া মানসিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।
এছাড়া প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা, বই পড়া বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো-এগুলো জীবনকে ভারসাম্যে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।









































