ঢাকা অফিস।।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নতুন মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে।
এদিন আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ’সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ১০ মামলায় জামিন পেয়েছেন। আবার নতুন দুই মামলায় তাকে শ্যোন দেখানো হয়েছে। শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।’
সর্বশেষ ১৩ এপ্রিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় করা নতুন আরও একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে তাকে মোট ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ’২০২৪ সালে ২০ জুলাই সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন পোশাকশ্রমিক মিনারুল ইসলাম। শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরদিন গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর নিহত মিনারুলের ভাই নাজমুল হক বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ নম্বর আসামি সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা করা হয়।’
সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দী আছেন। গত বছরের ৯ মে ভোরে নিজ বাড়ি থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে হাইকোর্ট তাকে পাঁচ মামলায় জামিন দেন, যা পরবর্তীতে আপিল বিভাগে স্থগিত হয়ে যায়। পরে ১৮ নভেম্বর তাকে আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এই পাঁচ মামলায় জামিন দেন, পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তা স্থগিত করেন।











































