স্টাফ রিপোর্টার
বাহিরের বাহারি সৌন্দর্য্য দেখলে মনে করার কোন কারনই নেই যে, চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা হয় এখানে। রোগিদের চিকিৎসার নামে অর্থবানিজ্যের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকেই। বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনিয়ম দিন দিন বেড়েই চলছে। বলছিলাম খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কথা। গেল ৩/৪ মাসে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া প্রায় অর্ধশত সিজারিয়ান রোগীর জীবন বর্তমানে সংকটাপন্ন বলে অভিযোগ এসেছে। এছাড়া রোগিদের এবং রোগিদের পরিবার পরিজনের সাথে খারাপ ব্যবহার করা এখানে নিত্যদিনের ঘটনা। হুমকি ধামকির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ।

খুলনার বাসিন্দা আফিয়া হুমায়রা গত ১৩ মে প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে ভর্তি হন খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতাস্থ সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার পেটের শিশু ও তার জীবনের ভয় দেখিয়ে ওই সময় হুমায়রাকে সিজার করান। হাসপাতালে হুমায়রাকে ৭ দিন রেখে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা বিল দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার পরিবার। ঘটনা হয়তো এখানেই শেষ হতে পারতো কিন্তু না, বাড়িতে আসার পর শুরু হয় হুমায়রার ক্ষতস্থানে জ্বালাপেড়া। ইনফেকশনের কারনে তার সারা শরীর অবস হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরে সৃষ্টি হয় মাসেল টিউমার (টিভি) এর। এরপর নগরীর সন্ধানী কিনিকে দীর্ঘ তিন মাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা নেওয়ায় এখন কিছুটা সুস্থ বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন হুমায়রা। ভুক্তভোগী চিকিৎসার নামে অধরনের অপচিকিৎসার বিচার ও ক্ষতিপুরনের দাবীতে স্বাস্থ্যে অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া ২/১ দিনের মধ্যে থানায় অভিযোগ দিবেন বলেও জানিয়েছেন।

তিনি খুলনাঞ্চলকে বলেন শুধু আমি নই, আমার মতো এরকম আরো অনেক রোগীর জীবন বর্তমানে সংকটাপন্ন। তারা অনেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছে। শুধু তাই নয় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা রীতিমতো ভয়াবহ। একজন সিজারিয়ান রোগীর বেডশীট ৫/৭ দিনেও পরিবর্তন হয়না। এমনকি ডাক্তার বা নার্স রোগীর রুমে বা ওয়ার্ড ভিজিটে আসলে তাদের মুখে মাস্ক বা স্যানিটাইজার ব্যাবহারে দেখা গেছে উদাসিনতা। তিনি বিচার এভং ক্ষতিপুরনের দাবী করেছেন।
শুধু হুময়রা নয় আমরা এ বিষয়ে আরও কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি চিকিৎসা সেবার নামে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগী হয়রানির গল্প। সেলিনা আরও একজন ভুক্তভোগী। কথা হয় তার সাথে, তিনি জানান, তারও অপারেশন হয়েছিলো ওই হাসপাতালে। গত ৭মে অপারেশনের পর হুমায়রার মতো একই অবস্থা হয় তার। বর্তমানে তিনি ঢাকা উত্তরার একটি কিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দীর্ঘ দিন ধরে কিনিকে চিকিৎসা নেওয়ায় শারীরিক মানসিক ও অর্থনৈতিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি ও তার পরিবার। এতো গেলো হুমায়রা ও সেলিনার কথা। গল্পের এখানেই শেষ নয়। হেমা, তন্নি, জেবিন আরো কয়েকজন রোগি আক্ষেপ করে জানান, এমন হবে আগে জানলে ওই কসাইখানায় যেতাম না। নরমাল কোন হাসপাতালে গিয়ে সিজার করাতাম। সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার ফারজান ইয়াসনিন লুনা বলেন, সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত যতগুলো রোগীকে সিজার করা হয়েছে তার মেক্সিমাম রোগীর ইনফেকশন হয়েছে। এরমধ্যে তার ৪জন রোগি আছে। তবে বর্তমানে অনেকেই ভালোর দিকে। তবে এর জন্য তিনি দায়ী নয় বলে দাবী করেন। তিনি বলেন এর জন্য দায়ী হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের অব্যবস্থাপনা। কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা সত্বেও তারা বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়নি। যে কারনে পরবর্তীতে ওই হাসপাতালে সিজার করা ছেড়ে দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ওই হাসপাতালের প্রায় ৫০/৬০ জনের ইনফেকশন হয়েছে। ওই ওটিতে ইনফেকশনের সোর্স ছিলো। তিনি বলেন ডা. ফৌজিয়া ও ডা. তহমিনার প্রায় ৩২ জন, ডা. পাপড়ি ও রাজিয়ার রোগী আছে। এছাড়া ডা. মিল্টন মল্লিক, ডা. পলাশের কয়েকজন রোগিও সমস্যা হয়েছে। এখানে চিকিৎসকের কোন গাফিলতি নেই, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারনেই এমনটা হয়েছে বলে জানান কর্মরত এ ডাক্তার। তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারনেই তাদের রোগীরা সাফার হচ্ছেন। ডা. লুনা বলেন এসব রোগিদের প্রায় ৬মাস ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। এতগুলো রোগীর জীবন সংকটপন্নের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজন পরিচালককে মোবাইল করলেও তারা মোবাইল ধরেননি। তাদের না পেয়ে কথা হয় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হামিদুল ইসলামের সাথে তিনি দায় স্বীকার করে জানান কিছু রোগীর ইনফেকশন হয়েছে এটা সত্য।

আমাদের হাসপাতালের ওটিতে সমস্যা ছিলো তবে বর্তমানে ওটি সংস্কার হচ্ছে, দ্রুত সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে। রোগিদের ভোগান্তি আর আর্থিক ক্ষতির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। এটা সামান্য ব্যাপার। আর ইনফেকশন হলে কোন রোগি মারা যায় না। হাসপাতালে আসলে এটা হতেই পারে। কথা হয় খুলনা’র সিভিল সার্জন ডাঃ সুজাত আহমেদ-এর সাথে। তিনি দৈনিক খুলনাঞ্চলকে জানান, অভিযোগটি আমি পেয়েছি. বর্তমানে ঢাকা অছি, কাল (রবিবার) খুলনায় গিয়েই দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক অভিযুক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।











































