Home আঞ্চলিক সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে

সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে

36
ফাইল ফটো

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি।।

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা-এর বিস্তীর্ণ প্রশাসনিক কাঠামোকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন থানা স্থাপনের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বিশাল এই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে মোড়েলগঞ্জ থানা, ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিপুল জনসংখ্যা ও বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিধির কারণে একটি থানার পক্ষে কার্যকরভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত চাপ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশেষ করে মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি, পারিবারিক সহিংসতা ও খুনখারাবির মতো অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। কোনো বড় ধরনের ঘটনা ঘটলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অনেক সময় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে। দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভাঙাচোরা সড়ক এবং দুর্গম গ্রামীণ পরিবেশ এই বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ।

এদিকে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেও সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। খরস্রোতা পানগুছি নদী-এর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, আর উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন—দৈবজ্ঞহাটী, বলইবুনিয়া, হোগলাপাশা, বনগ্রাম, রামচন্দ্রপুর, চিংড়াখালী, পুটিখালী, পঞ্চকরণ ও তেলিগাতী।

উল্লেখিত ৯টি ইউনিয়নে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস এবং এর আয়তন প্রায় ২৮৯ বর্গ কিলোমিটার। মোড়েলগঞ্জ সদর থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী ইউনিয়ন হোগলাপাশা ও বনগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার প্রশস্ত পানগুছি নদী অতিক্রম করতে হয়, যা যোগাযোগকে আরও দুরূহ করে তুলেছে।

প্রশাসনিক সকল দপ্তর নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোতে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক সেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে এসব এলাকার জনগণের জন্য মোড়েলগঞ্জ সদরে গিয়ে সেবা নেওয়া প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বাস্তবতায় প্রস্তাবিত ‘সেলিমাবাদ থানা’ এখন শুধু একটি দাবি নয়, বরং এলাকাবাসীর ন্যায্য অধিকার ও সময়ের অনিবার্য প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রস্তাবিত এই থানার আওতায় উল্লিখিত ৯টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে আইনগত সহায়তা পেতে দূরবর্তী থানায় যেতে গিয়ে তাদের একদিনের বেশি সময় নষ্ট হয়। এতে অনেকেই আইনের আশ্রয় নিতে নিরুৎসাহিত হন, যা অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এদিকে সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের দাবিতে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী আন্দোলন। এ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন শেখ নজরুল ইসলাম কাজল। তার নেতৃত্বে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ে সোচ্চার রয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, নতুন থানা স্থাপন করা হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও সহজে পুলিশি সেবা পাবে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন—অতি দ্রুত প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারের সদিচ্ছা ও দ্রুত উদ্যোগের মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হলে মোড়েলগঞ্জের বৃহৎ জনগোষ্ঠী স্বস্তি ফিরে পাবে এবং একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে উঠবে পুরো অঞ্চল।