কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।
কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া শাহি মসজিদের সাপ্তাহিক দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত মোগল আমলে নির্মিত মসজিদটিতে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সোমবার ওই টাকা ফেরত দিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
এদিকে পদাধিকার বলে মসজিদ কমিটির সভাপতি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোকনু উজ জামানকে না জানিয়েই জামায়াতের স্থানীয় নেতারা নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন। তারা দাবি করেছেন, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার নির্দেশনায় কমিটি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, ঝাউদিয়া শাহি মসজিদটি প্রাচীন হওয়ায় প্রতি সপ্তাহে মানতের জন্য দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ আসেন। তারা নগদ টাকার পাশাপাশি, গরু-ছাগল মুরগিসহ নানা সামগ্রী দান করেন। এসব প্রাণী সরাসরি নিলামে বিক্রি করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন এই মসজিদের কমিটিতে পদাধিকার বলে সভাপতি হন সদরের ইউএনও। ঝাউদিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে সাপ্তাহিক দানের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। সেই টাকা নিয়ে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক আমির হায়াত আলী ও দলটির কর্মী রুহুল আমিন রোকন মসজিদে এসে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা করম আলীর কাছে দানের সব টাকা দাবি করেন। তারাই এখন থেকে মসজিদ কমিটির মাধ্যমে সবকিছু পরিচালনা করবেন বলেও জানান। ওই নেতারা জোর করে দানের প্রায় ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। বিষয়টি ভূমি কর্মকর্তা করম আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান।
মসজিদ কমিটির সূত্র জানিয়েছে, ইউএনওর নেতৃত্বে একটি কমিটি আছে। সেই কমিটি সব কিছু পরিচালনা করছে। কিন্তু ইউএনওকে না জানিয়ে ইউনিয়ন জামায়াতের ১৫ নেতাকর্মীকে নিয়ে সম্প্রতি একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক আমির হায়াত আলীকে। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয় রুহুল আমিন রোকনকে। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা তাঁর প্যাডে গত ১৯ মার্চ নতুন কমিটির নামে একটি ডিও লেটার দেন। তাঁর নির্দেশেই এই কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা নিশ্চিত করেছেন।
ঝাউদিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা করম আলী বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি মসজিদে গেলে ইউনিয়ন জামায়াতের নেতারা আসেন। এমপি আমির হামজা একটি কমিটি করে তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানান তারা। পরে নেতারা দানের সব টাকা-পয়সা আমার কাছ থেকে নিয়ে যান। তারাই এখন থেকে সব নিয়ন্ত্রণ করবেন বলেও জানান।’
এ বিষয়ে এমপি মুফতি আমির হামজার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিয়েও সংযোগ মেলেনি।
জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক আমির হায়াত আলী রোববার বলেন, ‘আমাদের এমপি আমির হামজা মসজিদের জন্য একটি নতুন কমিটি করে দিয়েছেন। এই কমিটির অধিকার বলেই আমরা টাকা-পয়সা নিজেদের কাছে রেখেছি। এখন যদি বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা হয় আমরা প্রয়োজনে অর্থ ফেরত দেব।’ এভাবে এমপি কমিটি করতে পারেন কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই।’
ইউএনও রোকনু উজ জামান রোববার বলেছিলেন, ‘নতুন কমিটির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সরকারি অর্থ কারও পকেটে রাখার সুযোগ নেই। ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে অর্থ কোষাগারে জমা করা হয়।’ সোমবার বিকেলে তিনি বলেন, আজ সকালে তারা টাকা ফেরত দিয়েছেন। এই টাকা ব্যাংকেও জমা করা হয়েছে।









































