স্পোর্টস ডেস্ক।।
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ওয়ানডে সিরিজের আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে এসেছে বেশ পরিবর্তন। যা নিয়ে ইতিবাচক ও আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসন। অতীতে এই ভেন্যুর উইকেট নিয়ে কড়া সমালোচনা করলেও এবার তিনি সেখানে পর্যাপ্ত ঘাস এবং স্পোর্টিং কন্ডিশনের উপস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। হেসনের মতে, গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মান অনুযায়ী মিরপুরের উইকেট খুব একটা স্বস্তিদায়ক না হলেও সাম্প্রতিক বিপিএল চলাকালীন পিচের ধরনে বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তিনি মনে করেন, উইকেটে ঘাসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ব্যাটার এবং বোলারদের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ক্রিকেটীয় সৌন্দর্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। ওয়ানডে ক্রিকেটে ভালো উইকেটের গুরুত্ব অনেক বেশি এবং মিরপুর এখন সঠিক পথেই হাঁটছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই নতুন কন্ডিশনে মানিয়ে নেয়া তাদের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলেও দলের ক্রিকেটাররা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তারা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সিরিজের অপেক্ষায় আছেন। মিরপুরের বর্তমান কন্ডিশন নিয়ে উচ্ছ্বসিত হেসন বলেন, ‘নিঃসন্দেহে মিরপুরের পিচ এখন উন্নত।’
মাঝের ওভারগুলোতে পেস বোলারদের কার্যকারিতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন হেসন। তিনি মনে করেন, উইকেটে ঘাসের আধিক্য থাকায় এবার স্পিনারদের চেয়ে পেসাররা বেশি সুবিধা পেতে পারেন এবং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবেন। তবে কন্ডিশন যেমনই হোক, তিনি নিজের দলের স্পিনারদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। হেসন জানান, পিচ থেকে সামান্য সহায়তা পাওয়া গেলেও পাকিস্তানি স্পিনাররা প্রতিপক্ষের উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম। বাংলাদেশ দলকে নিজেদের মাটিতে সবসময়ই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে সমীহ করেন এই অভিজ্ঞ কোচ। তবে তার বিশ্বাস, এবারের উইকেট ব্যাটারদের জন্য আগের তুলনায় অনেক বেশি সহায়ক হবে, যা বড় স্কোরের ম্যাচ উপহার দিতে পারে। ক্রিকেটারদের দ্রুত কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, একটি সফল সিরিজের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার মাঠ পর্যায়ে সঠিক বাস্তবায়ন করা এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয়তা।
দলের তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতিভা নিয়েও দারুণ আশাবাদী হেসন। তিনি জানান যে, ঘরোয়া ক্রিকেটে এবং ‘শাহিনস’ দলের হয়ে যারা ধারাবাহিক পারফর্ম করেছে, তাদের এই সিরিজে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ দেয়া হবে। বিশেষ করে সাহিবজাদা ফারহানের মতো উদীয়মান ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেখার জন্য তিনি মুখিয়ে আছেন। হেসন মনে করেন, এই নতুন প্রতিভারা দলে ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভবিষ্যতের জন্য পাইপলাইন শক্তিশালী করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে প্রচুর ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছে এবং ঘরের মাঠে তারা যথেষ্ট অভিজ্ঞ, যা পাকিস্তানের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হবে।









































