স্পোর্টস ডেস্ক।।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে ভারত। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই বিশ্ব আসরে ভারত ছিল একেবারেই দাপুটে। তবে পুরো এক মাসের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দলের অনেক ক্রিকেটারই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। সেই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আইসিসি ঘোষণা করেছে সেরা একাদশ।
এই একাদশ নির্বাচন করেন একটি বিশেষ নির্বাচক প্যানেল, যেখানে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক কিংবদন্তি ইয়ান বিশপ, ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ইয়ন মরগান, কোচ ও ধারাভাষ্যকার নাটালি জার্মানোস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধি গৌরব সাক্সেনা এবং শ্রীলংকার জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক রেক্স ক্লেমেন্টাইন।
সাহিবজাদা ফারহান (পাকিস্তান)
ম্যাচ: ৭ | রান: ৩৮৩ | গড়: ৭৬.৬০
পাকিস্তান দল পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক না হলেও ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ছিলেন দুর্দান্ত। সাত ম্যাচে ৩৮৩ রান করে তিনি একটি বিশ্ব আসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড গড়েন।
এই ২৯ বছর বয়সী ব্যাটার এক আসরে দুটি শতক করা প্রথম ক্রিকেটারও হন। শ্রীলংকার বিপক্ষে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে তার শতক পাকিস্তানকে পাঁচ রানের জয় এনে দেয়।
সাঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক, ভারত)
ম্যাচ: ৫ | রান: ৩২১ | গড়: ৮০.২৫
ভারতের দুর্দান্ত সমাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সাঞ্জু স্যামসন এবং তিনি আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। শুরুতে দলে জায়গা না পেলেও শেষদিকে এসে অসাধারণ ব্যাটিং করেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ৯৭ রান দিয়ে তার দুর্দান্ত যাত্রা শুরু হয়। এরপর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৯ এবং ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি ৮৯ রান করেন।
ইশান কিশান (ভারত)
ম্যাচ: ৯ | রান: ৩১৭ | গড়: ৩৫.২২
ইশান কিশান ওপেনিংয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে বড় প্রভাব ফেলেন। তিনটি অর্ধশতকের পাশাপাশি তিনি গুরুত্বপূর্ণ ছোট ছোট ইনিংস খেলেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪০ বলে ৭৭ রান ছিল তার সেরা ইনিংস। ফাইনালেও তিনি ৫৪ রান করেন এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নেন।
এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক, দক্ষিণ আফ্রিকা)
ম্যাচ: ৮ | রান: ২৮৬ | গড়: ৪৭.৬৬
অধিনায়ক হিসেবে মার্করাম দক্ষিণ আফ্রিকাকে টানা সাত ম্যাচ জেতাতে নেতৃত্ব দেন। তিনি ওপেনিংয়ে নেমে তিনটি অর্ধশতক করেন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৬ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ৮২ রান ছিল তার সেরা ইনিংস।
হার্দিক পান্ডিয়া (ভারত)
ম্যাচ: ৯ | রান: ২১৭ | উইকেট: ৯
অলরাউন্ডার হিসেবে হার্দিক পান্ডিয়া আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন। ব্যাট হাতে দুটি অর্ধশতক এবং বল হাতে নয়টি উইকেট নেন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৩ বলে ৫০ রান করে তিনি ভারতের ২৫৬ রানের বিশাল স্কোর গড়তে সাহায্য করেন।
উইল জ্যাকস (ইংল্যান্ড)
ম্যাচ: ৮ | রান: ২২৬ | উইকেট: ৯
এই আসরে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে আবির্ভূত হন উইল জ্যাকস। নিচের দিকে নেমে গুরুত্বপূর্ণ রান করেন এবং অফ স্পিনে উইকেটও নেন।
পুরো আসরে তিনি চারবার ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন।
জেসন হোল্ডার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
ম্যাচ: ৭ | রান: ১৪১ | উইকেট: ১০
দীর্ঘদেহী এই পেসার ও অলরাউন্ডার ব্যাট ও বল দুই দিকেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। নেপালের বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে দলকে বড় জয় এনে দেন।
জসপ্রিত বুমরাহ (ভারত)
ম্যাচ: ৮ | উইকেট: ১৪
ভারতের বোলিং আক্রমণের মূল শক্তি ছিলেন জসপ্রিত বুমরাহ। তিনি আসরের যৌথ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন।
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
লুঙ্গি এনগিডি (দক্ষিণ আফ্রিকা)
ম্যাচ: ৭ | উইকেট: ১২
দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসার পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক বোলিং করেন। ধীর গতির বল ও বৈচিত্র্য দিয়ে ব্যাটারদের বিপদে ফেলেন।
আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড)
ম্যাচ: ৮ | উইকেট: ১৩
এই একাদশের একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার আদিল রশিদ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তার লেগ স্পিন ইংল্যান্ডকে জয় এনে দেয়।
ব্লেসিং মুজারাবানি (জিম্বাবুয়ে)
ম্যাচ: ৬ | উইকেট: ১৩
জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল মুজারাবানির। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে দলকে বড় জয় এনে দেন।
দ্বাদশ খেলোয়াড়: শ্যাডলি ভ্যান শালকভিক (যুক্তরাষ্ট্র)
ম্যাচ: ৪ | উইকেট: ১৩
যুক্তরাষ্ট্র দল সুপার এইটে উঠতে না পারলেও এই পেসার গ্রুপ পর্বে অসাধারণ বোলিং করেন। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে চারটি করে উইকেট নিয়ে তিনি নজর কেড়েছিলেন।








































