Home Lead মজুতের প্রবণতা, পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষা

মজুতের প্রবণতা, পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষা

6


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে দেশের জ্বালানি বাজারে ক’দিন ধরে চলছে অস্থিরতা। সংকটের কথা ভেবে জ্বালানি মজুতের প্রবণতা থেকেই মূলত এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার জ্বালানি তেল কেনার সীমা বেঁধে দিলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। প্রতিদিনই পাম্পে পাম্পে তেল কিনতে যানবাহন চালক ও মালিকদের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। কোনো কোনো পাম্পে সেই লাইন এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল কিনছেন তারা।
সোমবার বেশ কয়েকটি তেলের পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ পাম্পই বন্ধ ছিল। পাম্পগুলোর মূল ফটকসহ তেল দেয়ার মেশিনে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে নোটিশ। নোটিশে লেখা- ‘অকটেন ও ডিজেল না থাকায় সাময়িক বন্ধ’। কোথাও দড়ি দিয়ে বেঁধে ঘুরে রাখা হয়েছে তেল বিক্রির মেশিন।
স্টেশনগুলোর তরফে বলা হচ্ছে, ডিপো থেকে স্টেশনগুলোতে ঠিকমতো তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না তেল। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তাছাড়া পাম্পে তেল মজুত করে রেখে সংকট দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন স্টেশন কর্তৃপক্ষ। ডিপো থেকে যতটুকু তেল দেয়া হয়, ততটুকুই তারা বিক্রি করতে পারেন। কিছু পাম্পে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তেল বিক্রি করা হলেও দীর্ঘ লাইন ধরে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে নিতে হচ্ছে তেল। কোথাও কোথাও তেল কিনতে এক কিলোমিটার লাইনও ধরতে দেখা গেছে। তবে তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তারা জ্বালানি সরবরাহ করছেন।
জ্বালানি বিক্রেতারা জানান, স্টেশনে গতকাল দুপুর থেকে টানা তেল দেয়া হয়েছে ভোর চারটা পর্যন্ত। যতক্ষণ ছিল ততক্ষণই আমরা বিক্রি করেছি। কিন্তু একদম ভোর থেকেই তেল শেষ, পদ্মা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষ তেল দিতে পারছে না। তাই আমরা বিক্রি বন্ধ রেখেছি।
মাইক্রোবাস চালক সুজন বলেন, তেল দেয়া চালু হবে বলে তিন দফায় আমাকে তেলের পাম্প থেকে সময় দেয়া হয়েছে। সকাল থেকেই দুইবার আসছি। দুপুরে এসে শুনি আগামীকাল থেকে তেল দেয়া হবে।
এক সপ্তাহ পর বাইকের তেল কিনতে এসেছেন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। তিনি জানতেন না তেলের সংকট। মনিরুজ্জামান বলেন, দুই-তিন জায়গায় গেলাম তেল নেই শেষ পর্যন্ত এখানে এসে তেল পেয়েছি। তবে ৩০০ টাকার তেল দিয়েছে।
পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা সাকিব হোসেন বলেন, ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর এখানে তেল নিতে পেরেছি। তেল দিয়েছে ২৫০ টাকার এই তেল দিয়ে সারাদিন বাইক চালানো সম্ভব না। দৈনিক ৫০০ টাকার তেল দিলে আমরা খুশি হতাম, আর এত লাইন থাকতো না।
জ্বালানিবাহী জাহাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং পাবে: চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী- কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা পাঁচটি এলএনজি ও দু’টি এলপিজি বহনকারী জাহাজসহ মোট ১৪টি জাহাজ বর্তমানে বহির্নোঙরে ও পথে রয়েছে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজও নিয়মিত আসছে। বন্দরের এক সভার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ করা হবে এবং জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা প্রদান করা হবে। বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রমসহ সব লজিস্টিক সাপোর্ট পূর্বের ন্যায় নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে।
তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল: জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। এসব সেলে অভিযোগ বা তথ্য জানাতে একাধিক যোগাযোগ নম্বরও নির্ধারণ করা হয়েছে। এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি এবং ভোক্তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এই কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল ছাড়াও বিপিসি’র বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়ে কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল হিসেবে কাজ করবে চট্টগ্রামের বিপিসি’র বিজনেস সাপোর্ট সেন্টার। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন ডিপো, শোর ট্যাংক, ফ্লোটিং, ডিসপাচ ও বিক্রয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মজুত, সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ: জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি রোধে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমবার দেয়া নির্দেশনা বলা হয়, জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধের লক্ষ্যে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি, খোলাবাজারে বিক্রি বন্ধ ও পাচাররোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে অনুরোধ জানানো হলো। এর আগে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।