স্টাফ রিপোর্টার।।
করব কাজ, গড়ব দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এবারে সংসদ-সদস্য নন এমন কয়েকজন মেধাবী ও দলের জন্য নিবেদিত হেভিওয়েট নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হয়েছে । তবে এবারের ৫০ সদস্যর মন্ত্রিসভা পুরাতন ও কিছু নতুন তরুনদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। তবে এই মন্ত্রিসভায় ঠাই মেলেনি খুলনার কোন সংসদ সদস্যের। খুলনাবাসী আবারো মন্ত্রীত্ব বঞ্চনার শিকার হলো। খুলনার চারটি আসন থেকে নির্বাচিত এমপিদের এলাকা থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীরা হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে ফিরেছেন খুলনায়।
১৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর পরে শুরু হয় নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান। এই মন্ত্রিসভায় ঠাই হয়েছে নবীন-প্রবীণদের সমন্বয়ে বাকি ৪৯ জন বিএনপি ও মিত্র দলের কয়েকজন এমপিদের।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় আপাতত ৫০ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হয়পছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতা বাদ পড়েছেন। তবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নবীন এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ অনেককে যুক্ত করছেন এই মন্ত্রিসভায়। সঙ্গে দলের সিনিয়র কয়েকজন সদস্যকেও বর্তমান সরকারের এই মন্ত্রীসভায় যুক্ত করেছেন। টেকনোক্র্যাট কোটায়ও যুক্ত হয়েছেন কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোটের শরীকদলের কয়েকজনকে যুক্ত করেছেন এই মন্ত্রিসভায়।
তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত খুলনার নির্বাচিত এমপি আলী আসগার লবীর নাম কয়েকদফায় প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও চুড়ান্ত তালিকা থেকে তিনি বাদ পড়েন। এরকম তিন-চার দফার প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকা বেশ কয়েকজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী থেকে বঞ্চিত হলেন বা বাদ পড়লেন। নতুন মন্ত্রীদের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে একে একে ফোনের মাধ্যমে ভাত পেয়েছেন বা তাদের অবহিত করা হয়।
নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী, রাজনৈতিক মহল এবং দেশ জুড়ে ছিল বেশ কৌতূহল। বিএনপি চেয়ারম্যান ছাড়া এ বিষয়ে আর কারও কাছে তথ্য ছিলনা বলে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানিয়েছিলেন। তবে সবদিক বিবেচনা করেই মন্ত্রিসভার দলের এই সংসদ সদস্যদের নির্বাচন করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের গুলশান কার্যলয় থেকে তৈরী করা কয়েকদফার তালিকা অবশেষে সংসদ নেতার জাতীয় সংসদের কার্যালয়ে চুড়ান্ত তালিকা করা হয় এবং সেই তালিকা মন্ত্রী পরিষদের সচিবের মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রতির নিকট পৌছানো হয়। পরে সেই তালিকার এমপি ও ননএমপিদের ফোন করে বিকাল ৪ টার গঠিত মন্ত্রীসভায় যোগদানের আহবান জানানো হয়।
নতুন গঠিত মন্ত্রীসভার পূর্ণমন্ত্রীরা হলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ,. ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম (রিতা), শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন (বকুল), ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন) ও শেখ রবিউল আলম।
নব-গঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রীসভার প্রতিমন্ত্রীরা হলেন, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলাম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক, ইয়াসের খান চৗধুরী, এক ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায়। বিকেল সাড়ে ৪ টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এর মধ্যে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ জনের নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলো।










































