মেহেরপুর প্রতিনিধি।।
২৫০ মিটার নিচু সড়কের জন্য চার-পাঁচ বছর ধরে ভুগছেন মেহেরপুর মুজিবনগরের একটি গ্রামের অর্ধশত মানুষ। প্রতি বর্ষা মৌসুমে বাগোয়ান ইউনিয়নের আনন্দবাস গ্রামের ফরিদপুরপাড়ায় তিন-চার মাস ধরে পানিবন্দি থাকতে হয় বাসিন্দাদের। বারবার দাবি জানিয়েও ওই সড়কটি উঁচু করা হয়নি। ফলে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই।
কয়েক মাস ধরে পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করছেন কৃষক সামাদুল ইসলামের পরিবারের লোকজন। সড়কের পাশেই তাঁর ছোট্ট টিনের ঘর। চার-পাঁচ বছরে তাঁর ঘরটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ভেতরেও জমে আছে পানি। সামাদুলের ভাষ্য, পানির ওপর চৌকি রেখেই রাত কাটাচ্ছেন তিনি। সড়কে জমা পানির কারণে আত্মীয়স্বজন আসতে পারেন না।
গৃহবধূ শহিদা খাতুন শনিবার বলেন, আনন্দবাস গ্রামের ডোবার মণ্ডল ও খোকা মণ্ডলের পরিবার বছর পাঁচেক আগে পানি বের হওয়ার রাস্তা না রেখে বাড়ির সীমানায় বাঁধ দেয়। পরে উঁচু করে বাড়ি নির্মাণ করে। ফলে এলাকার পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে যায়। প্রতি বর্ষায় অন্য পাশের ১০টি পরিবারের অর্ধশত মানুষের দিন কাটে পানিবন্দি অবস্থায়। গরু-ছাগলের মলমূত্র মিশে পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। পানিতে এখন মশামাছি ও সাপের বসত।
পচা পানির দুর্গন্ধে খাওয়াদাওয়া করাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান গৃহবধূ নুরজাহান খাতুন। তাঁর ভাষ্য, বাচ্চারা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরও কিছুদিন পরপর পানি ঢুকে পড়ে। রাতে ভয়ে ঘুমানো যায় না। বাচ্চাদের নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।
কাছাকাছি এলাকার আনন্দবাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে ওই এলাকার আনিকা তাবাসসুম। সে বলে, ‘পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অনেক সময় স্কুলে যেতে পারি না।’
ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অনেকবার দাবি জানিয়েও কাজ হয়নি। এ তথ্য জানিয়ে কৃষক রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুত যেন এই কষ্ট দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
ডোবার মণ্ডলের ভাষ্য, ‘আমরা নিজের জায়গায় বসতবাড়ি করেছি। রাস্তায় তো কিছু করিনি। রাস্তার কাজ সরকার করবে। সরকার রাস্তাটি ভরাট করে দিলে আর সড়কে পানি জমবে না। বাড়ির কাজ একবারই করা হয়। বারবার তো ভাঙাগড়া করা যাবে না। তাই নিজেদের জায়গায় উঁচু করে বাড়ি করেছি। রাস্তার পানি না নামায় আমরাও তো বিপদে আছি।’
ওই সড়কটি বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের অধীন। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন বলেন, রাস্তার পানি যেন নামতে পারে, সেই চেষ্টা করছি। তবে প্রশাসনের সহায়তা লাগবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত সড়কের কাজ শুরুর আশা করছি।
ইউএনও পলাশ মণ্ডল বলেন, বিষয়টি জেনেছি সম্প্রতি। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ভুক্তভোগী পরিবারের খোঁজখবর নিতে বলেছি। শিগগির রাস্তাটি পরিদর্শনের পর ব্যবস্থা নেবো।











































