Home আঞ্চলিক সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে পড়ছে কুষ্টিয়ার কুটির শিল্প

সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে পড়ছে কুষ্টিয়ার কুটির শিল্প

32

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।


জেলার অর্থনৈতিক কাঠামোয় কুটির শিল্পের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখার ক্ষেত্রে কুটির শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবু সম্ভাবনাময় এই খাত ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে।


কুষ্টিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কুটির শিল্পের অসংখ্য কারখানা। কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি সহায়তার অভাবে বহু উদ্যোগ থমকে গেছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বলছেন, সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি করলে কুটির শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাটির তৈরি ব্যবহার্য পণ্য, নকশিকাঁথা, বাদ্যযন্ত্রসহ নানা ধরনের উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বাদ্যযন্ত্র প্রস্তুতকারক মনিরুল ইসলাম বলেন,

আর্থিক সংকটের কারণে ব্যবসা বড় করতে পারছি না। কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় বাদ্যযন্ত্র উৎপাদনের খরচ বেড়ে গেছে। সঠিক বাজার ব্যবস্থা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত দামও পাওয়া যায় না। ফলে কারখানা চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় কুষ্টিয়ার বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছি না।

জেলার তরুণ উদ্যোক্তারা জানান, তারা মাটির তৈজসপত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করেন। কিন্তু সরকার বা বিসিক থেকে কোনো সহায়তা পাননি। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়া গেলে ব্যবসা সঠিকভাবে চালানো সম্ভব হতো। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে অতিরিক্ত সুদে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়, যার কারণে উৎপাদনে লাভ কমে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুঁজির অভাবসহ নানা সংকটে অনেক উদ্যোক্তা ইতোমধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া রয়েছে বিসিক থেকে নিবন্ধন নেয়ার জটিলতা।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ মিজানুর রহমান বলেন, ‘কুটির শিল্পের সমজাতীয় পণ্য বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে সরকারকে শুল্ক আরোপ করতে হবে। পাশাপাশি কুটির শিল্পে ব্যবহৃত উৎপাদনমুখী বিদেশি যন্ত্রের ওপর কর মওকুফ করতে হবে। তাহলেই এই শিল্পকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

কুষ্টিয়া বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আশানুজ্জামান জানান, কুটির শিল্পে বিনিয়োগের আগে উদ্যোক্তারা বিসিক অফিসে যোগাযোগ করলে তাদেরকে প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার ক্ষুদ্র কুটির শিল্প উদ্যোক্তাকে মাত্র ৬% সুদে ১২ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে।