Home Lead মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : ৩৩ দিন লড়াই করে না ফেরার দেশে তাসনিয়া

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : ৩৩ দিন লড়াই করে না ফেরার দেশে তাসনিয়া

16

ঢাকা অফিস।।

পনেরো বছর বয়সী তাসনিয়া। উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো। গত ২১শে জুলাই বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়েছিল। দগ্ধ তাসনিয়া জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিল। নিদারুণ যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছিল হাসপাতালের বিছানায়। পোড়া শরীরের যন্ত্রণা নিয়ে দীর্ঘ ৩৩ দিন লড়াই করে হেরে গেল সে। শনিবার সকালে মৃত্যু হয় তার। তাসনিয়ার শরীরে ৩৭ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ বলেন, ২১শে জুলাই বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ তাসনিয়াকে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের ৩৭ শতাংশ দগ্ধ ছিল। আজ সকাল আটটার দিকে জাতীয় বার্নের আইসিইউ ৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। তিনি বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত জাতীয় বার্নে ২০ জন মারা গেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ২৩ জন এবং ১৪ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

তাসনিয়ার বাবা মো. নাজমুল বলেন, আমার মেয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আমার দুই ছেলে এক মেয়ে। আমাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানা এলাকায়। উত্তরা খালপাড় এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকি।

গত ২১শে জুলাই দুপুরে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও বিজিবি। এ ঘটনায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। আহত হয়েছেন প্রায় শতাধিক। তাদের মধ্যে এখনো অনেকে চিকিৎসাধীন। বিমান বিধ্বস্তের ১২ দিন পর গত ৩রা আগস্ট খুলেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ।