Home খেলাধুলা উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানকে উড়িয়ে নিউজিল্যান্ডের শুভসূচনা

উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানকে উড়িয়ে নিউজিল্যান্ডের শুভসূচনা

4


স্পোর্টস ডেস্ক।।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টের নবম আসরে ৬০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে কিউইরা। এ নিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকেই টানা তিন ম্যাচ হারাল নিউজিল্যান্ড।

Pause


আজ বুধবার করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুদল। যেখানে প্রথমে ব্যাট করা নিউজল্যান্ড দুই সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩২০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে ৪৭.২ ওভারে ২৬০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

৩২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নিউজল্যান্ড বোলারদের তোপে শুরু থেকেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। তবে বাজে ফর্মে থাকা বাবর আজম লড়াই করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম ফিফটির পর ৬৪ রানে তিনিও থামেন। ধীর গতির ইনিংসে ৯০ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে মিচেল স্যান্টনারের শিকার হন তিনি। শেষ দিকে খুশদিল শাহ ঝড় স্বাগতিকদের কিছুটা আশা দেখালেও উইল ও’রোর্কি বাধ সাধেন। সদ্য শেষ হওয়ার বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে দারুণ খেলা খুশদিল ৪৯ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ৬৯ রান করেন। তবে বাকিদের মধ্যে সালমান আঘা ২৮ বলে ৪২ করলেও অন্যরা জ্বলে উঠতে না পারায় বড় ব্যবধানে হারতে হয় পাকিস্তানকে।

নিউজিল্যান্ড বোলারদের মধ্যে ৩টি করে উইকেট দখল করেন ও’রোর্কি ও স্যান্টনার।

এর আগে টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান। যেখানে দুর্দান্ত শুরুর পর কিছুটা ব্যাকফুটে পড়েছিল নিউজিল্যান্ড, সেটা কাটিয়ে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ওপেনার উইল ইয়ং ও পাঁচ নম্বরে নামা টম ল্যাথাম। ব্যাট হাতে স্বভাবগত ঝড় তুলেছেন গ্লেন ফিলিপস। তাতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের সামনে ৩২১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য রাখল নিউজিল্যান্ড।

প্রথম ৬ ওভারে নান্দনিক ব্যাটিংয়ে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৩৩ রান তুলে বড় রান তোলার আভাস দেয় কিউইরা। তবে এরপর পাকিস্তান বোলাররা চেপে ধরে মিচেল স্যান্টনারের দলকে। ৭৩ রান তুলতেই ফিরিয়ে দেয় ডেভন কনওয়ে, কেন উইলিয়ামসন ও ড্যারিয়েল মিচেলকে। এরপরই ল্যাথামকে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি গড়েন ইয়ং।

প্রথম দলীয় শতরান পূর্ণ করতে ১৩৫ বল খরচ করে নিউজিল্যান্ড। পরের এক শ করতে দলটি ব্যয় করে ১০১ বল। আর শেষ ১২০ রান করতে দলটি ব্যয় করে স্রেফ ৬৪ বল। চতুর্থ উইকেটে ইয়ং ও ল্যাথাম যোগ করেন ১১৮ রান। ৫৬ বলে ফিফটি আদায় করা ইয়ং শেষ পর্যন্ত করেন ১১৩ বলে ১০৭ রান। ওয়ানডেতে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি, বিদেশের মাটিতে প্রথম।

ইয়ং-ল্যাথামের জুটি ভাঙার পর ব্যাটিংয়ে আরও মারমুখী হয় নিউজিল্যান্ড। পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৭৪ বলে ১২৫ রান যোগ করেন ল্যাথাম ও ফিলিপস। এর মধ্যে একটু বেশিই আগ্রাসী ছিলেন ফিলিপস। ৩৪ বলে ফিফটি করা এই তারকা থামেন ৩৯ বলে ৬১ রান করে। ৩টি চারের পাশাপাশি হাঁকান ৪টি ছক্কা। তার আগেই অবশ্য ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নেন ল্যাথাম। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে মাত্র পঞ্চমবারের মতো একই ইনিংসে দুইটি সেঞ্চুরি দেখা গেল। শেষ পর্যন্ত ১০৪ বলে ১১৮ রানে অপরাজিত থাকেন ল্যাথাম। ১০টি চারের পাশাপাশি হাঁকান ৩টি ছক্কা। তাতে নিউজিল্যান্ড তোলে ৩২০ রানের বড় সংগ্রহ।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে কেউই কিউই ব্যাটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি। নাসিম শাহ ও হারিস রউফ ২টি করে উইকেট নিলেও তারা ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ছয়ের ওপরে। হারিস তো ১০ ওভারে হজম করেছেন ৮৩ রান! ১০ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে মান রেখেছেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ।