স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার (ডিআইজি) মো. মোজাম্মেল হক ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পরে বেকায়দার পড়েছে কমিশনারের আদায়কারী হিসেবে মেট্রো এলাকায় পরিচিত দুইজন ওসি ও সিটিএসবির এএসআই আব্দুর রাজ্জাক। সুত্রের তথ্যে কেএমপি কমিশনারের শুধুমাত্র থানা ও ফাড়ি থেকে মাসিক আয় ছিলো দেড় কোটি টাকা। এছাড়াও বদলীর আয় ছিলো আলাদা।
খুলনার মেট্রোলিটন পুলিশ কমিশনার মোজাম্মেল হক বিপিএম (বার) বিপিএম বিপি নং ৬৮৯৯০০৬৯ প্রতি মাসে খুলনা সদর থানার ওসির কাছ থেকে মাসে ৫ লাখ, অন্যান্য ৭ থানা প্রতি মাসে ৩ লাখ করে মোট ২১ লাখ, খুলনা সদর থানার ৫টি পুলিশ ফাঁড়ির মধ্যে সদর ফাঁড়ি থেকে ১ লাখ। বাকি ৪টি থেকে (২০×৪)= ৮০ হাজার, সোনাডাঙ্গা থানাধীন ২টা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে (২০×২)=৪০ হাজার, লবনচরা থানাধীন একটা পুলিশ ফাড়ি থেকে ৮০ হাজার, দৌলতপুর থানাধীন ২টা ফাড়ি থেকে (২০×২)=৪০ হাজার, খালিশপুর থানাধীন ৩পুলিশ ফাঁড়ি (২০×৩)=৬০ হাজার, খানজাহান আলী থানায় ২টা পুলিশ ফাঁড়ির মধ্যে পথের বাজার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রতিমাসে ২লাখ, বাকি ১টি থেকে ২০ হাজার, আড়ংঘাটা থানাধীন একটি পুলিশ ফাঁড়ি ২০ হাজার টাকা আদায় করতেন। এছাড়া খুলনা ট্রাফিক বিভাগ থেকে প্রতিমাসে ২৮ লাখ টাকা দিতে হতো কমিশনারকে। আদালত এলাকা থেকে প্রতিমাসে ২ লাখ। নগর ডিবি অফিস থেকে ৬ লাখ, মোটরযান শাখা থেকে প্রতিমাসে ১০ লাখ টাকা নিতেন কমিশনার। পুলিশের খাবারের ১নং ম্যাচ থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং ২ নং ম্যাচ থেকে দেড় লক্ষ টাকা। ওসি রেশন স্টোর এর কাছ থেকে ২ লাখ, পুলিশের গাড়ির ড্রাইভার এর কাছ থেকে প্রতি মাসে ইস্যুকৃত জ্বালানি তেলের ১০৫ লিটারের সমপরিমান টাকা (১০৫লিটার×৮০গাড়ি×১৩০টাকা)= ১০,৯২০০০/-টাকাসহ সবমিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা প্রতি মাসে ঘুষ হিসাবে আয় করতে পুলিশ কমিশনার মোজাম্মেল হক বিপিএম (বার)পিপিএম।
এসব টাকা আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন কেএমপির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র), মোঃ হাফিজুর রহমান, বিপি-৭৬০২০৫০০৯৬, পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন (নিরস্ত্র), বিপি নং ৭৯০৬১০২৯৮০, সিটিএসবির এএসআই(নিরস্ত্র)/মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, বিপি-৮৯০৯১২০৩৬৭। এছাড়া বদলী বানিজ্যের গুরুত্বর অভিযোগ ছিলো বিদায়ী খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার (ডিআইজি) মো. মোজাম্মেল হক এর বিরুদ্ধে। মেট্রো এলাকায় ওসি বদলী বাবদ দিতে হতো ৫লাখ, এসআইদের থানা থেকে অন্য থানায় বদলীর জন্য ১ থেকে দেড় লাখ দিতে হতো তাকে। এছাড়া সিটিএসবিতে বদলী নিতে ৭৫ হাজার নিতে পুলিশ কমিশনার। এএসআই ৫০-৬০ হাজার এবং কনষ্টেবল ৪০ থেকে ৫০ হাজার করে দিতে হতো।
গোয়েন্দা সুত্রে জানাগেছে, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার (ডিআইজি) মো. মোজাম্মেল হক অবৈধ টাকার কখনোই ব্যাংকে রাখেন না। প্রতিমাসে সোনা কিনে রাখেন তিনি। শুধু সোনা কেনাই নয়-ক্রয়কৃত সোনা গলিয়ে বার বানিয়ে নিজের রাজধানীর ১৯তলা বাড়ির গোপন জায়গায় রাখেন তিনি। এ ব্যাপারে চাকুরী থেকে বিদায়ী কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। কমিশনারের বাংলোর দায়িত্বে থাকা বিশ্বস্ত এএসআই মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা আদায়ের বিষয় অস্বীকার করে বলেন এসবের সাথে আমি জড়িত ছিলাম না। তবে নির্ভরযোগ্য সুত্রের দাবি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার (ডিআইজি) মো. মোজাম্মেল হক এর বগুড়া, জয়পুরহাট ও নওগাঁয় চাকুরীকালিন সময় থেকেই এএসআই(নিরস্ত্র)/মোঃ আব্দুর রাজ্জাক তার বিশ্বস্ত আদায়কারী।
সরদার রকিবুল ইসলাম: বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাচাতো ভাইদের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে দুহাতে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সেখ হেলাল খুলনাতে আসলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম দেখা করতে গেলে তার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে বলে জনশ্রুতি আছে। কেসিসির সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেককে আব্বা বলে সম্বোধন করে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতেন এবং মেয়রের স্ত্রী সাবেক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এর সাথে দেখা হলে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে আম্মা ডাকতেন। শেখ হেলাল, শেখ সোহেল, শেখ জুয়েল, তালুকদার আব্দুল খালেক এর চাটুকারী করে ঘুষ বাণিজ্য করেছেন নির্বিঘ্নে। খুলনা মেটোপলিটন পুলিশের ৮টি থানা হইতে গড়ে( ৮×২) =১৬ লাখ টাকা, ট্রাফিক বিভাগ থেকে নেয় ৫ লাখ টাকা, সিএমএম আদালত থেকে নেয় ৫০ হাজার টাকা, পুলিশের যানবাহন শাখা থেকে ৩ লাখ টাকা, ডিবি থেকে তিন লক্ষ টাকা প্রতিমাসে ঘুষ আদায় করতেন। এছাড়া মাছ, মাংস, পারিবারিক মাসিক বাজার নিতেন সদর থানার সেকেন্ড অফিসারের মাধ্যমে।










































