বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইসলামী আন্দোলন খুলনা মহানগরের
খবর বিজ্ঞপ্তি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর ও খুলনা মহানগর সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেছেন, ভারতের পানি আগ্রাসন রুখে দিতে হবে সম্মিলিতভাবে। ভারত যে অপরাধ করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য। আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে বিচার চাওয়া উচিত। অসময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে অন্যায়ভাবে বাঁধ খুলে দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলগুলোতে ইতিহাসের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে। এই অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে বলিষ্ঠভাবে এখনই সোচ্চার হতে হবে। দুই দেশের অভিন্ন ৫৪টি নদীর ৫১টি নদীতে আন্তর্জাতিক নদী আইন অম্যান্য করে ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উজানে অসংখ্য বাঁধ, ব্যারেজ দিয়েছে এবং ভিন্নখাতে একতরফাভাবে পানি ছাড়ছে ও প্রত্যাহার করছে। ভারতের এই পানি আগ্রাসনের কারণে গোটা বাংলাদেশে আজ বর্ষায় তলিয়ে যাচ্ছে এবং গ্রীষ্মে মরু আকার ধারণ করছে। ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প আন্তর্জাতিক নদী আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তুলতে আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, ভারত বাংলাদেশের কল্যাণ কখনো চায়নি। এজন্য ভারত সময়ে অসময়ে বাংলাদেশের ক্ষতি সাধন করতেই বেশি পছন্দ করে। তিনি নদী শাসনে অনিয়মের কারণে নদীমাতৃক দেশের প্রায় প্রতিটি নদীই অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন। ফলশ্রুতিতে স্বল্প বর্ষনেই যত্রতত্র বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এক্ষেত্রে জনগণকেও সচেতন হতে হবে এবং রাষ্ট্রকে এখনই যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বন্যায় দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কাছে ছুটে যাওয়াই এই মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলন ও সহযোগী সংগঠনের বড় কাজ। তারা বলেন, যারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আমরা তাদের দুঃখে পাশে থাকবো এবং তাদের সহায়তা করে যাবো। দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কাছে ছুটে যাওয়া এবং বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকা এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ। ভারতের পানির কারণে আজ বাংলাদেশ ভেসে যাচ্ছে। মানুষ দুঃখ ও দুর্ভোগের মধ্যে আছে। অনেকে ঘর বাড়িতে থাকতে পারছে না। কোলের সন্তান নিয়ে কোথায় যাবে দিশেহারা হয়ে উঠেছে। তাদের একটু সহানুভূতির প্রয়োজন। তাদের মাঝে আমাদের সাহায্যের হাত অব্যাহত থাকবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর এ মুহুর্তে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, সাহায্য সংস্থা সহ দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি বন্যা কবলিত অঞ্চলে দ্রুত মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিবৃতিদাতারা হলেন নগর সহ-সভাপতি মুফতী আমানুল্লাহ, শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, আলহাজ্ব আবু তাহের, নগর সেক্রেটারী মুফতি ইমরান হোসাইন, জয়েন্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবু গালিব, অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি মাওলানা দ্বীন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা হাফিজুর রহমান, আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির, মোঃ মঈন উদ্দিন, এইচএম আরিফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম কিবরিয়া, শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, আলহাজ্ব আবুল কাশেম, মাওলানা নাসিম উদ্দিন, হাফেজ আব্দুল লতিফ, গাজী মিজানুর রহমান, আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, আলহাজ্ব সরোয়ার হোসাইন বন্দ, মোল্লা রবিউল ইসলাম, গাজী ফেরদাউস সুমন, আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, মাস্টার মইন উদ্দিন ভূইয়া, কাজী তোফায়েল হোসেন, মোহাম্মদ কবির হোসেন, আলহাজ্ব মারুফ হোসেন, ক্বারী মোঃ জামাল, আব্দুল্লাহ আল মাসুম, আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, মোঃ কামরুজ্জামান নেতৃবৃন্দ।
মোংলায় নারী পাচারকারী, মাদক ও সুদ কারবারীর বিচারের দাবীতে মানববন্ধন
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোংলায় নারী পাচারকারী, মাদক ও সুদ কারবারীসহ নানা অপকর্মের হোতা বকুলের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। মঙ্গলবার দুপুরে পৌর মার্কেট চত্বরের প্রধান সড়কে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তার বিচারের দাবী জানানো হয়।
এ সময় ভুক্তভোগী নাজমা, কুলসুম, খাদিজা, জামিনুর, জলিল ও আমির হোসেন বলেন, বকুলের আগ্রাসনে এলাকা মাদকে সয়লাব। এলাকার দরিদ্র নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করে আসছেন বকুল। এছাড়া প্রথম প্রথম মানুষকে টাকা ধার দেয়ার রেওয়াজে সুদের রমরমা কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। বকুলের এসব কর্মকান্ডের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও হয়েছে। আর বকুলের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলে তাকে মামলাসহ নানাভাবে হয়রানী করে থাকেন বকুল। বকুলের এ মামলা-হামলার শিকার পৌরসভার সিগনাল টাওয়ার এলাকার অসংখ্য পরিবার। তারা এখন বকুলের হাত থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
পাইকগাছায় সাবেক সংসদ সদস্যর বাড়ি থেকে ২৩০ বস্তা ত্রান উদ্ধার
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:
পাইকগাছায় সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ রশিদুজ্জামানের বাড়ি থেকে ২৩০ বস্তা ত্রান উদ্ধার করেেেছ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যজিট্রেট ইফতেখারুল ইসলাম শামিম। মঙ্গলবার বেলা একটায় সংসদ সদস্যর আগড়ঘাটা অফিসের নিজ বাড়ি থেকে ওই চাল উদ্ধার করা হয়। ওই ত্রান উদ্ধারে সময় উপস্থিত ছিলেন, পাইকগাছা কৃষি কর্মকর্তা অসিম কুমার দাশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, খাদ্য নিয়ত্রক কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমান সহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যজিট্রেট ইফতেখারুল ইসলাম শামিম বলেন, আমরা সাবেক সংসদ সদস্যর বাড়ি থেকে ২৩০ বস্তা ত্রান পেয়েছি। তাতে ছিলো চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবন সহ কয়েক প্রাকার ত্রান সাগ্রী। সেগুলো উদ্ধার করে ত্রান শাখায় জমা রেখেছি। তবে এলাকাবাসি
পাইকগাছায় সাবেক সংসদ সদস্যসহ ১০৬ জনের নামে মামলা
পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি:
পাইকগাছায় সাবেক এমপি সহ ১০৬ জনের নামে উল্লেখ করে ও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার রাতে মামলাটি করেন উপজেলার শ্যমনগর গ্রামের ফসিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক সরদার মোস্তফা জামান জানান, গত ২০২২ সালে ২১ অক্টবর খুলনা জেলায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে ট্রলারে যোগ দানের জন্য উপজেলা আগড়ঘাটা ট্রলার ঘাটে রাতে জড়ো হয়। এ সময় সাবেক এমপি মোঃ রশিদুজ্জামানের নের্তৃত্বে শত শত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মিরা বিস্ফোরণ ঘটায়। তখন বিএনপির নের্তৃবৃন্দ ছত্রভঙ্গ হয়ে নদী সাতার দিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় সাবেক সাংসদ সদস্য সহ ১০৬ জনের নাম উল্লেখ সহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা হয়ে হয়েছে। মামলার বাদী ফসিয়ার রহমান জানান, ২০২২ সালে ২১ অক্টবর বিএনপির সমাবেশে যোগদারে জন্য আগঘাটা বাজের ট্রলার ঘাটে জড়ো হই। ওই সময় সাবেক এমপি রশিদুজ্জামান তার লোকজন নিয়ে আমাদে লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। ট্রলারে থাকা ৩ দিনের খাবর, মোবাইল ফোন সহ লুটতারাজ করে। ওই সময় আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় মামলা করতে সাহস পাইনি। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমান বলেন, সাবেক এমপি মোঃ রশিদুজ্জামান সহ ১০৬ জনের নামে বিস্ফোরণ চুরি চাঁদা দাবীর অপরাধে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
কেসিসি’র কর্মকর্তাদের সভা নগর ভবনে অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
দেশের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যায় তিগ্রস্থদের সাহায্যার্থে করণীয় নির্ধারণে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের এক সভা মঙ্গলবার দুপুরে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) লস্কার তাজুল ইসলাম।
সভায় বন্যার্তদের সাহায্যার্থে কেসিসি’র সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া উদ্ভুত যে কোন পরিস্থিতিতে সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় নাগরিক সমস্যা সমাধানকল্পে চলমান উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন এবং নগরীর জলাদ্ধতা নিরসন ও পানি নিস্কাশনের সুবিধার্থে ড্রেনসমূহ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দশগেট স্লুইচগেট সচল রাখারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
কেসিসি’র সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সানজিদা বেগম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আব্দুল আজিজ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, চীফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ মাসুদ করিম, কঞ্জারভেন্সী অফিসার মোঃ অহিদুজ্জমান খান, রাজস্ব এবং শিা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এস কে এম তাছাদুজ্জামান, ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, বাজার সুপার এম এ মাজেদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্যা মারুফ রশীদ, চীফ এ্যাসেসর শেখ হাফিজুর রহমান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, কালেক্টর অব ট্যাক্সেস তপন কুমার নন্দী, সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম, আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক প্রমুখ সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সফলে খুলনা জেলা জাসাস’র প্রস্তুতি সভা
খবর বিজ্ঞপ্তি
আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সর্বাত্মক সফলে গতকাল মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) প্রস্তুতি সভা করেছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস খুলনা জেলা। জেলা জাসাস’র আহবায়ক মোঃ শহিদুল ইসলাম শহিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক আশরাফুল আলম নান্নু।
জেলা জাসাস’র সদস্য সচিব এমডি আজাদ আমিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ আয়ুব হোসেন মোল্যা, জেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব মাহামুদুল আলম লোটাস। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জাসাস নেতা মোঃ জামাল ফারুক জাফরিন, মোঃ শাহাজালাল লস্কর, মোঃ মেহেদী হাসান রাসেল, মোঃ রাকিব হোসেন, আরিফ শেখ, মোঃ ফয়সাল, ইয়াসিন ইসলাম মিন্টু, মুরাদ হোসেন, মোঃ মামুন, খালিদ লস্কার ও আওলাদ হোসেন ও মোঃ জসিম প্রমুখ।।
কুয়েট ভাইস-চ্যান্সেলরের সাথে রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীদের মতবিনিময়
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) রোকেয়া হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় রোকেয়া হলের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা এবং শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেণ।
মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সকল যৌক্তিক দাবি এবং শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে কুয়েট প্রশাসন সর্বদা বদ্ধ পরিকর। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আনিছুর রহমান ভূঞা উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু
মাহমুদ হাসান রনি, দামুড়হুদা ( চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের ভালাইপুর মোড় এলাকার মৃত. আকবর আলীর স্ত্রী সান্তনা খাতুন(৭০)বাড়ির সামনের রাস্তায় বের হলে দ্রুতগামী একটি মটরসাইকেল তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে পালিয়ে যায়। এসময় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয়দের সহযোগীতায় দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার আগেই সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে ছেলে আঃ মজিদ জানায়।
চুয়াডাঙ্গায় বৈদ্যুতিক তার সরাতে যেয়ে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার হাজরাহাটি গ্রামে বৈদ্যুতিক মিস্ত্রীর অসাবধানতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দর্শনা কলেজ ছাত্র’র মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার বিকালে চুয়াডাঙ্গার পৌর এলাকার হাজরাহাটি গ্রামে শাহাজান আলীর ছেলে দর্শনা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হৃদয় বিশ্বাস (১৯) বাড়ির পাশে বৈদ্যুতিক তার সরাতে যেয়ে মারা যায়।এর আগে বাড়ির পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে জাকির নামে এক মিস্ত্রী কাজ করছিল।এসময় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রী নেগেটিভ-পজিটিভ দুটি তারের মধ্যে একটি তার কেটে নিচে ফেলে ও হৃদয়কে তারটি অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে বলেন। পজিটিভ তারটি নিচে থাকা পানিতে পড়লে পানি বিদ্যুতায়িত হলে হৃদয় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহবুবা মুস্তারি মৌ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোলাবারুদসহ আগ্নেয়াস্ত্র থানায় জমা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি
তথ্য বিবরণী
বিগত ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যে সকল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বেসামরিক জনগণকে প্রদান করা হয়েছে তাদের প্রদানকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিতসহ আগামী ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখের মধ্যে গোলাবারুদসহ আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি থেকে ইস্যুকৃত লাইসেন্স এবং অন্যান্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি থেকে খুলনা জেলায় বসবাসরত বেসামরিক জনগণের অনুকূলে ইস্যুকৃত লাইসেন্সের বিপরীতে ক্রয়কৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সংশ্লিষ্ট থানায় আগামী ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর আলিফ রেজা স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসকল তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএনপির ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী: খুলনা মহানগর বিএনপির ৬দিনের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহন
।। খবর বিজ্ঞপ্তি।।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে এবার খুলনায় সর্বকালের সর্ববৃহৎ শো’ডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। পতিত আওয়ামী সরকারের স্বৈরাচারী দোসরদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে খুলনার সর্বস্তরের জনগনকে সাথে থাকার আহবান জানিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে গৃহিত কর্মসূচিতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমার্থকদের সর্বাত্মক অংশগ্রহনের আহবান জানিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক এ্যাড. এসএম শফিকুল আলম মনা ও সদস্য সচিব মোঃ শফিকুল আলম তুহিন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় দলীয় কার্যালয়ে কে.ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিশাল সমাবেশের পর নগরীতে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হবে। ২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে খুলনা বিএনপি’র পক্ষ থেকে বিশেষ ক্রোড়পত্র উদ্বোধন করা হবে। ৩ সেপ্টেম্বর মহানগরীর পাঁচ থানায় আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালি বের হবে। ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে জমায়েতের পর নির্ধারিত স্থানে মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী নগর পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ৬ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এঁর মাগফেরাত কামনা, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পরিপূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সকল শহীদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও আহতদের আরোগ্য কামনায় থানায় থানায় বিশেষ দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ করা হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি’র কেন্দ্র থেকে প্রচারিত বিশেষ ক্রোড়পত্র স্থানীয় সকল দৈনিকে প্রকাশের বিশেষ অনুরোধ করেছেন খুলনা বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
ডিআইজি আনিসসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিএনপি কর্মিকে গুমের অভিযোগে যশোরের আদালতে বিএনপির মামলা
শহিদুল ইসলাম দইচ যশোর।
যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার বর্তমান নৌ পুলিশে সংযুক্ত ডিআইজি আনিসুর রহমানসহ ৭ পুলিশ সদস্যের নামে আদালতে মামলা হয়েছে। যশোরে সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া গ্রামের বিএনপি কর্মী মাসুমকে গুমের অভিযোগে ২৭ আগষ্ট দুপুর ১২টায় মাসুমের মামা কুদ্দুস আলী বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়ার আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। বিচারক অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী রূহিন বালুজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলো, যশোর কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি শিকদার আক্কাস আলী, এসআই আবু আনসার, কন্সটেবল হাফিজ, কন্সটেবল অভিজিৎ, কন্সটেবল সাঈদ, কন্সটেবল হাসনাত।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোর সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে মাসুম বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট তিনি সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। ওইদিন বাড়ি ফেরার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই আবু আনসার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে গ্রেফতার করে এবং পুলিশের গাড়িতে উঠায়। এসময় মাসুমের মামা মামলার বাদী আটকের কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়- ‘ও বড় নেতা হয়ে গেছে; ওকে মেরে ফেলা হবে’। পরের দিন থানায় গিয়ে তাকে হাজতে পাওয়া যায়। কিন্তু পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করেনি। তারপর থেকে মাসুমের আর কোন খবর মেলেনি।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মাসুমের স্বজনদের ধারণা তাকে পুলিশ হেফাজতে হত্যার পর গুম করা হয়েছে। তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান এবং ওসি শিকদার আক্কাস আলীর নির্দেশ মাসুমকে গুম করা হয়েছে। ওই সময় থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। বর্তমান সময়ে পরিবেশ অনুকূলে আসায় ন্যায় বিচার পেতে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন
বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির ভুলে কলেজছাত্রের মৃত্যু
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির ভুলের কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হৃদয় বিশ্বাস (১৯) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকালে চুয়াডাঙ্গার হাজরাহাটি গ্রামের পীরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কলেজছাত্র হৃদয় বিশ্বাস ওই এলাকার শাহাজান বিশ্বাসের ছেলে। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। তিন ভাই বোনের মধ্যে হৃদয় বিশ্বাস ছিল সবার বড়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বৈদ্যুতিক কাজ করছিলেন মিস্ত্রি। এ সময় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির নেগেটিভ-পজিটিভ দুটি তারের মধ্যে একটি তার কেটে হৃদয়কে তার অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে বলে। এতেই ঘটে বিপত্তি। পজিটিভ তারটি নিচে থাকা পানিতে পড়লে পানি বৈদ্যুতায়িত হলে হৃদয় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এতে ঘটনাস্থলেই হৃদয় বিশ্বাসের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহবুবা মুস্তারি মৌ বলেন, পরিবারের সদস্যরা মৃত অবস্থায় হৃদয় বিশ্বাসকে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই হৃদয় বিশ্বাসের মৃত্যু হয়েছে।
ঝিনাইদহ কারাগারে হাজতির মৃত্যু
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে মো. বেল্লাল হোসেন নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে মৃত্যু হয়েছে তার।
বেল্লাল হোসেন (৪০) ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মৃত বদর উদ্দিনের ছেলে।
জেলার শেখ মো. মহিউদ্দিন হায়দার বিকাল ৫টার দিকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ৭ মে তিনটি মাদক মামলায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে বন্দি ছিলেন বেল্লাল। রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে (বেল্লাল)। ভোর পৌনে ৫টার দিকে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেলার আরও জানান, বেল্লাল স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেছেন। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. শাহীন উদ্দিন জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতে বেল্লালের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
জমিতেই মরছে মরিচ গাছ অন্য সবজিরও ক্ষতির শঙ্কা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে টানা বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষিতে। এরই মধ্যে জমিতে পানি জমে মরতে শুরু করেছে মরিচ গাছ। মুলা, শিম, লাউসহ অন্যান্য সবজিতেও পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ছে। নিচু এলাকার জমিতে সমস্যা সবচেয়ে বেশি। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে সব সবজির ফলন কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা কৃষকের; তাতে বাজারে দামও কয়েক গুণ বৃদ্ধির শঙ্কা করছেন তারা।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান, হলিধানী, বাজার গোপালপুর, ডাকবাংলো, বেড়াশুলাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবজি চাষিরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। এসব এলাকায় কাঁচামরিচ, শিম, লাউ, পটোল, বেগুন, শসা, মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় সবজির আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে মরিচ ৫২৫ হেক্টর, লাউ ১২৯ হেক্টর, পটোল ৮২ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন শিম ২৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
কৃষকরা জানান, গত প্রায় এক মাস ধরে আবহাওয়ার বৈরিতা দেখা যাচ্ছে। কখনও মুষলধারে আবার কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। কয়েকদিন মাঝে রোদ হলেও আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে সবজি ক্ষেতে পানি জমে থাকছে। গাছের গোড়ার মাটি স্যাঁতসেতে থাকায় ছত্রাক জাতীয় রোগসহ ফসলে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে রয়েছে কাঁচামরিচ গাছ। নগরবাথান, হলিধানী, বাজার গোপালপুর এলাকার অনেক গাছই মরে গেছে। কোথাও আবার মরিচ গাছের পাতা কুঁচকে শুকিয়ে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে ফলন। বৃষ্টির কারণে শিমের ফুল ঝরে যাচ্ছে, পাতা শুকানো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মুলা গাছ।
হলিধানী গ্রামের হুজুর আলী বলেন, ২০ শতক জমিতে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে মরিচ গাছ লাগিয়েছিলাম। মাত্র ৩০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। এর পর হঠাৎ গাছের গোড়ায় পচন লাগে। দোকান থেকে এনে ওষুধ দিয়েছিলাম; কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। সব গাছ মরে গেছে।
একই এলাকার কৃষক রুবেল হোসেন বলেন, আবহাওয়ার কারণে অনেকের মরিচ গাছ মরে যাচ্ছে। ফলে কেউ কেউ তাড়াহুড়ো করে মরিচ তুলে ফেলছে। এমন চললে বাজারে মরিচের সংকট দেখা দেবে, তাতে বাজারে দাম বাড়বে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ-নবী বলেন, ক্ষেতের পানি দ্রুত অপসারণ করা না গেলে মরিচ গাছে ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। মারা যেতে পারে অন্যান্য সবজি গাছ। এ জন্য জমির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে কার্বেনডাইজিন গ্রুপের ছত্রাকনাশক। মরিচে কোথাও কোথাও পোকামাকড়ের আক্রমণ হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কৃষক যদি পরিমিত মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করেন, তাহলে উপকার পাবেন।
ফারাক্কা ব্যারাজ খুলেছে ভারত: দৌলতপুরে আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের লক্ষাধিক মানুষ
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
ফারাক্কা ব্যারাজের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এ অঞ্চলেও বন্যার আশঙ্কা করছেন উপজেলার চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। যদিও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি দেখা যায়নি।
ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানিতে গত জুলাই মাসে কয়েক দফা পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে চরের বেশ কিছু আবাদি জমিসহ প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। আগস্টের মাঝামাঝিতে পানি কিছুটা কমতে শুরু করে। তবে হঠাৎ করে ভারত ফারাক্কা ব্যারাজ খুলে দেয়ার খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন পদ্মার তীরবর্তী বাসিন্দারা।
এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। চরাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা চার ইউনিয়নের মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুটি সাইক্লোন সেল্টারসহ নদীর কাছাকাছি স্কুল-কলেজের বহুতল ভবনগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে এ সময় উপজেলার চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, মরিচা ও ফিলিপনগর এই চার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে থাকে। এবারও ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে চরের আবাদি ও ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠ। ডুবে গেছে চরাঞ্চলে চাষ করা ধান, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেত। তবে পানি লোকালয়ে এখনো প্রবেশ করেনি। গত সোমবার ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ খুলে দেওয়ার খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ওই চার ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, দৌলতপুর সীমানায় পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা স্বাভাবিক রয়েছে। গত সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার ভাগজোত পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পায়নি। মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ৬২ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ২ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবার সকালে শূন্য দশমিক ০১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে পানির উচ্চতা ১১ দশমিক ৯৯ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৮১ সেন্টিমিটার নীচে।
উপজেলার চিলমারী হাজী পাণ্ডব আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রায়হানুল হক বলেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। তবে সম্প্রতি ফেনীসহ কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ বন্যার কারণে এবার ফারাক্কার ব্যারাজ খুলে দেওয়ার খবরে পদ্মাপাড়ের মানুষের মাঝে বেশি আতঙ্ক কাজ করছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, পদ্মাপাড়ের মানুষদের আতঙ্ক না হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মায় বন্যার বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। ফারাক্কা খুলে দেওয়ার খবরে পদ্মাপাড়ের মানুষদের আতঙ্কিত না হয়ে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।
দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, বন্যা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যসহ অন্যান্য উপকরণ সামগ্রীর সংকট না হয় সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবাইদুল্লাহ বলেন, ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ খুলে দেয়ায় বন্যা দেখা দিতে পারে এই আশঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় আগাম প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। বন্যা দেখা দিলে বিদ্যালয়ের উঁচু ভবনগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভারতীয় ৫ বিদ্যুৎ কোম্পানির কাছে বাংলাদেশের বকেয়া ১০০ কোটি ডলার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাঁচটি ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি বকেয়া হিসাবে বাংলাদেশের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ পাওনা রয়েছে। এদের মধ্যে বড় অংকের পাওনা রয়েছে ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের। সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।
পাঁচ প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো বকেয়া বকেয়া থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, যা দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় বন্ধুত্বের পরিচয় দেয়। তবে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেম এই ব্যবস্থাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে পারে না। কারণ কোম্পানিগুলো তাদের স্টেকহোল্ডারদের কাছে দায়বদ্ধ।
একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী বলেছেন, ‘তবে এটি সারাজীবন চলতে পারে না। কারণ তারাও তাদের স্টেকহোল্ডারদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।’
ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে অনুসারে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সেইল এনার্জি ইন্ডিয়া পাবে প্রায় ১৫ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশের ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি রয়েছে। আরেক প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি তার তিনটি প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৭৪০ মেগাওয়াট সরবরাহ করে। তাদের পাওনা প্রায় আট কোটি ডলার।
মার্চের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কাছে পিটিস ইন্ডিয়ার পাওনা ছিল প্রায় আট কোটি ৪৫ লাখ ডলার। অবশ্য ২৫ আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানি বাংলাদেশের কাছ থেকে চার কোটি ৬০ লাখ ডলার পেয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পাওনা সাত কোটি ৯০ লাখ ডলার। পিটিসি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া বাংলাদেশের কাছে পাওনা রয়েছে দুই কোটি ডলার। এনটিপিসি, এসইএল এনার্জি এবং পাওয়ার গ্রিড এই বিষয়ে ইকোনোমিক টাইমসের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘কিছু কোম্পানির অর্থপ্রদান সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, এর মধ্যে কিছু কয়লা কেনার সাথে সম্পর্কিত।’
আদানি পাওয়ারের একজন কর্মকর্তা পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন। তবে বাংলাদেশের কাছে তারা কী পরিমাণ পাওনা রয়েছেন সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
লোকালয়ে ৮ ফুট লম্বা অজগর, সুন্দরবনে অবমুক্ত
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে এক কৃষকের বসতবাড়িতে পাতা জালে ধরা পড়েছে একটি অজগর। সাপটি লম্বায় ৮ ফুট।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) সদস্যরা সাপটিকে উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করেন।
পূর্ব সুন্দরবনের বন বিভাগের ধানসাগর স্টেশনের গুলিশাখালী টহলফাড়ি এলাকার ভিটিআরটি সদস্য টিম লিডার বারেক হাওলাদার অজগরটি সুন্দরবনে অবমুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, সকালে কৃষক এমাদুল ইসলামের বসতবাড়ির কৃষিক্ষেতে বেড়া দেওয়া জালে একটি অজগর আটকা পড়ে। সংবাদ পেয়ে ভিটিআরটির একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করে। অজগরটি লম্বায় ৮ ফুট, ওজন ৮ কেজি।
গুলিশাখালী টহলফাড়ি ফরেস্ট ক্যাম্পের দায়িত্বরত ফরেস্ট সদস্য আব্দুল বাছেদ জানান, সাপটিকে বিকেলে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বিজেএমসির ২৫ জুটমিল চালুর দাবি শ্রমিকদের
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ জুটমিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন খুলনাসহ দেশের ২৫টি জুটমিলে পুনরায় উৎপাদন চালু ও পাঁচটি জুট মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা ১১০ কোটি টাকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
বন্ধ থাকা মিলগুলো হলো, আলিম জুট মিলস লিমিটেড, ক্রিসেন্ট জুট মিলস লিমিটেড, দৌলতপুর জুট মিলস লিমিটেড, ইস্টার্ন জুট মিলস লিমিটেড, খালিশপুর জুট মিলস লিমিটেড, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল লিমিটেড, স্টার জুট মিলস লিমিটেড, কার্পেটিং জুট মিলস লিমিটেড, যশোর জুট ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেড, সিরাজগঞ্জের জাতীয় (সাবেক কওমী) জুট মিলস লিমিটেড, ঢাকার করিম জুট মিলস লিমিটেড, লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস লিমিটেড, রাজশাহীর রাজশাহী জুট মিলস লিমিটেড, নরসিংদীর চারটি জুট মিল একত্রিত হয়ে ইউএমসি জুট মিলস লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জের জুটো ফাইবার গ্লাস ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড, চট্টগ্রামের দুটি মিল একত্রিত হয়ে আমিন জুট মিলস লিমিটেড, বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড, গালফ্রা হাবিব লিমিটেড, গুল আহমদ জুট মিলস লিমিটেড, হাফিজ জুট মিলস লিমিটেড, কেএফডি লিমিটেড, এমএম জুট মিলস লিমিটেড, আর আর জুট মিলস লিমিটেড ও মিলস ফার্নিসিং লিমিটেড।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক দলের খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের আহ্বায়ক আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, সাবেক সরকার ২০২০ সালে তড়িঘড়ি করে জুটমিলগুলো বন্ধ করে দেয়। এছাড়া খালিশপুর জুট মিলস লিমিটেড, দৌলতপুর জুট মিলস লিমিটেড, জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড, কর্ণফুলী জুট মিলস লিমিটেড ও ফোরাত কর্ণফুলী জুট মিলস লিমিটেডের শ্রমিকদের ২০১৫ সালের মজুরি কমিশনের বকেয়াসহ অন্যান্য পাওনা রয়েছে ১১০ কোটি টাকা। তাদের এ টাকা না দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ ও বন্ধ থাকা ২৫টি মিল চালু করার জন্য অর্ন্তবর্তী সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এসএম শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, কেন্দ্রীয় শ্রমিকদল নেতা আবুল কালাম জিয়া, খুলনা মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মজিবুর রহমান, সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি, মো. আলমগীর তালুকদার প্রমুখ।
নড়াইলের সাবেক এমপি কবিরুলসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নড়াইল প্রতিনিধি
বিস্ফোরক আইনে নড়াইল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বি এম কবিরুল হক মুক্তি ও কালিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খান শামীমুর রহমানসহ ৯৮ জনের নামে মামলা হয়েছে। কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বিশ্বাস নওশের আলী গতকাল সোমবার রাতে মামলাটি নড়াগাতি থানায় মামলাটি করেন।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- কেন্দ্রীয় যুবলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী সরোয়ার হোসেন, নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন বশির, সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী।
মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সংসদ সদস্য বিএম কবিরুল হক মুক্তিসহ অন্য আসামিরা গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে উপজেলার বাগুডাঙ্গা এলাকায় সমাবেশ করেন। তারা অন্তবর্তীকালীন সরকার বিরোধী মিছিল করেন। একই সঙ্গে তারা এলাকার মানুষের মালামাল লুটপাটের চেষ্টা করে। পরে জনমনে ত্রাস সৃষ্টির জন্য বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হলেন তৌহিদুল আরিফ
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল আরিফ। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জননিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
বিসিএস ২৫ ব্যাচের এই কর্মকর্তা এর আগে টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তিনি যোগদান করবেন বলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে ২১ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খানকে বদলি করে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করে জননিরাপত্তা বিভাগ।
অভিভাবকশূন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
স্টাফ রিপোর্টার
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদত্যাগ করেন উপাচার্যসহ ৭০ শিক্ষক-কর্মকর্তা। যাদের অনেকেই বিভিন্ন দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। উপ-উপাচার্য, কোক্ষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। ফলে কার্যতই বর্তমানে অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। অচালবস্থা নিরসনে শিগগিরই উপাচার্য নিয়োগের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
আরও পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি হলের প্রভোস্ট, সিন্ডিকেটের দুইজন সদস্য, শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের পরিচালক, আইকিউএসির পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক।
খুবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্য কোটা আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কঠিন অবস্থার মুখেও সাহসের সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে দেননি কোনো পুলিশ, হতে দেননি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। ক্যাম্পাসে যাতে পুলিশ না ঢোকে সেজন্য সে কঠিন চাপের মুখেও তিনি ছিলেন অনড়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক মো. নাঈম মল্লিক বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনটাই ছিল দেশ সাম্য-সমতার ভিত্তিতে গঠিত হবে। ভিসি স্যার পলিটিক্যালভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত তারপরও তিনি পলিটিক্যাল চর্চা কখনো করেননি। তাই আমরা দাবি করেছিলাম ভিসি স্যারকে থেকে যাওয়ার জন্য। তিনি যেন পদত্যাগ না করেন। যেহেতু ভিসি স্যারের সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হয়। আমরা দাবি করেছিলাম অন্যদের বাদ দিতে। তাই তিনি কাজ না করার অপরাগতা প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন আসুক এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হোক। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের মতো শিক্ষক রাজনীতিও বন্ধ হোক, যোগ করেন তিনি।’
এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রকিবুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপাচার্য নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। যিনিই দায়িত্বে আসুক তার নির্দেশনায় ঐতিহ্যবাহী এই বিশ্ববিদ্যালয় আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশার কথা জানান তিনি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি অনুষদ ও ২৯টি বিভাগে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ হাজার।
বটিয়াঘাটায় পোনামাছ অবমুক্ত
বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি
বটিয়াঘাটা উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় রাজস্ব খাতের আওতায় বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের পোনা বিতরণ করা হয়। উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত কালে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাম, কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আমির আলী, সাংবাদিক এনায়েত আলী বিশ্বাস, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বিএনপিনেতা মোঃ কামরুল ইসলাম, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান, সাংবাদিক গাজী তরিকুল ইসলাম প্রমূখ।
খুলনায় ইমাম হুসাইন (আ.)’র পবিত্র চেহলাম পালিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
পবিত্র বিশে সফর তথা হযরত ইমাম হুসাইন (আ)’র শাহাদাতের চল্লিশা বা চেহলাম বার্ষিকী। হযরত ইমাম হোসাইন (আ.)’র পবিত্র চেহলাম উপলক্ষে ২৭ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে নগরীর আলতাপোল লেনস্থ আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ইমাম বাড়িতে খুলনা বিভাগীয় কর্মসূচী পালন করা হয়। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল আলোচনা সভা এবং শোক ও মাতম মিছিল।
ইমামবাড়িতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শহীদ সম্রাট ইমাম হুসাইনের প্রতি মুসলমানদের অন্তরে প্রোথিত ভালবাসার উত্তাপ কখনও কমবে না বলে মহানবী (সা) তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীতে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর শাহাদাতের আদর্শের চৌম্বকীয় আকর্ষণ দিনকে দিন বাড়ছে।
মানবজাতির ইতিহাসে ইমাম হুসাইন (আ)’র শাহাদাতের মত শোকাবহ কোন শাহাদাত নেই। তাই এ শাহাদাতের ঘটনা সময়ের সীমাকে পেরিয়ে অমরত্বের বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে। স্বয়ং ইমাম হাসান (আ) ইমাম হুসাইনকে (আ) বলেছেন: ‘হে হুসাইন, তোমার শাহাদাতের দিনের মতো কোন শোকাবহ দিন নেই’।
প্রধান বক্তা আরও বলেন, নবী (সা) দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (আ)’র পবিত্র শাহাদাতকে স্মরণ করা একটি ধর্মীয় দায়িত্ব। কেননা ইমাম হুসাইন (আ) ইসলাম ধর্ম রক্ষার জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। সুতরাং ইমাম হোসাইন (আ)’র এই কালজ্বয়ী বিপ্লবকে স্মরণ করে আলোচনা অনুষ্ঠান ও শোক মিছিলের আয়োজন করে জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মনে করি।
বক্তৃতা করেন খুলনা তালিমুল মিল্লাত রহমাতিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এ এফ এম নাজমুস সাউদ। এছাড়া বায়তুশরাফ মজদের খতীব মাওলনা ইব্রাহীম ফয়জুল্লাহ উপস্থিত ছিলে।
অন্যান্যের মধ্যে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ আলী রেজা জায়দী, মাওলানা মোঃ আব্দুল লতিফ, মাওলানা সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, মাওলানা আব্দুল কাইউম, মাওলানা রেজা আলী যায়দী, মাওলনা আলী আকবর, মাওলনা হাসিম আব্বাস, মাওলনা সাজিদুল ইসলাম, মাওলনা শহিদুল হক, মাওলনা মুজাফ্ফর, মাওলনা আবু সাঈদ, মাওলনা শাহদাৎ হোসেনসহ বাংলাদেশের বিশিষ্ট ওলামায়েকেরাম খুলনার বিভাগীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত বিভিন্ন কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ ও মুমিন ভাইয়েরা উপস্থিত ছিলেন।
দাকোপে শ্রীকৃষ্ণের মহা জন্মাষ্টমী পালিত
দাকোপ প্রতিনিধি
দাকোপে সনাতন হিন্দু ধর্মালম্ববীদের মহাবতার ভগবান শ্রী কৃষ্ণের ৫২৫০তম শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। চালনা পৌরসভার বৌমার গাছতলাস্থ উপজেলা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটি এ জন্মাষ্টমী পালনের আয়োজন করেন।
মঙ্গলবার উৎসবটি পালন উপলক্ষ্যে বেলা ১১টায় বৌমার গাছতলাস্থ শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গনে মন্দির কার্য্যনির্বাহী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোবিন্দ বিশ্বাসের সভাপত্বিতে ও সাবেক কাউন্সিলর দেবাশীষ ঢালীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জুবায়ের জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সুকান্ত সাহা, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অসিত কুমার সাহা, সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান, পৌর বিএনপির আহবায়ক মোজাফ্ফার হোসেন, বিমল চন্দ্র বিশ^াস, ডাঃ শিশির বিশ^াস, বিকেন্দ্র নাথ গাইন, মোহন লাল সাহা, ভবেন্দ্রনাথ রায়, সুকুমার বিশ^াস, পরিমল রায়, সুভাষ চন্দ্র হালদার। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন শিবপদ মন্ডল, শিবপদ বৈরাগি, মেরী রানি বিশ^াস, বিউটি সাহা, তাপস রায়, সুকল্যান বাছাড়, বিষ্ণুপদ হালদার, জীবন মন্ডল প্রমুখ। সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা চালনা পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
ঝিনাইদহে জামায়াত কর্মী হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
ঝিনাইদহে ২০১৩ সালে জামায়াত কর্মী আব্দুস ছালাম হত্যার ঘটনায় ৭২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার নিহতের শ্বশুর আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করে। মামলা নাম্বার ৩০।
মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম অপু, তাহজীব আলম সিদ্দিকি সমী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জে এম রশিদুল আলম রশিদ, ডিএসবির সাবেক ওয়াচার মুরাদসহ ৭২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাত দেড়’শ দুইশ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগারের কটুক্তি ও সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে ওলামা মাশায়েখের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে তাদের উপর হামলা করা হয়। হামলা চালিয়ে জামায়াত কর্মী ও মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুস ছালামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মহেশপুর সীমান্তে ঢাকা মহানগর যুবলীগ নেতার ছেলে আটক
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি,
ঝিনাইদহে মহেশপুর সীমান্ত থেকে তারেক আহাম্মেদ অনিক ওরফে ‘কিলার অনিক’ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মহেশপুর-৫৮ বিজিবি। সোমবার (২৬ আগস্ট) ভোরে উপজেলার মাটিলা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
অনিক ঢাকা জেলার বাড্ডা থানার উত্তর বাড্ডা ভাওয়ালিয়া পাড়া সুতীভোলা গ্রামের আবু তাহেরে ছেলে। তার বাবা ঢাকা মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি এবং তিনি ঢাকা ৩৮ নং ওয়ার্ডের যুবলীগের একজন কর্মী।
৫৮ বিজিবির উপপরিচালক মেজর মোল্লা ওবাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম আসামি ‘কিলার অনিক’ মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করবে এমন গোপন সংবাদ ব্যাটালিয়নের একটি চৌকষ টহলদল সীমান্ত নিকটবর্তী মাটিলা গ্রামের জাহাঙ্গীরের বাঁশ বাগানের মধ্যে অবস্থান নেয়। পরে বিজিবি সদস্যরা জানতে পারে মাটিলা গ্রামের হামিদুরের মেহগনি বাগানে একজন লুকিয়ে আছে। এমন খবরে বিজিবি টহল দল ওই এলাকা ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে অনিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি তাকে আটক করে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদে জানা যায় অনিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র হত্যার কারণে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিরূদ্ধে বাড্ডা থানায় দায়েরকৃত একাধিক মামলার তালিকাভুক্ত আসামি। আত্মগোপনের জন্য সে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারত হয়ে ইতালিতে যেতে চেয়েছিলেন।
‘কিলার অনিক’-কে আইনি প্রক্রয়ার মাধ্যমে পুলিশের কাছে সোপর্দের কার্যক্রম প্রক্রয়াধীন রয়েছে বলেন জানান তিনি।
মহেশপুর সীমান্তে সাত কোটি টাকার এলএসডিসহ ৩ চোরাকারবারী আটক
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি,
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে সাত কোটি টাকা মূল্যের ৭ বোতল এলএসডিসহ ৩ চোরাকারবারীকে আটক করেছে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি। মঙ্গলবার (২৭ আগষ্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কুসুমপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন মহেশপুর উপজেলার স্বরুপপুর ইউপির পিপুলবাড়িয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে রিয়াজ,নড়াইল জেলার কালাচাঁদপুর গ্রামের জাফর শেখের ছেলে মোহাম্মদ ইমাম হোসেন,কক্রবাজার জেলার মহেশখালী গ্রামের শের আলীর ছেলে মোবারক আলী।
৫৮ বিজিবির উপপরিচালক মেজর মোল্লা ওবাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, কুসুমপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে লিস্যারজিক এসিডডাই থ্যলামাইড (এলএসডি) মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে কুসুমপুর বিওপির টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার আব্দুস ছালামের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহলদল বিত্তিপাড়া গ্রামের আজাদের আম বাগানে অবস্থান নেয়। দুপুরের দিকে কয়েকজন চোরাকারবারী মাথায় বস্তা নিয়ে ভারত হতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশ করে অগ্রসর হতে থাকে। বিজিবি উপস্থিতি টের পেয়ে বস্তাসহ চোরাকারবারীরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা কালে ৩ জনকে আটক করা হয়। আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে তল্লাশী চালিয়ে ভারত হতে অবৈধভাবে বাংলাদেশ আনা ৭ বোতল এলএসডি (প্রতি বোতল ১০০ এমএল), মোবাইল, জর্জেট শাড়ী, বিভিন্ন প্রকার কসমেটিংক, ঔষধ ও বিভিন্ন মালামাল জব্দ করে। জব্দকৃত মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ৭,৩৪,৬৯,৪০৪/-(সাত কোটি চৌত্রিশ লক্ষ ঊনসত্তর হাজার চারশত চার) টাকা। আটককৃত আসামীদেরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহেশপুর থানায় সোপর্দের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ৫৮ বিজিবির উপপরিচালক মেজর মোল্লা ওবাইদুর রহমান ।
শরণখোলা প্রেসক্লাবের আহায়ক কমিটি গঠিত
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
শরণখোলা প্রেসক্লাবে ২৬আগস্ট সন্ধ্যায় এক জরুরী সাধারণ সভায় পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্তি করে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ইসমাইল হোসেন লিটনের সভাপতিত্বে জরুরী সাধারণ সভায় শেখ মোহাম্মদ আলী (ইত্তেফাক) আহবায়ক এবং মোঃ আনোয়ার হোসেন (নয়া দিগন্ত ও খুলনাঞ্চল) কে সদস্য সচিব করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
১৫ বছরে সম্পদের পাহাড় // মুখোশের আড়ালে খালেকের মহাদুর্নীতি
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
সভা-সমাবেশে বক্তৃতায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঝড় তুলতেন তিনি। সড়কে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে বিটুমিন খুঁড়তেন, ইট ভেঙে যাচাই করতেন মান। এসব ভিডিও ছড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সততার বন্দনা করতেন অনুসারীরা। খুলনার সাধারণ মানুষের ভাবনাও ছিল এমন। কিন্তু প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। এমন মুখোশের আড়ালে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কালো অধ্যায় গড়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের অপসারিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। একদিকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মহানগর সভাপতি হওয়ায় তাঁর নিয়ন্ত্রণেই ছিল খুলনার সবকিছু। এই ক্ষমতা কাজে লাগিয়েই তিনি খুলে বসেন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দরবার। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আইন লঙ্ঘন করে অন্যের লাইসেন্সে নিজেই ঠিকাদারি করতেন তালুকদার আবদুল খালেক। মেসার্স হোসেন ট্রেডার্স, আজাদ ইঞ্জিনিয়ার্স ও মেসার্স তাজুল ইসলাম নামের তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে গত কয়েক বছরে প্রায় ৬০ কোটি টাকার কাজ করেছেন তিনি। ঠিকাদার এইচ এম সেলিম (সেলিম হুজুর) এসব কাজ দেখাশোনা করতেন। এর বাইরে ৫ শতাংশ কমিশনের ভিত্তিতে আরও প্রায় শতকোটি টাকার উন্নয়নকাজ বড় ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করেছেন। আবার লাইসেন্স ছাড়াই পছন্দের ব্যক্তি, আওয়ামী লীগের নেতা ও কাউন্সিলরদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন কোটি কোটি টাকার কাজ। ওই কাজই বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে কিনে নিতে হতো সাধারণ ঠিকাদারদের।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের খরচের কথা বলে চার বছর দুই মাস ধরে কাজের বিলের ১ শতাংশ করে কেটে নেওয়া হয়েছে ঠিকাদারদের কাছ থেকে। বিপুল অঙ্কের সেই টাকা কোথায় খরচ হয়েছে, কেউ জানে না। এক পর্যায়ে বিষয়টি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের জানালে সেই টাকা নেওয়া বন্ধ করা হয়। সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেনের লুটপাটের পেছনেও বড় ভূমিকা ছিল তালুকদার আবদুল খালেকের। অভিযোগ রয়েছে, খালেকের পৃষ্ঠপোষকতায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন আমজাদ। বিনিময়ে ব্যাংকের কয়েক কোটি টাকার শেয়ার লিখে দেওয়া হয় খালেকের নামে। তাঁকে বানানো হয় ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান। পরে ব্যাংকে লুটপাট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে খালেক পদত্যাগ করেন।
আমজাদ হোসেনের মালিকানাধীন মুনস্টার পলিমার এক্সপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও ছিলেন তালুকদার খালেক। শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হলে সেখান থেকেও পদত্যাগ করেন খালেক। এ নিয়ে লেখালেখি করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির খুলনা প্রতিনিধি আবু তৈয়বের বিরুদ্ধে।
আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদে তালুকদার খালেকের দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ ছিলেন নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রকৌশলীরা। তুচ্ছ কারণে অকথ্য ভাষায় গালাগাল থেকে নিস্তার পাননি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীও। বিষয়টি নিয়ে সবার মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছিল।
বেনামে শতকোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ: স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ (সিটি করপোরেশন)-এর ধারা ৯(২) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি মেয়র বা কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হওয়ার অথবা মেয়র বা কাউন্সিলর পদে থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের কাজ সম্পাদন বা মালপত্র সরবরাহের জন্য ঠিকাদার হন। অথবা তারা এ ধরনের কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন বা সিটি করপোরেশনের কোনো বিষয়ে তাদের কোনো ধরনের আর্থিক স্বার্থ থাকে। কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বীরদর্পে ঠিকাদারি করেছেন তালুকদার খালেক।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঠিকাদারি ছিল তালুকদার খালেকের মূল পেশা। ২০০৮ সালে কেসিসির মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১২ সালে প্রথমবার বয়রা কলেজের সামনে সড়ক উন্নয়নের কাজ করেন তিনি। সেই কাজ দেখাশোনা করতেন ভাই জলিল তালুকদার।
২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন খালেক। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র (ওটিএম) আহ্বান হলে কেসিসির প্রকৌশলীদের নির্দেশ দিতেন, নির্দিষ্ট কাজে অন্য বড় ঠিকাদাররা কেউ যাতে দরপত্র জমা না দেয়। আর দিলেও ইজিপির ফাঁকফোকর দিয়ে কাজটি তিনি দিয়ে দিতেন হোসেন ট্রেডার্সকে। হোসেন ট্রেডার্সের নামে মেয়রের ঠিকাদারির বিষয়টি কেসিসিতে ‘ওপেন সিক্রেট’।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, হোসেন ট্রেডার্সের নামে তালুকদার আবদুল খালেক ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বিআইডিসি সড়কের একাংশ, ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রূপসা বেড়িবাঁধ সড়ক উন্নয়ন, ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কে ডি ঘোষ রোড, ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরাতন যশোর রোড, ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিমেট্রি রোড, ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে নিরালা আবাসিক এলাকার পাঁচটি সড়ক উন্নয়নসহ ১৭টি সড়কের ঠিকাদারি করেছেন।
এ ছাড়া আজাদ ইঞ্জিনিয়ার্সের নামে ২ কোটি ৫১ লাখ টাকায় মুন্সিপাড়া তৃতীয় গলি, ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গগন বাবু রোড উন্নয়ন, তাজুল ইসলামের নামে খালিশপুর পিপলস মোড় থেকে গাছতলা মোড় পর্যন্তসহ আরও চারটি কাজ করেছেন।
উন্নয়নকাজ ইচ্ছামতো বাটোয়ারা: দরপত্রে অংশ নিতে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। কিন্তু লাইসেন্স ছাড়াই অন্য নামে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঠিকাদারি কাজ দিতেন তালুকদার আবদুল খালেক। এ পদ্ধতিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানাকে নিরালার আটটি সড়কের ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার, ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে টিবি ক্রস রোড এবং বানরগাতী সড়কের কাজ দেওয়া হয়েছে। মেসার্স তাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ করেছেন তিনি।
বাবুল রানা বর্তমানে আত্মগোপনে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ঠিকাদার তাজুল ইসলাম বলেন, দলের সিনিয়র নেতা হওয়ায় আমি লাইসেন্স দিয়ে সহযোগিতা করেছি। কাজটি তিনি নিজেই করেছেন।
একইভাবে ৫ কোটি ১ লাখ টাকা ব্যয়ে খালিশপুর ১৮ নম্বর রোড উন্নয়নের কাজ দেওয়া হয়েছে খালিশপুর থানার ৯টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে। শাহীদ এন্টারপ্রাইজের নামে দেওয়া কাজটি ২৫ লাখ টাকায় কিনে নেন তাজুল ইসলাম। ওই টাকা ৯ ওয়ার্ডের নেতারা ভাগ করে নেন।
এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ওই সময় কিছু করার ছিল না। টাকা দিয়ে কিনেই কাজ করতে হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতা ও ১৪ দলের কয়েকজন নেতাকে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
নগর ভবন থেকেই নিয়ন্ত্রণ করতেন রামপাল ও মোংলা: বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তালুকদার আবদুল খালেক। কেসিসি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তাঁর স্ত্রী হাবিবুন নাহার। কিন্তু খালেকই রামপাল ও মোংলা উপজেলার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। সভা-সমাবেশে অংশ নিতে রামপালে গেলে ব্যবহার করতেন কেসিসির গাড়ি ও তেল।
নগর ভবনে বসেই ওই দুই উপজেলার সব ঠিকাদারি কাজ ভাগবাটোয়ারা, টিআর বরাদ্দ, উন্নয়নকাজ কীভাবে হবে– নির্দেশ দিতেন। প্রায়ই কর্মকর্তাদের ডেকে আনতেন নগর ভবনে।
১৫ বছরে বিপুল সম্পদের মালিক: ২০০৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, তালুকদার আবদুল খালেকের বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তাঁর কাছে নগদ টাকা ছিল ৫৭ হাজার ৫৫০। সম্পদ বলতে ছিল ব্যাংকে জমা ১৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে ২৮ লাখ টাকা। কিন্তু গত ১৫ বছরে বহু গুণে ফুলেফেঁপে উঠেছে খালেকের সম্পদ। ২০২৩ সালের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খালেকের আয় ২৮ লাখ ১৫ হাজার ৭০২ টাকা। তাঁর কাছে নগদ টাকা আছে ৪ কোটি ৭৯ লাখ। চারটি ব্যাংকে তাঁর জমা ১ কোটি ১৮ হাজার টাকা। এর বাইরে ৩.২১ একর কৃষিজমি, ৩ কাঠা অকৃষিজমি, রাজউকের পূর্বাচলে একটি, কেডিএর ময়ূরী আবাসিকে একটি, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মুজগুন্নি আবাসিকে প্লট রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
গত ৫ আগস্টের পর থেকে তালুকদার আবদুল খালেক আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি কোথায় রয়েছেন, তা কেউই বলতে পারছেন না। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ।
মেয়রের ঠিকাদারি কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এইচ এম সেলিম বলেন, ‘মেয়র সাহেবের সঙ্গে শুধু ডাকবাংলো ও কাস্টমঘাট সড়কের কাজ করেছি। আমার লাইসেন্সে বিভিন্নজন কাজ করেছে। সব কাজ মেয়র সাহেবের বলে চালানো হচ্ছে। এটা ঠিক না।’ আজাদ ইঞ্জিনিয়ার্সের তৌহিদুল ইসলাম আজাদ দাবি করেন, আমাদের লাইসেন্সে অনেকেই কাজ করছেন। তবে মেয়র কোনো কাজ করেননি। ৫ শতাংশ টাকা দিয়ে কাজ কেনা দু’জন ঠিকাদার অর্থ লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কর তাজুল ইসলাম বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। অনেক কিছুই জানি না। তারপরও কোনো অনিয়ম হলে খুঁজে বের করে বিচারের ব্যবস্থা হবে।
হঠাৎ নেতা মিঠুর বিরুদ্ধে পকেটমারার অভিযোগ: থানায় এজাহার
স্টাফ রিপোর্টার।।
দল থেকে পদত্যাগের প্রায় তিন বছর পর নিজেকে বিএনপি নেতা দাবী করে খুলনা চেম্বার অব কমার্স দখলের অপচেষ্টাকারী আরিফুর রহমান মিঠুর বিরুদ্ধে পকেটমারার অভিযোগ এনে খুলনা সদর থানা এজাহার দাখিল হয়েছে। এজাহারকারী খুলনা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মোশারফ হোসেন ২৫ আগস্ট বাদী হয়ে এজাহার করেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এজাহারে বাদী মেসার্স হিমেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী উল্লেখ করেন গত ২৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় এস এম আরিফুর রহমান মিঠু খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র কার্যালয়ে থেকে বের হয়ে যাবার সময়ে চেম্বারের নীচতলার প্রধান গেট থেকে বাদীর সাথে মিঠুর কুশল বিনিময়ের এক পর্যায়ে মিঠু অপমানজনক ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে এবং বাদীর প্যান্টের পেছন পকেটে ২১,০০০/= (একুশ হাজার) টাকা ছিল যার সবটাই নিয়ে মিঠু দ্রুত চলে যায়। বাদী কিছু বুঝে উঠতে পারার আগেই ঘটনাটি ঘটে বিধায় তৎক্ষণাৎ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী দুইজন স্বাক্ষী আছে।
৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর হঠাৎ করে নিজেকে বিএনপি নেতা জাহির করে নগরীতে বেসামাল কর্মকান্ড শুরু করেন মিঠু। মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তিনি আরাফাত এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও দুটি দোকান লুটপাট করেন। মহানগর বিএনপি মিঠু দলের কেউ না উল্লেখ করে তার বেসামাল কর্মকান্ডকে শক্তহস্তে দমনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কয়েকজন জানান, ২০২১ সালে ২৫ডিসেম্বর খালিশপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন এস এম আরিফুর রহমান মিঠু। এরপর তিনি সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাইদের সাথে সু-সর্ম্পক গড়ে তুলে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম হয়। শেখ পরিবারের সহায়তায় ব্যাংক লোন নিয়ে গড়ে তোলেন আরাফাত গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। নিজেই ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।
এদিকে এজাহার সম্পর্কে খুলনা থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, গত ২৫ তারিখে বাদী লিখিত এজাহার পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।











































