Home জাতীয় শোকের মাস

শোকের মাস

34

বিশেষ প্রতিনিধি

বাঙালী জাতির বেদনাবিধুর শোকের মাস আগস্টের আজ ষষ্ঠ দিন। সর্বত্রই শোকের আবহ। রাজধানীসহ সারাদেশেই বিশাল বিশাল কালো পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার টানানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাতে নানা স্লোগান-কবিতা শোভা পাচ্ছে। করোনার কারণে প্রকাশ্য বড় কোন আনুষ্ঠানিকতা বা শোক পালনের ব্যাপক কর্মসূচী না থাকলেও কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতি তাদের হৃদয়ের গভীরতা থেকে স্মরণ করছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, বাংলাদেশ নামক স্বাধীন জাতি রাষ্ট্রের সুমহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শোকের মাসে বাঙালী জাতি এবার পলাতক খুনীদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসি এবং খুনীদের নেপথ্যের দোসর-মদদদাতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে জাতীয় কমিশন গঠনের দাবিতে সোচ্চার। আগস্ট বাঙালীর জীবনে শুধু শোকের নয়, একটি অভিশপ্ত মাসও বটে। এ মাসেই ঘটেছিল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কলঙ্কজনক ঘটনা। ঘাতকদের হাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

দেশে থাকলে তাদেরও জীবন দিতে হতো নরহন্তারক কাপুরুষদের হাতে। কারণ বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার কাউকে বেঁচে না রাখার ভয়াল ষড়যন্ত্র হাতে নিয়ে ১৫ আগস্ট ঘটিয়েছিল জাতীয় বেইমান ও মীরজাফররা। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর আজও হত্যাকারী ও তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। ১৯৮১ সালের মে মাসে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তার পিছু ছাড়ে না। বার বার তাকে হত্যার চেষ্টা চলতে থাকে। চলে একের পর এক নগ্ন হামলা। সর্বশেষ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শেখ হাসিনার এক সমাবেশে চলে আরেকটি নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। মূলত শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ঘাতকরা ওই সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায়। ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের প্রাইম টার্গেট ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। আর ২১ আগস্টের প্রাইম টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধুরই কন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু গ্রেনেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি আবারও মৃত্যুজাল ছিন্ন করে প্রাণে রক্ষা পান। তবে নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড প্রাণসংহার করে আওয়ামী লীগ নেত্রী বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মীর। তাই বর্ষ পরিক্রমায় আগস্ট এলেই সেই রক্তাক্ত স্মৃতিগুলো দেশবাসীর মনে ভেসে ওঠে।

তাই শোকাবহ আগস্ট এলেই ডুকরে কেঁদে ওঠে বাঙালী। বুকের ভেতর বয়ে যায় বেদনার স্রোত। জাতির পিতার নির্দেশেই বাঙালী জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল একাত্তরে, দেশ স্বাধীন করতে, স্বাধিকার রক্ষায়। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছিল মহার্ঘ স্বাধীনতা। আবার সেই স্বাধীন ভূমিতেই জাতির জনককে খুন হতে হলো কিছু ক্ষমতালোভী স্বাধীনতা বিরোধী কিছু পাপিষ্ঠের হাতে, এই আগস্টেই। তাই আগস্ট মানেই শোক, আগস্ট মানেই শোকে আপ্লুত বাঙালীর কান্নাভেজা পরম বেদনায়। আগস্ট এলেই শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসে বাঙালীর মাথা। চারদিকে কেবলই স্রোত নামে শোকস্তব্ধ মানুষের। মানুষ কাঁদে। বেদনায় গান গায়। নামে শোকের মিছিল। কালোয় কালোয়, শোকে শোকে বেদনাবিধুর হয়ে ওঠে গোটা দেশ, দেশের মানুষ। পিতাহীন দেশে, সঙ্কটে উপনীত বাঙালী তাই এখনও আশ্রয় খোঁজে তারই আদর্শে, রেখে যাওয়া কন্যা শেখ হাসিনার পরম ছায়ায়, ভালবাসায়। মুক্তি মেলে মানুষের, তারই স্বপ্নাকাশে। মানুষ যুথবদ্ধ হয়। সম্মিলিত শোক রূপ নেয় শক্তিতে। নতুন করে বেঁচে থাকার নতুন শপথ নেয় বাঙালী। কেননা জীবনের সুখ, স্বস্তি, আরাম, মোহ, অর্থকড়ি- সবকিছু ত্যাগ করার এক মহান মানুষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু। সাধারণ গরিব-দুঃখী মানুষের কল্যাণে কীভাবে একজন মানুষ অবলীলায় বিসর্জন দিতে পারেন নিজের সব চাওয়া-পাওয়া, তার কালজয়ী ইতিহাস রচে গেছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

শোকের মাস আগস্টের নানা কর্মসূচীতে ‘মুজিবের বাংলায়, খুনীদের ঠাঁই নাই’- এ স্লোগানে মুখরিত দেশ। রক্তাক্ত, কলঙ্কিত ১৫ আগস্ট যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই অসংখ্য কর্মসূচীর মাধ্যমে শোকাহত কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতি পলাতক খুনীদের ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদন্ড কার্যকর এবং রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠছে। তবে এবারের শোকের মাসে জনগণের মধ্য থেকে নতুন দাবি উঠেছে- বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পথ যারা রুদ্ধ করেছিল, তাদেরও বিচার করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দোসর ও মদদদাতাদেরও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি উঠছে বিভিন্ন শোকের অনুষ্ঠানে। সোমবার ছিল বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী। তাই জাতীয় শোক দিবসের অন্যান্য কর্মসূচীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগসহ সব সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে শেখ কামালের জন্মদিন পালন করে।