Home Uncategorized তিন উপজেলায় প্রার্থী ১৩ জন: সম্পদে আ’লীগের বাচ্চু, মামলায় এগিয়ে বিএনপির মাসুম

তিন উপজেলায় প্রার্থী ১৩ জন: সম্পদে আ’লীগের বাচ্চু, মামলায় এগিয়ে বিএনপির মাসুম

41


স্টাফ রিপোর্টার
এবারের নির্বাচনে খুলনার তেরখাদা, দিঘলিয়া ও ফুলতলা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ১৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে সম্পদ বেশি তেরখাদার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চুর। তাঁর সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৪ কোটি টাকা। আয় বেশি একই উপজেলার প্রার্থী ও জেলা মৎস্যজীবী লীগের সহসভাপতি আবুল হাসান শেখের। বছরে তাঁর আয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। ঋণ বেশি ফুলতলার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদ হোসেনের। ৭০ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে তাঁর। আর মামলা বেশি দিঘলিয়ার প্রার্থী বিএনপি নেতা গাজী মো. এনামুল হাসান মাসুমের। তাঁর মামলার সংখ্যা ১০টি। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তেরখাদার সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চুর বছরে আয় কৃষি খাত থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া থেকে ৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ প্রার্থীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে হাতে নগদ ৪৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, ১২ লাখ টাকা মূল্যের একটি মাইক্রোবাস, ১২ ভরি স্বর্ণ, একটি পিস্তল ও একটি বন্দুক। যার মূল্য দেড় লাখ টাকা। স্ত্রীর কাছে নগদ রয়েছে ২৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ও ২৫ ভরি স্বর্ণ।
এ ছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৪ দশমিক ৫৫ একর জমি, লবণচরা এলাকায় ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা মূল্যের দশমিক ০৫ একর জমি, কেডিএ আবাসিক এলাকায় ৫৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা মূল্যের প্লট এবং নগরীর পশ্চিম টুটপাড়া এলাকায় ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা মূল্যের ছয়তলা বাড়ি। স্ত্রীর নামে খুলনায় রয়েছে ১ দশমিক ৭৮ একর জমি ও রাজধানীর ধানমন্ডিতে ৪৩ লাখ টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট। আইএফআইসি ব্যাংকে বাচ্চুর ঋণ আছে ১২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
তেরখাদার চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগের আবুল হাসান শেখের বছরে আয় ৪৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আয় ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া থেকে ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা ও ব্যবসা থেকে আয় ৩৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা, ব্যাংকে ৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, ২৫ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি, ২ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ৩ লাখ টাকা মূল্যের আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রী। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫ একর জমি এবং ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্যের দুটি বাড়ি। এ প্রার্থীর নামে কোনো ঋণ এবং কোনো মামলা নেই।

ফুলতলার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদ হোসেনের ব্যবসা থেকে বছরে আয় ১৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা। তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজের কাছে নগদ ৫ লাখ ও স্ত্রীর কাছে নগদ ২ লাখ টাকা, ৩৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের গাড়ি, প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবসহ অন্যান্য সম্পদ এবং স্ত্রীর আট ভরি স্বর্ণ। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে দশমিক ৬০ একর জমির ওপর দোতলা বাড়ি, যার মূল্য অর্ধকোটি টাকা; ২ বিঘা কৃষিজমি ও ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৪৮ শতক অকৃষি জমি। ৭০ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে তাঁর।

দিঘলিয়ার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. এনামুল হাসান মাসুমের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন আইনে মামলা রয়েছে আটটি। এ ছাড়া আগে তাঁর নামে মামলা ছিল আরও দুটি। ব্যবসা থেকে বছরে এ প্রার্থীর আয় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ২ লাখ ও ব্যাংকে ২ লাখ টাকা, ৩৮ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ৮০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাব। স্থাবর কোনো সম্পদ নেই। নেই কোনো ব্যাংক ঋণ।