Home আঞ্চলিক চিত্রার বুকে ফসলের ক্ষেত চলছে দখল ও মাটি কাটা

চিত্রার বুকে ফসলের ক্ষেত চলছে দখল ও মাটি কাটা

36


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
যতদূর চোখ যায় শুধু ধানক্ষেত। মাঝ দিয়ে কিছুটা পানিপ্রবাহ, সেখানেও ধান লাগানো হয়েছে। কোথাও আবার ভুট্টাক্ষেত। কে বলবে, কয়েক বছর আগেও এখান দিয়েই বয়ে যেত স্রোতঃস্বিনী নদী চিত্রা। সম্প্রতি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের তালসার এলাকায় গিয়ে চিত্রা নদীর এমনই চিত্র দেখা যায়।

জেলার কোটচাঁদপুরের তালসার, ইকড়া গ্রাম, সদর উপজেলার গান্না, জিয়ানগর, কালীগঞ্জ শহরের পুরাতন বাজার, বলিদাপাড়া, হেলাই গ্রাম, নিমতলা, নদীপাড়া ও ফয়লা এলাকায় দখল হয়ে গেছে চিত্রা। অনেক স্থানে খননের অভাবে পলি জমে ভরাট হয়েছে তলদেশ। সেই ভরাট নদীর বুকে চাষাবাদ করছে মানুষ। নদীর মাটি কেটে ব্যক্তিগত কাজেও লাগাচ্ছে কেউ কেউ।

চিত্রা নদীর উৎপত্তি চুয়াডাঙ্গার কুড়ুলগাছী গোপালখালীর বিল থেকে। সেখান থেকে প্রবাহিত হয়ে ঝিনাইদহ, যশোর হয়ে নড়াইল সদরের ঘোড়াখালীতে নবগঙ্গা নদীতে মিশেছে চিত্রা। এই নদীর দৈর্ঘ্য ১৩৯ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঝিনাইদহ অংশে পড়েছে প্রায় ৫৭ কিলোমিটার। কাগজে-কলমে চিত্রা নদীর প্রস্থ গড়ে ৮০ মিটার এবং গভীরতা ৫ মিটার। তবে দখল আর ভরাটে এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কোথাও কোথাও আরও কমেছে নদীর প্রস্থ।

চিত্রাকে দখলমুক্ত করতে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে জেলার কালীগঞ্জ শহরের পুরাতন বাজার এলাকায় দখলদারের তালিকা তৈরি শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কিন্তু প্রভাবশালী দখলদারদের বাধার কারণে থেমে যায় সেই কাজ। এরপর আর নদীর ঝিনাইদহ অংশ দখলদারের তালিকা হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, কালীগঞ্জ শহরের হেলাই গ্রাম এলাকায় চিত্রা নদীর মাটি কেটে পাশের নিচু জায়গা ভরাট করছেন প্রভাবশালীরা। জায়গাটির কিছু অংশ নদীর বলে জানান স্থানীয়রা। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি সংশ্লিষ্ট কেউ। পুরাতন বাজার এলাকায় নদীর প্রস্থ কমে প্রায় ২০ মিটার হয়েছে। এখানে নদীর দু’ধারে গড়ে উঠেছে দোকান ও বসতবাড়ি। অভিযোগ রয়েছে, সরকারদলীয় লোকজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদীর জমি দখল করে স্থাপনা তৈরি করছেন।
ঝিনাইদহ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চিত্রা নদীকে ৬৪ জেলা খাল খনন প্রকল্প পর্যায়-২-এর আওতায় তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একনেকে প্রকল্প পাস হলেই দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদী খনন শুরু হবে।’
ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ারুল আজিম আনার বলেন, ‘চিত্রা ঐতিহ্যবাহী একটি নদী। এই নদীর জমি সরকারি দলের কেউ প্রভাব খাটিয়ে দখল করছে– এটা ঠিক নয়। আমার কাছে কেউ এলেই বলি, নদীর জায়গা দখল করা যাবে না। এ ছাড়া নদীটি দখলমুক্ত ও খনন করতে আমি বারবার সচিবালয় ও মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছি। এটি মেগা প্রকল্পের তালিকাভুক্ত রয়েছে। শুধু একনেকে অনুমোদন হলেই খনন ও দখলমুক্ত করার কাজ শুরু হবে।’