Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

60

সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যু

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের মণিরামপুরে বিষধর সাপের কামড়ে তাহেরুন্নেছা (৫৪) নামে এক স্বামী পরিত্যাক্তা নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) দিবাগত ভোর রাতে উপজেলার জালালপুর গ্রামে এঘটনা ঘটে। নিহত তাহেরুন্নেছা ওই গ্রামের মৃত আফসার গাজীর মেয়ে। স্বামী পরিত্যাক্তা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি পিতার বাড়িতে থেকে গৃহ পরিচারিকার কাজ করতেন। তিনি এক কন্যার জননী। স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনসুর আলী সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সোমবার রাতে মশারি টানিয়ে বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন তাহেরুন্নেছা। বারান্দা নিচু হওয়ায় রাত তিনটার দিকে সেখানে সাপ ওঠে। ধারণা করা হচ্ছে, চলাচলের সময় মশারিতে সাপ বাধাগ্রস্থ হয়ে তাহেরুন্নেছার ডান হাতে কামড় বসিয়ে দেয়। তখন বিষের যন্ত্রনায় টের পেয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানান তিনি। পরে স্থানীয় দুইজন কবিরাজ তাকে চিকিৎসা দেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে ভোর রাতে মৃত্যু হয় তাহেরুন্নেছার।

খুলনায় করোনায় মৃতদের দাফন সৎকারে কোয়ান্টাম

স্টাফ রিপোর্টার

বিশ্বব্যাপি করোনা আতঙ্ক। প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনা আক্রান্তে মৃত্যুর সংখ্যা। এসময়ে মানুষের শেষ যাত্রায় পাওয়া যাচ্ছে না তার নিকট আত্মীয়ের দেখা। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃতদেহ পড়ে আছে। কেউ পাশে আসছে না। লাশ রেখে আত্মীয় স্বজন পালিয়েছে। এমন সঙ্কটে পাশে এসে দাড়িয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে এইসব লাশ দাফন ও সৎকার করার দায়িত্ব পালন করেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। দেশব্যাপী কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নানা কর্মসূচি ও পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৩জুন) সকালে করোনা সন্দেহে মৃত্যুবরণকারী নগরীর ইকবাল নগর এলাকার মো. শামসুর রহমানের (৩৫) দাফন কার্য সম্পন্ন করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন খুলনা শাখা। এ কাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে স্বতঃস্ফুর্তভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কোয়ান্টাম খুলনা শাখার প্রশিক্ষিত সদস্যরা। মৃতের বাড়ির আঙিনায় গোসল, কাফন এবং জানাজার ব্যবস্থা করে এই সংগঠনটির সদস্যরা। জানাজা শেষে নগরীর টুটপাড়া করব স্থানে তাকে দাফন করা হয়। এছাড়া গতকাল রূপসা আইচগাতি এলাকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী শেখ আসাদুজ্জামানের গোসল, কাফন, জানাজা এবং দাফন কার্যক্রম করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন খুলনা শাখার অর্গানিয়ার ও করোনা দাফন টিমের সমন্বয়ক মুস্তফা আশরাফ সিদ্দিকী জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর নির্দেশনা মোতাবেক দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করছি। আমরা সৃষ্টির সেবার মানসে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে লাশ দাফনের কাজ করছি। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন খুলনা শাখার ৩০জনের একটি প্রশিক্ষিত সেচ্ছাসেবক দাফন কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা, নিরাপত্তা ও সরঞ্জাম সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। দাফনসামগ্রী, নিরাপত্তা সামগ্রী, জীবাণুনাশকের যাবতীয় খরচ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বহন করছে। কেউ আতঙ্কিত বা হতাশা গ্রস্থ না হয়ে আমাদের টিমকে সহযেগিতা করুন। দাফন কার্যক্রম সঠিক ভাবে সম্পন্ন করতে ০১৭৪০-৯৩৯৯৯৯, ০১৯২৩-৯৯৫৫১১, ০১৭১৪-০৯৮২৫৬, ০১৮৪১-৯৩৯৯৯৯ এই নম্বরে দ্রুত তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। আপনজনেরা শেষ বিদায়ের সময় পাশে থাকুন। প্রিয়জনের উপস্থিতি আমাদেরকেও আপনাদের সমব্যাথি হয়ে কাজটি করতে অনুপ্রাণিত করবে। করোনা সন্দেহে মৃত মো. শামসুর রহমানের মামা শশুর মো. আল-আমিন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় সে মারা যায়। তার জ্বর ছিল, সাথে অন্যান্য রোগও ছিল। তার আত্মীয়-স্বজন কেউ পাশে আসছিলনা। সবাই ভয়ে ভয়ে ছিল। কোন উপায়ন্ত না দেখে আমরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন খুলনায় ফোন করি। তারা সকালে এসে নিকট আত্মীয় মতো গোসল, কাফন, জানাজা এবং দাফনের ব্যবস্থা করে।

আশাশুনিতে ঘুর্ণিঝড় আম্পানে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ একমাসেও পুন:নির্মাণ সম্ভব হয়নি: ভোগান্তি চরমে

খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা

সুপার সাইকোন আম্পানের তান্ডবে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর একমাস অতিবাহিত হলেও বাঁধ পুন:নির্মাণ সম্ভব হয়নি। ফলে ভাঙন কবলিত মানুষের ভোগান্তি পৌছেছে চরমে এবং অসহায় মানুুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে।

সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, শ্রীউলা ইউনিয়নের ভেঙে যাওয়া পাউবো’র বেড়িবাঁধ এখনো পুন:নির্মাণ সম্ভব হয়নি। কিছু স্থানে রিংবাঁধ দিয়ে সাময়িকভাবে কিছু এলাকা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পুনরায় ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। ফলে প্লাবিত এলাকা নদীর জোয়ার ভাটার পানি উঠানামা করায় ঘরবাড়ি, মৎস্য ঘের, জমির ফসল নিয়মিত নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে। লবণাক্ত পানিতে গ্রামের পর গ্রাম নিমজ্জিত ও জলমগ্ন থাকায় মানুষ কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। খোলপেটুয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের জোয়ার-ভাটায় এলাকা এখন একাকার হয়ে গেছে। স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, গবাদিপশু, খামারিদের সম্বল, জমির ফসল ও মৎস্য ঘেরের মাছ ভেসে গিয়ে মানুষকে নি:স্ব করে দিয়েছে। টোং ঘর বেঁধে, বেড়িবাঁধে কিংবা আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাসের স্থায়ীত্ব কত দিনের হবে তা ভেবে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে মানুষ। পরিবারের আয়ের উৎস শেষ সম্বল মাছ ধরার নৌকায়ও কেউ কেউ বাসগৃহ করে ভাসমান বসবাস করছে। এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলেও গেছে কিছু কিছু পরিবার।

প্রতি বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ইউনিয়ন বা গ্রামের মানচিত্র পরিবর্তন হতে হতে ভিন্নচিত্রে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর বাঁধ ভাংছে এবং প্রতি বছর সাময়িকভাবে রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে বাঁধের কাজ করায় এলাকার মানুষ সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে।

সরকার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণের ঘোষণায় এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছে। টেঁকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তড়িৎ পদক্ষেপে আশায় বুক বেধেছে এলাকাবাসী।

আশাশুনি শ্রীউলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল বলেন, দূর্ভাগ্য আমাদের, আজ একটি মাস অতিবাহিত হতে চললো কিন্তু এখনও বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার মানুষ ভীষনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। নিয়মিত জোয়ার ভাটার কারনে কবরের লাশ পর্যন্ত পানিতে ভেসে যাচ্ছে। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার এ প্রতিবেদক কে জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আমরা কাজ শুরু করেছি। ওখানে জিও ব্যাগ ও জিও ২ দিয়ে কাজ করা হবে। ইতিমধ্যে জিও ব্যাগ ও ১টি পনটন চলে এসেছে। আজকালের মধ্যে জিও ২ ও আরেক টি পনটন চলে আসবে এবং আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে পুরোপুরি কাজ শুরু করার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

খুলনায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে করোনা রোগীর মৃত্যু

রূপসা প্রতিনিধি

খুলনায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মোঃ আসাদুজ্জামান (৬০) নামে একজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। খুলনায় এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত মোট ১৪ জনের মৃত্যু হলো। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে খুলনা করোনা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের বালুর মাঠ এলাকায়। রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনিসুর রহমান জানান, আসাদুজ্জামান ৫/৬ দিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন। তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে খুলনা করোনা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, পূর্বে থেকে ওই বৃদ্ধের পরিবারের আট জন সদস্য করোনা আক্রান্ত ছিলেন। আজ বৃদ্ধ ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পেলে পরিবারের সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা প্রশাসনকে কিছু না জানিয়ে করোনা আক্রান্তরাই তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। পথে মারা যাওয়ার পর আমরা জানতে পেরেছি। যত দ্রুত সম্ভব মৃত দেহ দাফন করে সকলকে আইসোলেসনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ফকিরহাটে এপর্যন্ত ২৯জন করোনা রুগী সনাক্ত

ফকিরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের ফকিরহাটে মঙ্গলবারে আরও ৩ জন করোনা রুগী সনাক্ত হয়েছে। এপর্যন্ত ১জন ডাক্তার ও ২জন মেম্বরসহ মোট ২৯জন সনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অসিম কুমার সমাদ্দার জানান, বিগত ১৬ জুনের নমূনা পরীক্ষার ফলাফলে ফকিরহাটে নতুন করে আরও তিনজন সনাক্ত হয়েছেন। এরা হলেন  আহম্মদ কিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের এ্যম্বুলেন্স চালক এনামুল, বাহিরদিয়া- মানসা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর আব্দুল খালেক ও ছোট বাহিরদিয়ার রাজিয়া বেগম (পজিটিভ রোগী জাকারিয়ার মা)। আহম্মদ কিনিকের এ্যাম্বুলেন্স চালককে গত ১৪/১৫দিন পূর্বে তার শারিরিক অসুস্থতার কাররে ছুটি দিয়া হয় বলে কিনিকে আকরাম হোসেন জানান। উল্লেখ্য, ফকিরহাটে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে তবুও সচেতন হচ্ছেনা অধিকাংশ মানুষের।

মাছের সাথে শত্রুতা!

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের মণিরামপুরে ঘেরে বিষ দিয়ে কয়েক হাজার মাছ মেরে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাতে উপজেলার মহাতাবনগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এতে ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘের মালিক অজিয়ার রহমান সরদার। তবে কে বা কারা জঘন্য কাজটি করেছে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অজিয়ার কাশিমপুর গ্রামের মৃত শামছুর রহমান সরদারের ছেলে।

অজিয়ার রহমান জানান, কয়েক বছর ধরে হরিহরনগর ইউপির মহাতাবনগর এলাকায় ৩২ বিঘা এরিয়ার ঘের নিয়ে তিনি মাছ চাষ করে আসছেন। ঘেরে শিং, মাগুর, রুই, মৃগেল, পাঙাশসহ ১০-১২ প্রজাতির দুইশ’ মণের অধিক মাছ ছিল। অজিয়ার বলেন, রাতে ঘেরে পাহারাদার ছিল। তারা ঘুমানোর পর কোন একসময় ঘেরে বিষ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে জেলেরা ঘেরে জাল টানতে গিয়ে মাছ মরে ভাসতে দেখে আমাকে খবর দেন। যেয়ে দেখি সব মাছ মরে শেষ। এতে আমার ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমার সাথে কারো কখনো শত্রুতা ছিল না।

অজিয়ারের চাচাতো ভাই কাশিমপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিনুল হাসান শিল্পি বলেন, এতবড় ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না। অজিয়ার ভাল মানুষ। কারও সাথে তার কোন শত্রুতা নেই। পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। মণিরামপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, ঘেরে বিষ দিয়ে মাছ মারার ব্যাপারে আমাদের কেউ জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মণিরামপুরে জুটমিল কর্মকর্তা ও গাড়ি চালক করোনা আক্রান্ত

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের মণিরামপুরে নতুন করে দুইজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের একজন অভয়নগরের নওয়াপাড়া জুট মিলের সহকারী প্রডাকশন অফিসার এবং অপরজন মাইক্রোবাস চালক। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে যশোর সিভিল সার্জন অফিস থেকে তাদের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে।

আক্রান্ত মিল কর্মকর্তার বাড়ি উপজেলার কাশিমনগর গ্রামে এবং মাইক্রোবাস চালকের বাড়ি বালিয়াডাঙা খানপুরে। মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মুসাব্বিরুল ইসলাম রিফাত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার মণিরামপুরে দুই জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। আক্রান্ত দুই ব্যক্তির নাম মোফাজ্জেল হোসেন (৫০) ও আব্দুস সোবহান ড্রাইভার (৪৫)।

এই নিয়ে মণিরামপুরে করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা ১৮। তাদের মধ্যে ১১ জন সুস্থ হয়েছেন। বাকিরা নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। আক্রান্ত মোফাজ্জেল হোসেন মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে জানান, তিনি অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। ১০ জুন থেকে তার জ্বর জ্বর অনুভব হয়। এরপর কাঁশি শুরু হয়। গত ৮ দিন আগে তিনি কাশিমনগরে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। এরপর রোববার (২১ জুন) মণিরামপুর হাসপাতালে গিয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। মঙ্গলবার সকালে মোবাইল ফোনে জানানো হয় তিনি করোনা আক্রান্ত। মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, গত দুই দিন ধরে হালকা জ্বর ও কাঁশি আছে। বাড়িতে আসার পর থেকে আমি আলাদা ঘরে থাকছি।

এদিকে করোনা আক্রান্ত সোবহান ড্রাইভার বলেন, অনেকদিন ধরে কাঁশি হচ্ছে। কয়দিন আগে গাড়ি ধুয়েছি। এরপর জ্বর আসে। রোববার (২১ জুন) হাসপাতালে গেলে ডাক্তাররা নমুনা নেয়। পরে খবর আসে আমি করোনা আক্রান্ত। খবর আসার পর থেকে আলাদা ঘরে থাকছি। দুটো মেয়ে আছে। এই খবর শুনে তারা খুব কান্নাকাটি করছে। এখন হালকা কাঁশি আছে কিন্তু জ্বর নেই। মণিরামপুর উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, নতুন আক্রান্ত দুইজনের বাড়ি লকডাউনসহ তাদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাতের মুঠোয় কাঁচাবাজার অ্যাপের আরও একটি ভ্রাম্যমাণ ভ্যান যুক্ত হলো

তথ্য বিবরণী

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসাধারণের ঘরে বসে শাক-সবজি ও ডিম-দুধ প্রাপ্তির লক্ষ্য নিয়ে  ‘হাতের মুঠোয় কাঁচাবাজার’ অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডারকৃত বাজার সামগ্রী ডেলিভারির জন্য আরও একটি ভ্রাম্যমাণ ভ্যান যুক্ত হলো। মঙ্গলবার সকালে ডিসি অফিস প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন নতুন ভ্যানটির কার্যক্রম উদ্বোধন এবং উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাপটির মাধ্যমে খুলনা মহানগরের বাসিন্দারা ঘরে বসে বিষমুক্ত, তাজা শাক-সজবি, মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম ক্রয় করতে পারবেন।

খুলনা মহানগরীর মধ্যে যে কোন বাসিন্দা শাক-সবজি, ডিম, মাংস ও দুধের অর্ডার করলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাসা-বাড়িতে প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছে দিবে।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিয়াউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এসএম আউয়াল হক এবং বাজার কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্ভাবনী উদ্যোগটিতে খুুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস এবং খুলনা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরসহ ঘরে বসে কৃষি বাজার ও ডিজিটাল সুন্দরবন প্রোটিন হাউজ নামের দু’টি উদ্যোক্তা সংগঠন সহযোগিতা করছে।

এই কর্মসূচির ফলে করোনাকালীন দুর্যোগের এই মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব যেমন বজায় থাকবে তেমনি কৃষিপণ্য উৎপাদনকারীরা তাঁদের পণ্য বিক্রিতে সুবিধা পাবেন। ক্রেতারা ভিড় এড়িয়ে ঘরে বসে বিষমুক্ত এবং তাজা পণ্য কিনতে পারবেন। গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘হাতের মুঠোয় কাঁচা বাজার’ অ্যাপটি সহজেই ডাউনলোড করা যাবে।

খুলনায় পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

তথ্য বিবরণী

খুলনায় পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের নিয়ে মঙ্গলবার খুলনা সার্কিট হাউজ সম্মেলনকক্ষে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখা এবং লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-৩) এর সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক   মোঃ ইকবাল হোসেন। এসময় তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সরকার এবং উন্নয়ন সংস্থার নেয়া বিভিন্ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গ্রামের মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সরকারি নির্দেশনা পালনে সচেতন করতেও চেয়ারম্যান ও সচিবদের এগিয়ে আসতে হবে। এই সংকটকালীন সময়ে জরুরি প্রয়োজনে পরষ্পরের সাথে দ্রুত যোগাযোগের জন্য তিনি সকলকে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের খুলনা জেলা সমন্বয়ক শ্যামল রায় এবং কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার প্রকল্পের জেলা সমন্বয়ক মোঃ ইকবাল হাসান।

পরে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন চেয়ারম্যান ও সচিবদের মাঝে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিরতণ করেন।

মোংলা বন্দরকে আবারো অস্থিতিশীলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কতিপয় শ্রমিকনামধারী নেতা

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

শ্রমিক নামধারী কতিপয় ব্যক্তি আবারো মোংলা বন্দরকে অস্থিতিশীলের ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিগত ১/১১ এর সময়ে বিলুপ্ত হওয়া মোংলা বন্দদর শ্রমিক সংঘের তৎকালীন নেতারা ওই সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে শ্রমিক ও বন্দর নিয়ে নানা ধরণের অপ্রপচার ও বন্দর অচলের নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বর্তমানে মোংলা বন্দরে শ্রমিকদের সুবিধার্থে মোংলা বন্দর শ্রমিক কর্মচারী সংঘ নামের একটি বৈধ সংগঠন রয়েছে। সেই সংগঠনই শ্রমিক- কর্মচারীদের ন্যার্য্য দাবীর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের স্বার্থ প্রতিষ্ঠাতায় কাজ করছেন। কিন্তু বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারক তৎকালীন শ্রমিক সংগঠনটি বিলুপ্ত ঘোষণা করার পরও বিলুপ্ত সংগঠনের নেতা একেএম শাহাবুদ্দিন, মাহাবুবুর রহমান মানিক ও ফরিদুল আলম মজুমদারসহ আরো কয়েকজন তথাকথিত শ্রমিক/কর্মচারী মোংলা বন্দর ও শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ভূয়া কাগজপত্র প্রেরণ করে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিরি সৃষ্টি করে চলেছেন। এ চক্রটি বন্দরের বৈধ শ্রমিক সংগঠনের নেতা না হলেও তারা নিজেদের নেতা দাবী করে বিলুপ্ত ভূয়া সংগঠনের পরিচয়বহনের পাশাপাশি সিল ও প্যাড ব্যবহার করে ফায়দা লুটছেন। যা মুলত ফৌজদারী অপরাধের সামিল। এ চক্রটিতে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা সকলেই বিএনপির পদধারী নেতা-কর্মী। এরাই বিগত বিএনপি সরকারের আমলে শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে অহেতুক আন্দোলনের নামে বিভিন্ন জায়গা থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এসকল নেতাদের মোংলা শহর ও শহরতলীতে একাধিক বাড়ী ঘর রয়েছে। রয়েছে নানা ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। এ চক্রের ষড়যন্ত্রেও কারণে বিএনপির আমলে এ বন্দরটি মৃত বন্দরে পরিণত হয়। বন্দরের শ্রমিকদের উস্কানী দিয়ে হরতালসহ নানা ধরণের কর্মসূচী দিয়ে বন্দরকে অস্থিতিশীল করে তোলে তারা। ফলে তৎকালীল বিএনপি সরকারও এ বন্দর থেকে তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন।

মৃত প্রায় সেই মোংলা বন্দরকে পুনরায় সচল করেন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, স্থানীয় সাংসদ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহারের প্রচেষ্টায় এ বন্দর লোকসান কাটিয়ে এখন লাভবান ও কর্মব্যস্ত বন্দরে রুপ নিয়েছে। সেই সাথে সহযোগীতা করেছেন আমদানী-রপ্তানীকারকেরাও। চট্টগ্রামমুখী ব্যবসায়ীদের এ বন্দরমুখী করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগ নেন।

বন্দরটি যখন লাভের পথ ধরে ধীরে ধীরে আধুনিক ও অধিকতর কর্মব্যস্ত হয়ে উঠছে ঠিক তখনই ১/১১এর সেই মাফিয়া চক্রের দোষরোর কথিত শ্রমিক পরিচয়ে বন্দরকে অচলসহ শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পায়তারায় চালাচ্ছেন।

কতিপয় এ দুষ্ট চক্রের হাত থেকে বন্দরকে এবং বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের রক্ষায় বন্দর ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে বন্দরের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে। অভিযোগ দেয়ার পর অনেক দিন পেরিয়ে গেল সে সকল চিহ্নিত মাফিয়া চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যার ফলে তারা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। যার ফলে অপরাধ অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে যা আর আলোরমুখ দেখছেনা।

১/১১ এর মাফিয়া চক্রের তালিকায় থাকা কতিপয় বন্দর ব্যবহারকারী এ চক্রটিকে উন্ধন দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিলুপ্ত মোংলা বন্দর শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক একেএম শাহাবুদ্দিন বলেন, তারা যেটি করছেন সেটি আইন সিদ্ধ। এ বিষয়ে দুই একদিন পরে রিপোর্ট করেন সকল কাগজপত্র দিবো।

এদিকে বন্দরের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খুলনা বিগাভিয় শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মো: মিজানুর রহমানও মোংলা বন্দর শ্রমিক কর্মচারী সংঘ নামের রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত নতুন ট্রেড ইউনিয়ন ছাড়া অন্যান্য কোনটি কার্যকর নয় বলেও অভিহিত করেছেন। এর আগে মোংলা বন্দর শ্রমিক সংঘ নামে যেটি ছিল সেটি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে সেটির কোন কার্যক্রম গ্রহণ যোগ্য নয়। কেউ সেটির পরিচয় বহন করলে তা হবে বেআইনি।

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগিয় শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মো: মিজানুর রহমান বলেন, বিলুপ্ত সংগঠনের নামে ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন দপ্তরে যে চিঠি দিচ্ছেন এবং পরিচয়বহন করছেন এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ফৌজদারি অপরাধও। তাদের বিষয়ে বন্দরের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মুলত ব্যবস্থা নিবেন বন্দর চেয়ারম্যান। তিনি আরো বলেন, তাদের এ অবেআইন কার্যক্রম সম্পর্কে খুলনা বিভাগিয় কমিশনার, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে অবহিত করার পাশাপাশি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, শ্রম অধিদপ্তর আমাদেরকে জানিয়েছে দিয়েছে মোংলা বন্দর শ্রমিক সংঘ নামের সংগঠনটি অবৈধ আর মোংলা বন্দর শ্রমিক কর্মচারী সংঘ নামক সংগঠনটি বৈধ। সুতরাং যেটি অবৈধ আমরা তো সেটিকে আমলে নেই না। তাদেরকে কোন চিঠিও দিই না। অবৈধটা তো অবৈধই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার তো কিছু নেই।

করোনা উপস্বর্গ নিয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

ফুলতলা প্রতিনিধি

খুলনায় করোনা উপস্বর্গ নিয়ে বিমলেন্দু চক্রবর্তী (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে খুলনার ফুলতলার একটি স্থানীয় কিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। শিক্ষক বিমলেন্দু চক্রবর্তী ফুলতলার পার্শ্ববর্তী সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের ধুলগ্রামের বাসিন্দা ও ধুলগ্রাম মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, শিক্ষক বিমলেন্দু চক্রবর্তী দীর্ঘদিন যাবৎ হার্ট ও কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার থেকে তিনি জ্বও ও গায়ে ব্যাথা অনুভব করছিলেন। সোমবার বিকালের পর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফুলতলার স্থানীয় একটি কিনিকে আনলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।

অপরদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজের আরএমও ডাঃ মিজানুর রহমান জানান, কিনিকে আসার পূর্বেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমলেন্দু চক্রবর্তী মারা গেছেন।

এদিকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ সাদিয়া জামান মধ্যরাতেই মৃতঃ বিমলেন্দু চক্রবর্তীর নমুনা সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য বিধি মেনেই নিজ গ্রামে পুলিশের উপস্থিতিতে তার সৎকার সম্পন্ন করা  হয়।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সিটি মেয়র: সরকারের গৃহিত কর্মসূচি সফল করতে শেখ হাসিনার পাশে থাকতে হবে

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, আওয়ামী লীগের সৃষ্টি হয়েছিলো বলেই বাংলাদেশ ও বাঙালি স্বাধীন হয়েছিলো। শোষিত ও বঞ্ছিত মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতেই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিলো। আর এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে নিজের জীবনের বাজি রেখেই পাকহানাদার বাহিনী এবং রাজাকাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর সংবিধানকে বার বার বিতর্কিত করতে ’৭১ এর পরাজিত শত্রুরা ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালিয়েছে। আজ আওয়ামী লীগে কর্মী বেড়েছে। কিন্তু দু:সময়ের কর্মীদের কথা মনে রাখতে হবে। অনেকেই আছেন দু:সময়ে যারা পাশে থাকবেন তারাই প্রকৃত মুজিব সৈনিক। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের মত তৃণমূলের সংগঠন ছিলো বলেই দেশ ও জাতির উন্নয়নে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ কঠিন দু:সময়ে অত্যন্ত সাহসি এক বাজেট জাতির উন্নয়নে পেশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র বিমোচন সহ অসহায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে এ বাজেট জাতিকে উপহার দিয়েছেন। দারিদ্র বিমোচনে এ বাজেট পেশ করায় মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। সরকারকে সহযোগিতা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেকারনে করোনার মত এতবড় দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে থাকতে হবে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, আর প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা আধুনিক বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। তিনি সমুদ্র সীমা অর্জন করেছেন, সিটমহল সমস্যার সমাধান, পদ্মাসেতু নির্মান, বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট স্থাপন, রহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার সৃষ্টি করে বিশ্বনন্দিত হয়েছেন। তার এই অর্জনকে ঘরে ঘরে পৌছে দিতে হবে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, যার যার এলাকায় সকল মানুষের খোঁজ খবর রাখতে হবে। যারা করোনা আক্রান্ত হবে, তাদের নিজ বাসভবনে নিরাপদে রেখে অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের গৃহিত কর্মসূচি সফল করতে শেখ হাসিনার পাশে থাকতে হবে।

গতকাল সোমবার বিকাল ৫টায় খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত কুমার অধিকারী। সভা পরিচালনা করেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ। সভায় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড. কাজী বাদশা মিয়া, বিএমএ সালাম, এ্যাড. রজব আলী সরদার, নুর ইসলাম বন্দ, আকতারুজ্জামান বাবু এমপি, মো. আশরাফুল ইসলাম, কামরুজ্জামান জামাল, শ্যামল সিংহ রায়, জামাল উদ্দিন বাচ্চু, এ্যাড. ফরিদ আহমেদ, এ্যাড. খন্দকার মজিবর রহমান, অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, অধ্যা. মিজানুর রহমান, কামরুল ইসলাম বাবলু, মালিক সরোয়ার উদ্দিন, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম, কাউন্সিলর ফকির মো. সাইফুল ইসলাম, তসলিম আহমেদ আশা, অধ্যক্ষ দেলোয়ারা বেগম, অসিতবরণ বিশ্বাস, মো. মোতালেব মিয়া, রনজিত কুমার ঘোষ, শফিকুর রহমান পলাশ, শেখ মো. আবু হানিফ, এস এম খালেদিন রশিদী সূকর্ণ, হাবিবুর রহমান দুলাল, জামিল খান, কাজী কামাল হোসেন, অভিজিৎ চক্রবর্তী দেবু, পারভেজ হাওলাদার, এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল, মো. ইমরান হোসেন, ইখতিয়ার হোসেন মোল্লা, মাহমুদুর রহমান রাজেশ, মাহমুদুল ইসলাম সুজন সহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দ্দী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, জাতীয় চারনেতা, ৭১এর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের এবং করোনায় মৃত্যুসহ সকল নেতাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে সকাল ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়।

সম্পূর্ণ অনাড়ম্বরভাবে বিভিন্ন মন্দিরে পুরোহিত দ্বারা পূজার মাধ্যমে আজ শুরু

খবর বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় খুলনা মহানগরের বিভিন্ন মন্দিরে যেমনÑশ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ মন্দির, টুটপাড়া গাছতলা মন্দির, ইসকন-খুলনার রাধামাধব মন্দির, শ্রীশ্রীশীতলাবাড়ী মন্দির, খুলনা বাজার কালীবাড়ী মন্দিরসমূহে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সীমিত সংখ্যক সেবায়েতের উপস্থিতিতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুরোহিত দ্বারা শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখা’র পক্ষ থেকে সংগঠনের সভাপতি শ্যামল হালদার ও সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কু-ু খুলনাবাসীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জনিয়েছেন। আগামী ১ জুলাই ’২০ বুধবার উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠান পর্যন্ত প্রতিদিনই মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানাদি চলমান থাকবে। শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা চলাকালীন প্রতিদিন পূজার সময় মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে দেশবাসী তথা বিশ্ববাসীকে রক্ষার জন্য প্রার্থনা করা হবে। এবার রথযাত্রা অনুষ্ঠান ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারে নির্দেশনা মেনে এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির পরামর্শে আলোক সজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ উৎসব বলতে যা বুঝায় সবকিছু পরিহার করে শুধুমাত্র মন্দিরের ভিতরেই মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। আগামী ১ জুলাই ’২০ উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠানও শুধুমাত্র পূজার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে। দৌলতপুর পাবলা গাছতলা মন্দির, আড়ংঘাটা থানার রূপুরে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠানও একইভাবে পালিত হবে। এ উপলক্ষে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ মন্দির কর্তৃপক্ষ শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠানের অর্থ সাশ্রয় করে করোনা ভাইরাসের কারণে অসহায় মানুষের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান শুরু করেছেন। আজ শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ মন্দিরে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের পূজায় অংশগ্রহণ করেনÑবাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি ও শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ মন্দিরের ট্রাস্টি পোপী কিষাণ মুন্ধড়া, খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কু-ু, ট্রাস্টি’র শ্যামল সিংহ রায়, শরৎ কুমার মুন্ধড়া, পুরোহিত বিজয় ব্যানার্জী, সঞ্জয় আগরওয়ালা, সঞ্জনা আগওয়ালা, সুরেশ আগরওয়ালা, সুমিতা আগরওয়ালা, মীরা আগরওয়ালা, প্রকৌঃ পরিমল দাস, মহেন্দ্র নাথ সেন, সুরেশ রাম, মুকেশ রাম, সুশীল দাস, লিটন চক্রবর্ত্তী, সজল দাস প্রমুখ।

খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

খবর বিজ্ঞপ্তি

যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার কৃতি সন্তান সাবেক ছাত্রনেতা পারভেজ মল্লিক সুদূর লন্ডনে থেকেও এলাকার মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থেকে কাজ করে চলেছেন। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এই মহামারী করোনা ভাইরাসের মধ্যেও অসহায় কর্মহীন হাজার হাজার মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।  বিএনপি নেতা পারভেজ মল্লিকের এই ভালো কাজকে একটি কুচক্রী মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ বিভিন্ন ভাবে তার ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী পারভেজ মল্লিকের বিরূদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিদাতারা হলেন মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবু, সিনিঃ সহ সভাপতি তারেক হাবিবুল্লাহ, জেলা ছাত্রদলের সিনিঃ সহ সভাপতি জুলকার নাঈম, ইফতেখার জামান নবীন, শামীম আশরাফ, মুনিমুর রহমান নয়ন, আব্দুল্লাহ কিমিয়া সাদাত, শরিফুল ইসলাম সাগর, আল আমিন তালুকদার প্রিন্স, মফিজুল ইসলাম মিঠু,  আব্দুল্লাহ আল মামুন, মল্লিক জাহিদুল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, রবিউল আলম, মোঃ ফিরোজ আহমেদ, সৈয়দ আব্দুল্লাহ, শাকিল আহমেদ, আশিকুর রহমান আশিক, মাসুম বিল্লাহ, শেখ মসফিকুর হাসান অভি, আরিফুর রহমান আরিফ, মাহিম আহমেদ রুবেল, হেলাল উদ্দিন, আজিজুর রহমান, মামুনুর রহমান, রাজিবুল আলম বাপ্পী, মোঃ ফারুক হোসেন, মাহমুদুল হাসান মুন্না, রাজু শেখ, আতাউর রহমান তাজ, ইমরান হোসেন, আব্দুল আহাদ শাহীন, ইসমাইল হোসেন খান, মাসুদ রানা, রাজু আহমেদ রাজ, আরিফুর ইসলাম, শরীফ চৌধুরী সোহেল, হৃদয় হোসেন রিপন, মিজানুর রহমান শাকিল, শামীম রেজা,  আশিক মাহমুদ নকিব, ফারহান শিকদার, কৃষ্ণ বিশ্বাস, হাফিজুর রহমান সাগর, মোঃ ইমরান খান, শেখ আল আমিন হোসেন, শাহিন আলম, আবু হানিফা সুমন, মোঃ নাজিম উদ্দিন, মশিউর রহমান তুষার, তুহিন ইসলাম, শেখ আল মামুন, এবাদত হোসেন, নাজমুল হোসেন  আশিকুজ্জামান তুফান, ইসরাফিল বাবু, মাহমুদুল আলম লোটাস, তানভীর আলম, খালিদুর রহমান, সাব্বির খান, আলী আজগর অন্তু, রায়হান খান, মোঃ আলী নেওয়াজ, রুবেল ফকির, আতাউর রহমান, বায়েজিদ হোসেন প্রমুখ।

কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষায় মংলায় কঠোর অবস্থানে নৌবাহিনী

খবর বিজ্ঞপ্তি

করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ রোধকল্পে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা পালন নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট তাদের টহল আরো জোড়দার করেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের অংশ হিসেবে মোতায়েনকৃত নৌ কন্টিনজেন্ট মংলায় সামাজিক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিগরাজ বাজার, বুড়িরডাঙ্গা, মিঠাখালি, হাসপাতাল চত্ত্বর ও ফেরিঘাট এলাকায় টহল পরিচালনা করে। এছাড়া মোংলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহায়তা প্রদান করে।

এসময় মোটরসাইকেল চালক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতা সাধারণকে মাস্ক পরিধান না করা ও  সামাজিক দূরত না মানার  জন্য মোট সতের হাজার নয়শত টাকা জরিমানা করে। অপরদিকে নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা জেলা সদর, আমতলী, বামনা ও তালতলী এলাকায় নিয়মিত টহল প্রদান করে। উপজেলাসমূহের বিভিন্ন স্থানে ১৫০টি সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করে। সাধারণ জনগণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, একান্ত প্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে অবস্থানের ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক পরিধানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সাধারণ জনগণকে গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারী নীতিমালা অনুসরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়। সরকার নির্ধারিত সময়ের পর সকল বাজার, দোকান-পাট, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ রাখতে ও নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুতে এবং ঘন ঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ব্যবসায়ীদের বোঝানো হয়। এছাড়া অফিস আদালত, বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল, রেল স্টেশন ও মার্কেটে প্রবেশের পূর্বে জীবাণুনাশক ট্রেতে পা রেখে জীবাণুমুক্ত হয়ে প্রবেশের জন্য জনগণকে সচেতন করা হয়।

যুবদল নেতা রাজিবের পিতার ইন্তেকাল : মহানগর বিএনপির শোক

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা মহানগর যুবদলের প্রকাশনা সম্পাদক আশিক মাহমুদ তালুকদার রাজিবের পিতা আলহাজ্ব আবুল বাশার তালুকদার (৭৬) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না….রাজিউন)। সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় নগরীর একটি স্থানীয় কিনিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গতকাল মঙ্গলবার যোহর বাদ নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাযা শেষে তাকে টুটপাড়া সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আশিক মাহমুদ তালুকদার রাজিবের পিতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিদাতারা হলেন বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, এড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এস এম আরিফুর রহমান মিঠু ও ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ। অনুরূপ বিবৃতি প্রদান করেছেন  ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বদরুল আনাম ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মিজুসহ ওয়ার্ড কমিটির সকল সদস্য।

চা স্টলের আড্ডা বন্ধ করায় পুলিশের ওপর ডিম নিক্ষেপ!

স্টাফ রিপোর্টার

পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া অন্যসব দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে মহানগরীর ফুলবাড়ীগেট বাজারে চায়ের দোকানে চলতো আড্ডা। সোমবার (২২ জুন) পুলিশ এই আড্ডা বন্ধ করে দেয়। এর জের ধরে পুলিশের ওপর ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। পরে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কমকর্তা ও বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিদের বৈঠকে মীমাংসা হয়। বৈঠকে করোনা পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান বাদে চা, ভাঙ্গারির দোকানসহ ফুটপাতের সব দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এসআই বিধান চন্দ্র সানা বলেন, রেললাইনের পাশে ফারুকের চায়ের দোকানে বেবিট্যাক্সি চালক ইউনিয়নের নেতা রওশন ১০-১৫ জন নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাদেরকে নিষেধ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর ডিম নিক্ষেপ করে। এ বিষয়ে ফুলবাড়ীগেট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি বেগ লিয়াকত আলী বলেন, ফুলবাড়ীগেট বাজারে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি বণিক সমিতি কঠোরভাবে মনিটরিং করে। এর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, কাঁচাবাজার, মৌসুমী ফলের দোকান ও ফার্মেসি ছাড়া অন্য দোকানপাট, শপিংমল ও ফুটপাতের দোকান বন্ধ থাকবে। এসব দোকান খুললে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে বাজার বণিক সমিতি কোনও দায় নেবে না বলে জানান তিনি। ঘটনার পর দৌলতপুর জোনের এসি সহকারী পুলিশ কমিশনার বায়োজিত ইবনে আকবর, খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নকল স্যাভলন: গোপালগঞ্জে দুই প্রতিষ্ঠানকে সোয়া লাখ টাকা জরিমানা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে নকল স্যাভলন মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠনকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৭৫ লিটার নকল স্যাভলন জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে অভিযান চালিয়ে নকল স্যাভলন জব্দ ও জরিমানা করেন ভ্রাম্যামাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দিন দিপু।

শেখ সালাউদ্দিন দিপু জানান, নকল স্যাভলন বিক্রির সংবাদের ভিত্তিতে জেলা শহরের বীণাপাণি স্কুল রোডের বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালানো হয়। ওই দোকান থেকে নকল স্যাভলন জব্দ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বাজারে অবস্থিত মেসার্স মা-বাবা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ নকল স্যাভলন জব্দ করা হয়।

নকল স্যাভলন মজুদ করে জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করার অপরাধে মা-বাবা এন্টারপ্রাইজকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নকল স্যাভলন বিক্রির দায়ে বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরো জানান, অভিযানকালে প্রায় ৭৫ লিটার নকল স্যাভলন উদ্ধার করা হয়। এক লিটার স্যাভলনের দাম সেখানে ২৫০ টাকা, সেখানে নকল স্যাভলন প্রতি লিটার ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। এসব স্যাভলনের বোতলের স্টিকার বদলে উৎপাদন তারিখ পরিবর্তন করে নতুন স্টিকার লাগানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মহেশ্বর রায়। জব্দকৃত স্যাভলনগুলো এসিআই কোম্পানির নয় বলে নিশ্চিত করেছেন এসিআই’র গোপালগঞ্জের ম্যানেজার।

ঐতিহ্য হারাচ্ছে শীতল পাটি, করোনায় দুর্দিনে পাটিকর

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

‘পেয়ারা আর শীতল পাটি’ এই নিয়ে ঝালকাঠি। যারা শীতল পাটি তৈরি করেন তাদের ‘পাটিকর’ বলা হয়। প্লাস্টিকের পাটির চাহিদা বৃদ্ধিতে এমনিতেই পাটিকরদের সুদিন ফুরিয়েছে। মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে করোনাভাইরাস। করোনার কষাঘাতে জর্জরিত ঝালকাঠির তিন শতাধিক পাটিকর পরিবার। সচেতন মহলের দাবি, সরকারের উচিত করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত এই শিল্পসংশ্লিষ্টদের প্রণোদনা দিতে হবে। পাটি বিক্রির মৌসুমে পাটিকরদের জন্য বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি অচিরেই হারিয়ে যাবে। জেলার রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি ‘পাটি গ্রাম’ নামে পরিচিত। এই গ্রামে অধিকাংশ পাটিকরের বাস। গ্রামবাসীর জীবিকার প্রধান অবলম্বন পাটি তৈরি করে বিক্রি করা। গরমে সবচেয়ে বেশি পাটি বিক্রি হয়। সেই হিসেবে এটি পাটি বিক্রির মৌসুম। অথচ করোনার কারণে গ্রাহক নেই পাটি গ্রামে। খুচরা বিক্রি টুকটাক হলেও পাইকাররা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসতে পারছে না পাটি কিনতে। ফলে বিক্রি নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোটায়। এতে পাটিকররা পড়েছেন চরম দুরবস্থায়। এই ভরা মৌসুমে পাটি তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করবেন নাকি সংসার সামলাবেন- এই দুশ্চিন্তায় পাটিকরদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। 

গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি ক্রমশ বাজার হারাচ্ছে। এই দুশ্চিন্তাকে সঙ্গী করেই পাটিকরেরা বংশ পরম্পরায় এই পেশা বেছে নেয়। ফলে অন্য পেশার সঙ্গে তারা দ্রুত সম্পৃক্ত হতে পারে না। পুঁজির অভাব এর অন্যতম কারণ। স্থানীয় তপন ও বিজয় পাটিকর বলেন, সরকারি সহযোগিতায় অল্প সুদে ঋণ পেলে এবং সরকার বাজারজাত করণের উদ্যোগ গ্রহণ করলে শীতল পাটির বাজার পুনরায় ফিরে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু এই করোনা আমাদের সব আশা ভরসা শেষ করে দিচ্ছে।

হাইলাকাঠি গ্রামসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ৮-১০ বছরের শিশুরাও নিপুণ কারুকাজে পাটি তৈরি করছে। তারা পরিবারে বড়দের কাজে এভাবেই সাহায্য করে। এই গ্রামের চিকন বেতির শীতল পাটির চাহিদা রয়েছে। পাইত্রা বা মোর্তা নামে এক ধরনের বর্ষজীবী উদ্ভিদের কা- থেকে বেতি তৈরি করা হয়। পরিপক্ক গাছ কেটে পানিতে ভিজিয়ে রেখে তারপর কা- থেকে পাটির বেতি তোলা হয়। এরপর ভাতের মাড় ও পানি মিশিয়ে বেতি জ্বাল দেওয়া হয়। এতে বেতি হয়ে ওঠে মসৃণ এবং সাদাটে। বেতির উপরের খোলস থেকে শীতল পাটি, নিচের অংশ তুলে বুকার পাটি এবং অবশিষ্ট অংশ ছোটার (চিকন দড়ি) কাজে ব্যবহার করা হয়।

গ্রামের শত শত হেক্টর জমিজুড়ে রয়েছে পাটিগাছের বাগান। এখানে শীতল পাটি, নামাজের পাটি ও আসন পাটি নামে তিন ধরনের পাটি তৈরি করা হয়। পাটির বুনন পদ্ধতি প্রধানত দুই ধরনের। পাটির জমিনে ‘জো’ তুলে তাতে রঙিন বেতি দিয়ে নকশা করা পাটি এবং পাটির জমিন তৈরি হলে তার চারপাশে অন্য বেতি দিয়ে মুড়ে দেওয়া পাটি। শৈল্পিক উপস্থাপনা এবং নির্মাণ কুশলতার কারণে দুই ধরনের পাটিরই দেশে চাহিদা রয়েছে। এমনকি এই পাটি বিদেশের রপ্তানি হয়। যদিও শীতল পাটি এদেশের রপ্তানীযোগ্য পণ্যের স্বীকৃতি আজও পায়নি। একটি পাটি বুনতে ৩-৪ জনের দুই দিন সময় লাগে। বিক্রি করে পাঁচশ থেকে হাজার টাকা পাওয়া যায়। পাইত্রা চাষ ও কেনার জন্য মূলধন প্রয়োজন। এ জন্য পাটিকরেরা মহাজন বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। মহামারির এই কালে ঋণের সুদ পাটিকরদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঞ্জু রানী পাটিকর হিসেবে কাজ করছেন দীর্ঘদিন। এই পেশায় এমন দুর্দিন তিনি এর আগে কখনও দেখেননি। মঞ্জু রানী বলেন, এ বছর মেলার বিক্রিও নাই! গ্রামেগঞ্জে মেলা বসে নাই এ বছর। অথচ ঋণ নিয়ে পাইত্রা কিনে পাটি তৈরি করে রেখেছিলাম বৈশাখের মেলায় বিক্রির জন্য। এখন সুদ টানতে হচ্ছে। সরকার বিনাসুদে ঋণ দিলে আমাদের খুব উপকার হতো।

পাটি শিল্পী সমিতির সভাপতি বলাইচন্দ্র পাটিকর বলেন, সরকার কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসএমই খাতের আওতায় ঋণ দিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫ জন পাটিকর ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ পেয়েছে। তবে বিনাসুদে ঋণ দিলে আমরা উপকৃত হতাম।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, ‘চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিপণন ত্রুটি থাকায় বছরের একটা সময় পাটিকরদের বসে থাকতে হয়। করোনা অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো তাদেরও দুর্ভোগে ফেলেছে। আমরা সরকারের অতি দরিদ্র কর্মসৃজন কর্মসূচির মাধ্যমে পাটিকরদের কাজের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’ এখন পাটিকরদের পাটি বিক্রি বন্ধ থাকায় তাদের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

নরসিংদীর সুস্বাদু লটকন, ১৭০ কোটি টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

লটকন। একসময়ে একে জংলি ফল বলা হতো। বনে-বাদাড়ে ঝোপ-ঝাড়ে জন্ম নেওয়া গাছে ধরে থাকতো এ ফল। তেমন একটা কদর ছিল না। তবে সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ ফলের পুষ্টিগুণ সবার জানা হয়ে গেছে। তাই কদর বেড়েছে বহুগুণে। বাণিজ্যিক চাষের পাশাপাশি দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। পুষ্টিবিদদের মতে, মানুষের শরীরে একদিনে যে পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ প্রয়োজন মাত্র তিন-চারটি লটকন সে চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। ছোট এ ফলটি ভিটামিন ‘বি-টু’, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদানে ভরপুর। যা এই করোনাকালে আমাদের সবার শরীরের জন্য খুবই উপকারী। সুস্বাদু টক-মিষ্টি লটকনের কথা এলেই নরসিংদীর নামটা আগে আসে। কারণ এ অঞ্চলের লটকন অন্য যে কোনো জেলা থেকে মিষ্টি এবং রসালো হয়। এখানকার বেলে ও দো-আঁশ মাটিতে ফলটির ফলন ভালো হয়। সেজন্য এ জেলার মানুষজন লটকনের বাণিজ্যিক চাষের দিকেই বেশি ঝুঁকেছেন। প্রতিবছরই বাড়ছে বাড়ানের সংখ্যা ও এর উৎপাদন। আর্থিকভাবে বেশ লাভবানও হচ্ছেন চাষিরা। লটকন চাষ করে ভাগ্যবদল হয়েছে হাজারো কৃষকের। এবার ফলন ভালো হলেও মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ন্যায্য দাম পাবে কি-না তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন চাষিরা। স্থানীয়দের কাছে এ ফলটিকে ‘বুগি’ নামে বেশি পরিচিত। গাছটির কা- থেকে বের হওয়া এ লটকনের থরে থরে ঝুলে থাকার দৃশ্য যে কারোরই চোখ জুড়িয়ে যাবে। বর্ষায় ভিজে থাকা প্রকৃতিতে এ দৃশ্য আরও বেশি ফুটে ওঠে।

লটকন গাছ সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে রোপণের উপযুক্ত সময়। বর্ষার শেষের দিকে মানে ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও গাছ লাগানো যায়। লটকনের গাছ ঝোপের মতো হয়ে থাকে। প্রতিবছর মাঘ-ফাল্গুনে লটকনগাছে মুকুল আসা শুরু হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে এ ফল পরিপক্ক হয়ে থাকে। এটি চাষে তেমন কোনো খরচ নেই। স্ত্রী গাছ লাগিয়ে দিলেই হয়। সময়ে সময়ে একটু পরিচর্যা করতে হয়। গোড়ার চারদিকে জৈব সার দিলে ফলন ভালো হবে। পিঁপড়া বা পোকামাকড়ের হাত থেকে ফল বাঁচাতে ছত্রাকনাশক দিতে হয়। নরসিংদী জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার শিবপুর, বেলাবো ও রায়পুরা উপজেলার লাল রংয়ের মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান, তাই এখানে লটকনের ভালো ফলন হয়। চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে লটনকন বাগান করা হয়েছে। যা প্রতি হেক্টরে ১৫ টন হারে ২৪ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন (এক টন সমান ১০১৬ কেজি) লটকনের ফলন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ। আর উৎপাদিত এ লটকন পাইকারি ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কৃষি অফিস জানায়, রোপণের তিন বছরের মধ্যে ফলন আসে এ গাছে। ফল দেয় টানা ২০ থেকে ৩০ বছর। লটকন গাছের রোগবালাই তেমন দেখা যায় না। ফল সংগ্রহের ৬০ দিন আগে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম পটাশ পানির সঙ্গে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিলে ফলের মিষ্টতা ও আকার বাড়ে। এ ফল চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিক্রির জন্য কোনো টেনশন করতে হয় না। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লটকন কাঁচা থাকা অবস্থায় বাগান থেকেই কিনে নেন। বাগান কেনার পদ্ধতিও চমৎকার। প্রথমে বাগানের মালিকের কাছ থেকে একদল পাইকার দাম-দর করে বাগান ক্রয় করেন, পরে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পাকা লটকন বাগান থেকে সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। প্রকারভেদে পাইকারি মণ প্রতি দাম ওঠে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। যা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে এখানকার সু-স্বাদু এ লটকন ফল। কিন্তু এ বছর মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে লটকন হয়তো দেশের বাইরে রপ্তানি করার সম্ভব হবে কি তা নিয়ে সংশয় রয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

এদিকে মৌসুমী এ ফলের বেচাকেনাকে ঘিরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল ও শিবপুর উপজেলা সদরে বসছে লটকনের বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ক্রেতারা এসে এসব বাজার থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন লটকন। পর্যায়ক্রমে হাত বদল হয়ে লটকন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বাজারে। অনেকে সরাসরি বাগান থেকে লটকন কিনে সরবরাহ করছেন।

শিবপুর উপজেলার জয়নাগর ইউনিয়নের কামরাব গ্রামের আলমগীর হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, কম খরচে লাভজনক ফসলের মধ্যে একমাত্র হলো লটকন। লটকন বাগান শুরু করতে প্রথমে খরচ বেশি পড়লেও পরবর্তি সময়ে বিঘা প্রতি ১০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। সে তুলনায় লাভ বেশি হয়। এছাড়া লটকন ফলের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট হচ্ছে গাছের কা-ে ফল ধরে। কখনও কখনও এত বেশি ফল আসে যে গাছের ডাল পর্যন্ত দেখা যায় না। একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে ৫ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বেলাব উপজেলার লাখপুর গ্রামের মানিক মোল্লা জানান, লটকন ফল বিক্রির ভাবনা ভাবতে হচ্ছে না তাদের। স্থানীয় বাজার ছাড়াও লটকনের ফল ধরার পর জমিতেই পাইকারি বিক্রি করে দেওয়া যায়। পাইকাররা বাগান থেকেই লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দুই একর জমিতে লটকন বাগান  করেছেন। এ বছর একটি লটকন বাগান ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং আরেকটি বাগান ৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাছাড়া শিবপুর ও মরজাল বাজারেও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ক্রেতারা আসছেন লটকন নিতে।

নরসিংদীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক শোভন কুমার ধর বলেন, লটকন চাষ বৃদ্ধিতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চারা উৎপাদন করাসহ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া লটকনে রোগ বালাইয়ের তেমন সংক্রমণ না হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম ফলনও ভালো হয়। বাজারে লটকনের ন্যায্য দাম পাওয়ায় লটকনচাষিও লাভবান হচ্ছেন।

সাতক্ষীরার সন্তানদের বিষ খাইয়ে মায়ের আত্মহত্যা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজ দুই কন্যাশিশুকে বিষ খাইয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা। তবে, দুই সন্তানের একজন বেঁচে আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) রাত ৮ টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের কালিয়ানি ছয়ঘরিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। সাতক্ষীরা সদর থানার (ওসি) তদন্ত আবুল কালাম আজাদ জানান, গৃহবধূ তাজমীরা খাতুন (২৮) এর সাথে তার শাশুড়ি রোজিয়া খাতুনের পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে গৃহবধূ তাজমিরা খাতুন তার দুই মেয়ে ফাতেমা খাতুন (৭) ও মেহেরুন  খাতুন (২) কে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়ান। তিনি নিজেও ওই গ্যাস ট্যাবলেট খান। এরপর স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে রাতে সদর হাসপাতালে আনার পথে গৃহবধূ তাজমিরা ও তার মেয়ে ফাতেমা মারা যান। এরপর স্থানীয়দের দেয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করেন। তবে, তার দুই বছরের মেয়েটি সুস্থ আছেন বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, মা ও মেয়ের লাশের ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে গৃহবধূ তাজমীরার শ্বাশুড়ি রোজিয়া খাতুনকে পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বাগেরহাটে ৪ স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত, কিনিক লকডাউন

মাসুম হাওলাদার, বাগেরহাট

বাগেরহাটের চিতলমারীতে নতুন করে আরো ৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। চারজনই চিতলমারী শান্তি সেবা সদন নামের কিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী। ওই কিনিকটি উপজেলা প্রশাসন লকডাউন ঘোষণা করেছে। আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মারুফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন হাসান জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় গত ১৯ জুন (শুক্রবার) ওই কিনিকের মালিক ডা. তাপস কান্তি পোদ্দারসহ ৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। নমুনা পরীক্ষা শেষে ২১ জুন ওই কিনিকের ৪ স্বাস্থ্য কর্মীর রিপোর্ট করোনা পজেটিভ আসে।এদের মধ্যে ৩জন পুরুষ (তাদের বয়স যথাক্রমে ২২, ৩৫ ও ৩৮) ও একজন নারী (৩৬)। এরপরই ওই কিনিকটি উপজেলা প্রশাসন লকডাউন ঘোষণা করে। আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেয়ার নির্দেশ দেয়। তবে কিনিকের মালিক ডা. তাপস কান্তি পোদ্দারের শরীরে করোনা সংক্রমণের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। এ নিয়ে চিতলমারীতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ জনে। এদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও একজন নারী। এর আগে যারা আক্রান্ত ছিলেন তারা সবাই বাইরে থেকে চিতলমারীতে এসেছিলেন।আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জন সুস্থ হয়েছেন।

ঝিনাইদহে ইস্কন মন্দিরে জগন্নাথদেবের হোম কৃষ্ণযজ্ঞ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) মন্দিরে জগন্নাথদেব এর হোমকৃষ্ণ যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়ার বুলুমিয়া সড়কের ইস্কন মন্দিরের জেলা শাখায় এ যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। সারা বিশ্বের মানুষের করোনা থেকে মুক্তি পেতে দেশ ও জাতীর মঙ্গল কামনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ত্রিভঙ্গ মুকুন্দ দাস ব্রক্ষচারী জানান, ইস্কন সারা বিশ্বের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বানী প্রচার এবং সামাজিক ও ধর্মীয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই অনুষ্ঠান। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সহ-সভাপতি আশুতোষ মজুমদার, সদস্য দূর্লভ বলরাম দাস ব্রক্ষচারী, গোপাল দাস, তরুণ মুন্সিসহ ভক্তবৃন্দ।

হাটগোপালপুর দোকান মালিক সমিতির সভাপতির ইন্তেকাল, শোক প্রকাশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর শাখার সভাপতি ডা. মুহাম্মদ আলী (৭০) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ পুত্র ও ৪ কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি প্রায় ৩ বছর যাবৎ হার্ট এর রোগে ভুগছিলেন। ঢাকা ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।তার মৃত্যুতে এলাকার সর্বস্থরের মানুষের মাঝে  শোকের ছোয়া নেমে এসেছে। মরহুমের জানাজা শেষে নিজ বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছয়াইল গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাদ এশা দাফন সম্পন্ন হয়। ডা. মুহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন পদ্মাকর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও হাটগোপালপুর বাজারের পাট ও ভুষিমাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সৈয়দ নিজামুল গণি লিটু, ঝিনাইদহ প্রেসকাবের সহ-সভাপতি ও এস এ টিভির জেলা প্রতিনিধি ফয়সাল আহমেদ, বাজার দোকান মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক  ডা. এস এ জি মিল্টন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ছাপ্পা, কোষাধ্যক্ষ মাহফুজুর রহমান মিল্টন, সদস্য সাইফুল ইসলাম ,তপন কুমার মৌলিক, জুয়েল রানাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

পাইকগাছায় আওয়ামীলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

পাইকগাছা প্রতিনিধি

পাইকগাছায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, আলোচনাসভা ও দোয়ানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগের ৭১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।  এ উপলক্ষ্যে উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক এমপি এড. সোহরাব আলী সানা। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য শেখ কামরুল হাসান টিপুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবউদ্দীন ফিরোজ বুলু, আওয়ামীলীগ নেতা বিজন বিহারী সরকার, প্রভাষক ময়নুল ইসলাম, জি এম ইকরামুল ইসলাম, এস এম রেজাউল হক, পৌর আ’লীগের সদস্য সচিব হেমেশ চন্দ্র মন্ডল, পবিত্র মন্ডল, স্বেচ্ছাসেবকলীগের উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক তৃপ্তি রঞ্জন সেন, যুবলীগ নেতা এম এম আজিজুল হাকিম, গৌরাঙ্গ মন্ডল, পরেশ মন্ডল, জগদিশ রায়, মানবেন্দ্র মন্ডল, দীপংকর মন্ডল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ, ছাত্রলীগ নেতা মৃনাল কান্তি বাছাড়, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম মশিয়ার রহমান, মোঃ আবু হানিফ সোহেল, গৌতম রায়, মোঃ ইদ্রিস আলী, মোঃ মাসুদুর রহমান মানিক, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজ রাজু, সাধারন সম্পাদক রায়হান পারভেজ রনি, শাহিন শাহ বাদশা, মোঃ রাশেদুজ্জামান রাসেল, মুক্ত অধিকারী প্রমুখ। আলোচনা সভা পুর্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও জাতির পিতার পরিবারসহ এ পর্যন্ত যে সকল দলীয় নেতাকর্মীর মৃত্যু বরন করেছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

পাইকগাছার দেলুটিতে মুজিব জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষ্যে মুজিব কর্ণার নির্মাণ ও বাই-সাইকেল বিতরণ

পাইকগাছা প্রতিনিধি

পাইকগাছার দেলুটিতে মুজিব জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষ্যে মুজিব কর্ণার নির্মাণ ও বাই-সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় দেলুটি ইউনিয়ান পরিষদ মিলনায়ে উপজেলা পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায়-এ ডি পি এর অর্থায়নে দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদে মুজিব কর্নার নির্মাণ ও সকল গ্রাম পুলিশদের মধ্যে সাইকেল বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান গাজী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য যথাক্রমে প্রীতিলতা ঢালী, চঞ্চলা রাণী মন্ডল, ডালিম রায়, কিংশুক রায়, রবীন্দ্রনাথ মন্ডল, চম্পক বিশ্বাস, সুকুমার কবিরাজ, নিরাপদ দফাদার, আশীষ কুমার হালদার, বিশ্বজিত রায়, সুপদ্য কুমার রায় ও রণধীর মন্ডল সহ সকল গ্রাম পুলিশ সদস্যগণ। চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল করোনা মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র ৩১ দফা নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ মেনে চলার জন্য সকলকে অনুরোধ করেছেন।

শিরোমনি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি

শিরোমনি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ২৩ জুন মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় অনুষ্ঠিত হয় । উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় অফিস কক্ষে ম্যানেজিং কমিটির এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদ হোসেন , বিশেষ অতিথি ছিলেন  ৩৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খ.ম লিয়াকত আলী,বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য শেখ আঃ সালামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন  বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি শেখ আবজাল হোসেন, শেখ জাকির হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা মল্লিক , সহ প্রধান শিক্ষক শাম্মি আকতার, রাবেয়া থাতুন, ফেরদৌসি খানম,  মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহান অভি, বুলবুল, মাহমুদ, টিটো , আঃ রহমান , সানি, শরিফুল প্রমুখ । শেষে দোয়া পরিচালনা করেন শিরোমনি পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ।

গিলাতলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও করোনা আক্রান্ত  রোগীর মধ্যে  খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি

গিলাতলা নজরুল থিয়েটার কাবের উদ্যোগে সোমবার সকাল ১০ টায় গিলাতলা বাজারঘাট এলাকায় চলাচলরত ৫০ টি ইজিবাইক চালক শ্রমিকদের মধ্যে স্বাস্থসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয় । এ সময় উপস্থিত ছিলেন  গিলাতলা নজরুল থিয়েটার কাবের সভাপতি খান জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খান রিয়াজুল ইসলাম রাজা, সহ সভাপতি খান বাদশা, সহ সাধারণ সম্পাদক বিপ্লপ সরকার, শেখ রেজাউল করিম, সরদার আনোয়ার হোসেন, সজিব খান, এনায়েত আলী প্রমুখ । এদিকে গিলাতলা নজরুল থিয়েটার কাবের পক্ষ থেকে গিলাতলা ৫ নং ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়ার  করোনা রোগী ইন্তাজ শেখের বাড়িতে গত রবিবার সন্ধায় খাদ্রসামগ্রী পাঠানো হয় । নজরুল থিয়েটার কাবের সাধারণ সম্পাদক খান রিয়াজুল ইসলাম রাজা করোনার প্রাদুর্ভাব হওয়ার পর থেকে  নজরুল থিয়েটার কাবের সদস্যদের নিয়ে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রীসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করে আসছে।

শরণখোলায় ট্রলির চাপায় ভ্যান চালক নিহত

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় ট্রলির চাপায় ভ্যান চালক নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রায়েন্দা তাফালবাড়ী সড়কের ছোট হুজুরের মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায়। জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল ১০টার দিকে রায়েন্দা বাজারের চটপটি ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের ছেলে ভ্যান চালক আলী হোসেন (২২) তাফালবাড়ী থেকে রায়েন্দা বাজারে আসছিল। ওই সময় তাফালবাড়ীগামী একটি সিমেন্ট-বালু বোঝাই ট্রলি ছোট হুজুরের মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় আসা মাত্র আলীর ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এতে আলী ছিটকে সিমেন্ট-বালু বোঝাই ট্রলির নিচে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে বিকেল ৩টার দিকে খুলনা যাওয়ার পথে মোড়েলগঞ্জ ফেরি ঘাট এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

আজ মতিয়ার রহমান তালুকদারের নবম মৃত্যু বার্ষিকী

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক ও গবেষক সেলিনা শিউলী এবং শরণখোলা প্রেসকাবের প্রচার, প্রকাশনা ও দপ্তর সম্পাদক এবং মানবকন্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি সাবেরা ঝর্ণার পিতা সাবেক এ্যাপোলো ফার্মাসিউটিক্যাল লেবরেটোরি লিঃ এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টার ও সমাজ সেবক মোঃ মতিয়ার রহমান তালুকদারের আজ ২৪ জুন নবম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শরণখোলার উত্তর কদমতলা তালুকদার বাড়িতে কুরআন খানি ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া মতিয়ার-জাহানারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দু:স্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হবে। উল্লেখ্য মতিয়ার রহমান তালুকদার দীর্ঘদিন সীমা ও রিবাক ফার্মাসিউটিক্যালের গুণগত মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি পাকিস্তান আমলে তার গ্রামের প্রথম মেট্রিকুলেশন পাশ করেছিলেন। গ্রামের সামাজিক উন্নয়নেও তিনি  ভূমিকা রেখেছেন।

মহেশপুরে আওয়ামীলীগের ৭১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৭১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদর্যাপন উপলক্ষে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সুচনা করা হয়। পরে দলীয় কার্যালয়ে জাতিক জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিত্বে পুস্পমাল্য অর্পন-আলোচনা সভা ও দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুল আজম খান চঞ্চল। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর সুলতানুজ্জামান লিটন,পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অমল কুমার কু-ু,মুকুল চৌধুরী,ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ডাঃ আতাউর রহমান,জেলা কৃষকলীগের যুগ্ন সম্পাদক আলহাজ্ব শরিফুল ইসলাম,জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এম এ আসাদ,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার রবিউল আওয়াল,উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম,উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও পৌর কাউন্সিলর কাজি আতিয়ার রহমান,যুগ্ন আহবায়ক ইয়াকুব আলী,উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুর রহমান প্রমুখ।

বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফকিরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস আলী শেখ এর সভাপতিত্বে ও ইউপি সচিব এস এম দাউদ আলীর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার প্রদিপ কুমার মন্ডল, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য প্রতিনিধি সঞ্চয় কুমার নন্দী, মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান, হাইসাওয়া প্রতিনিধি তানিয়া বেগম, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা রাফেজা বেগম, সন্ধ্যা রানী দাশ, কামরুন্নাহার নীপা, ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান তুহিন, জামাল উদ্দিন ফকির, আলমগীর হোসেন, ফোরকান শিকারী, আব্দুর রাজ্জাক, অসিত দাশ, অজয় বিশ^াস, পুষ্পল দাশ ও নির্মলেন্দু দেবনাথ প্রমখ। সভায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তরান্বিত করা সহ ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ জেলার শ্রেষ্ট পরিষদ হিসাবে নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়।

ইন্দুরকানীতে শতাধিক ফলজ গাছ কেটে জমি দখল

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর ) প্রতিনিধি

ইন্দুরকানী উপজেলার চরনী পত্তাশী এলাকায় আদম আলী শেখের জমির শতাধিক ফলজ গাছ কেটে জমি দখল করে নিয়ে যায় অজিৎ ও অমল মন্ডল । অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার উপজেলা প্রদত্ত অঞ্চলে চরনী পত্তাশীতে অমল মন্ডলের নেতৃত্বে ২০/৩০জন বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে দেশীও অস্ত্র দাও,কুড়াল নিয়ে বাড়ীতে এসে মহরা দেন । পরে প্রতিপক্ষকে তারিয়ে দিয়ে শতাধিক ফলজ গাছ কেটে  অবৈধ ভাবে জমি দখল করে এবং ঘর তোলে । আদম আলী জানান, আমরা বিমল মন্ডলের কাছ থেকে ২৫ বছর আগে এই জমি ক্রয় করি ।  সেই জমিতে ফলজ গাছ পালা লাগাইয়া ভোগ দখল করি। অজিৎ, অমল, বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে গাছ পালা কেটে আমাদের জমি দখল করে নেয় এবং জোরপূর্বক ভাবে ঘর তোলে। অমল মন্ডল জানান,ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন আমাদের জমি বেশি খাওয়ায় সেই জমি দখল করে আমরা ঘরবাড়ী তুলি। ইন্দুরকানী থানার এস আই হেমায়েত হোসেন জানান, থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে দুই একদিনে মধ্যে কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে ।

ইন্দুরকানীতে আ”লীগে ৭১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

ইন্দুরকানী(পিরোজপুর )প্রতিনিধি

ইন্দুরকানীতে আ”লীগে ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। উপজেলা আ”লীগের উদ্যোগে সকালে জাতীয়,দলীয় পতাকা উত্তোলন, দোয়া ও আলোচনা সভা করা হয় ।  এসময় এ্যাডঃ এম মতিউর রহমানে সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আ”লীগের সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান সেলিম, আ”লীগ নেতা মৃধা মনিরুজ্জামান, মাহমুদুল হক দুলাল, সাইয়েদুর রহমান, মনিরুজ্জামান শিকদার , মাহবুব ফকির, আজিজ হাং, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আঃ রাজ্জাক, সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ইকরামুল শিকদার , ছাত্রলীগ সভাপতি আতিকুর রহমান ছগির, সাধারন সম্পাদক নেওয়াজ খান প্রমুখ ।

মোড়েলগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হয়রানিমূলক মামলা

এম.পলাশ শরীফ, মোড়েলগঞ্জ

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও কৃষক পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের চরহোগলাবুনিয়া গ্রামের আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার নতুন ভবনের চলমান কাজ শুরু হলে মুদি ব্যবসায়ী সুমন ফরাজী দোকানের লেনদেনকে কেন্দ্র করে ১৭ জুন বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাইট কন্টাকটর ফিরোজ শেখের সাথে সুমনের বাকবিতান্ডা হয়। তাক্ষনিক স্থানীয়ভাবে তা সমাধান হয়।

 পরবর্তীতে এ তুচ্ছ ঘটনাটিকে ভিন্নরুপে দোকান চুরি ও মারপিটের অভিযোগ এনে সুমন ফরাজী বাদি হয়ে ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বৃদ্ধ লতিফুর রহমান ছেলে রেজাউল ইসলাম ও সহকারি শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে আসামি করে  ১৮ জুন থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ হয়রানিমূলক মামলা হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃদ্ধ লতিফ হাওলাদার, কৃষক আবু বকর হাওলাদার, খায়রুল চৌকিদার, বাচ্চু তালুকদার, বারেক হাওলাদারসহ তারা বলেন, প্রকৃত ঘটনাটি তদন্ত করলে বাস্তত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। পাশাপাশি এ মামলার হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে মামলার আসামিরা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অপর দিকে এ বিষয়ে লতিফ হাওলাদার বাদি হয়ে সুমন ফরাজীর বিরুদ্ধে মারপিট ও হুমকির অভিযোগ এনে পাল্টা একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এ সর্ম্পকে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই রেজাউল ইসলাম বলেন, চরহোগলাবুনিয়া মারপিট ও দোকান চুরির মামলার তদন্ত করা হয়েছে। পাল্টাও একটি অভিযোগ হয়েছে সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে সুমন ফরাজীর ০১৭৮৩৯৯৪৯২১ নম্বরে চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।  

মোড়েলগঞ্জের নিশানবাড়িয়ায় উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে খাদ্যসহায়তা প্রদান

মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে করোনা ভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়া এক হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্যসহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে ধারাবাহিকতায় ৫৫ পরিবারকে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান যুবলীগের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোজাম, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক পৌর যুবলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ, আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন বাদল, মালেক গাজী, ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, যুবলীগ নেতা আনিচুর রহমান কাইয়ুম, তানভীর হোসেন তুহিন। উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে গত একসপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকতায় ১৬টি ইউনিয়নে এ খাদ্যসহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, করোনায় ভয় নয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক সকলকে নিজগৃহে অবস্থান করতে হবে। খাদ্য সংকটে কোন দুশ্চিন্তা নয়, প্রতিিট পরিবারকেই পর্যায়ক্রমে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে।

ঝিনাইদহে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরীতে ঔষধি উদ্ভিদের ভূমিকা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরীতে ঔষধি উদ্ভিদের ভূমিকা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দিনব্যাপী শহরের মডার্ন মোড়ে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের মেডিসিনাল প্লান্টস এন্ড হারবাল প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এর সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিশেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাহী সদস্য এ বি এম জাহাঙ্গীর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের বিপিসি ও যুগ্মসচিব কো-অর্ডিনেটর এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বামা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বিভাগীয় প্রধান আকরাম হোসেন। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মডার্ন ড্রাগ ল্যাবরেটরীজ এর মাননিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা গোলাম হায়দার। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার অর্ধশতাধিক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক, হাবস সরবরাহকারী, কোম্পানী প্রতিনিধি, কারখানা প্রতিনিধি অংশ নেয়। এসময় বক্তারা, আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরীতে ঔষধি উদ্ভিদের ভূমিকা, করনীয়সহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।

মহেশপুরের ৪৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ দেড় বছরেও শেষ হয়নি, ৫ ইউনিয়নের মানুষের সীমাহীন ভোগান্তি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

৭৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৪৮.৫ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়নে বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিল ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে একনেক সভায়। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে কাজটি শুরু করে ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা কিন্তু আজো সেই কাজটি শেষ হয়নি। ৪৮.৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৯.৭ কিলোমিটার বাকি রেখেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

সড়ক বিভাগ পূর্বের ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করাতে ব্যর্থ হয়ে ফেলে রাখা স্থানের জন্য আবারো দরপত্র আহ্বান করিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী গত জানুয়ারিতে দরপত্র গ্রহন শেষ হয়েছে, কিন্তু এখনও কিছূ প্রক্রিয়া বাকি আছে। যে কারনে কাজটি শুরু করা যায়নি, তবে অল্প দিনেই কাজটি শুরু করার আশা করছেন তারা।

এদিকে খালিশপুর-যাদবপুর ভায়া জিন্নাহনগর সড়কের ফেলে রাখা ওই ২০ কিলোমিটারের কারনে গোটা এলাকার ৫ টি ইউনিয়নের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। সড়কটির অবস্থা এতোটাই খারাপ যে মানুষ পাঁয়ে হেটেও চলতে পারছেন না। ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা ভয়ে আর ওই সড়কে যাচ্ছেন না। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগে খোজ নিয়ে জানাগেছে, মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর বাজার থেকে মহেশপুর-দত্তনগর-জিন্নানগর হয়ে যাদবপুর সড়কটি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সংষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই বছরই প্রাক্কলন তৈরী করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ওই সড়কটি মেরামতের জন্য একনেকে ৭৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এরপর তিনটি প্যাকেজে বিভক্ত করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে তিনটি প্যাকেজের কাজ পান যশোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টার প্রাইজ। যার মধ্যে রয়েছে খালিশপুর থেকে সেজিয়া, সেজিয়া থেকে ভোলাডাঙ্গা ও ভোলাডাঙ্গা থেকে যাদবপর পর্যন্ত। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ কাজটি শুরু হয়ে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর শেষ করার কথা। ঠিকাদার সেভাবেই কাজ শুরু করেন, কিন্তু শেষ করতে পারেন নি। প্রথম দফায় কিছুটা কাজ করে বন্ধ রাখা হয়। এরপর আবারো শুরু করলেও দত্তনগর থেকে জিন্নানগর আনুমানিক ১২ কিলোমিটার ও সামন্তা থেকে মমিনতলা ৫ কিলোমিটার কাজ না করে ফেলে রাখেন।

ওই কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা আমির হোসেন সেই সময়ে জানিয়েছিলেন, যে দুইটি স্থান তারা কাজ বন্ধ রেখেছেন সেখানে শুধুমাত্র ভেঙ্গেচুরে যাওয়া জায়গা মেরামত করে কার্পেটিং করার কথা। কিন্তু সড়কটির বর্তমান যে অবস্থা তাতে ওই স্থানে কোনো ভাবেই গর্ত ভরাট করে কার্পেটিং করলে থাকবে না। স্থানটি সম্পূর্ণ খুড়ে নতুন করে করতে হবে। যে কারনে তারা ওই দুইটি স্থানে কাজ করবেন না বলে সওজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি সওজ কর্মকর্তারা সরেজমিনে দেখে তারাও নতুন করে করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায় দত্তনগর থেকে জিন্নানগর ও সামন্তা থেকে মমিনতলা পর্যন্ত সড়কে বর্তমানে চলাচলের কোনো উপায় নেই। সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরী হয়েছে। কোনো ভারি যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। অত্যান্ত ঝুঁকি নিয়ে ২/১ টি যানবাহন গেলেও প্রায়ই গর্তে আটকে থাকছে। স্থানিয় সামন্তা বাজারের বাসিন্দা বাদশা মিয়া জানান, একটু বর্ষা হলেই তারা এলাকা থেকে বের হতে পারছেন না। বিশেষ করে সামন্তা থেকে মমিনতলা পর্যন্ত এতোটাই খারাপ যে ওই ৫ কিলোমিটার কোনো ভাবেই চলাচল করা যাচ্ছে না।

জিন্নানগর এলাকার বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল আজীজ জানান, মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর, বাশবাড়িয়া, নেপা, শ্যামকুড় ও স্বরুপপুর নামের ৫ টি ইউনিয়নের প্রায়৩ লাখ মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। দুইপাশে উন্নয়ন কাজ শেষ হলেও মাঝের ফেলে রাখা স্থানের কারনে সকলকেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তারাও ঢাকা থেকে বাড়িতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। তাদের এলাকার কৃষকরা মাঠে উৎপাদিত কৃষিপন্যও বাজারে নিতে পারছেন না। ফলে অর্থ বরাদ্ধ থাকার পরও সঠিক ভাবে কাজ না করায় সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

সওজ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার জানান, সড়কটির সার্ভে সময় যে অবস্থা ছিল পরবর্তীতে কাজ করার সময় আরো খারাপ হয়ে যায়। যে কারনে তারা নকশার পরিবর্তন করে আবারো টেন্ডার করিয়েছেন। কুষ্টিয়া সার্কেল অফিস জানুয়ারি মাসের দিকে দরপত্র আহবান করেন। আবিদ মনছুর নামের এক ঠিকাদার কাজটি পেয়েছেন। তবে ঠিকাদারের সঙ্গে এখনও কাগজপত্রের কিছু কাজ বাকি থাকায় কাজটি শুরু করা যায়নি, তবে অল্পদিনের মধ্যে শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন ওই কর্মকর্তা।

ঝিনাইদহে সপ্তসংঘ যুব পরিবারের স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

“মনোবল দৃঢ় রাখি, করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করি” এ স্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ সপ্তসংঘ যুব পরিবারের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ মোকাবেলায় লিফেলট, মাস্ক ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে  সপ্তসংঘ যুব পরিবার কার্যালয়ে সপ্তসংঘ যুব পরিবারের  সভাপতি মোঃ ইমরান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক মোঃ রিয়াজুল আলম খান। উপস্থিত ছিলেন সপ্তসংঘ যুব পরিবারের সাধারণ সম্পাদক শান্তা আহম্মেদ সুমি, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন ও অন্যান্য সদস্য  মারুফ, মিথুন, সোহেল, হাসিব, তামান্না, বৃষ্টি, মনজয়, সোহাগ প্রমুখ। এ সময় বক্তারা এমন ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নেওয়ায় সপ্তসংঘ যুব পরিবারকে ধন্যবাদ জানায় এবং সপ্তসংঘ যুব পরিবার আগামীদিনে মানবতার সেবায় কাজ করতে পারে সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এছাড়াও করোনা মোকাবেলায় দৃঢ় মনোবল রাখার পাশাপাশি সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

ঝিনাইদহে অসংক্রামক রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

‘পরিমিত খাবার খান, নিয়মিত হাঁটুন, সুস্থ্য ও সবল জীবন গড়ে তুলুন’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে অসংক্রামক রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আজমীর ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি বেসরকারী সংগঠনের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো’র লাইফস্টাইল, হেলথ এডুকেশন এন্ড প্রমোশন প্রকল্প। এসময় ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সাজ্জাৎ হাসান, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তারা, সুস্থ্য ও সবল জীবন গড়তে সকলকে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। সেই সাথে পরিমিত খাবার গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাতে উৎসাহ প্রদাণ করেন। এর আগে সদর উপজেলার পোড়াহাটি কমিউনিটি কিনিকে এ বিষয়ে ২ টি এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দেবহাটায় আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কেক কাটা ও আলোচনা সভা

কে এম রেজাউল করিম দেবহাটা

দেবহাটায় আওয়ামীলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় সখিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আয়োজনে উপজেলার ঈদগাহ বাজারে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সরদার আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য দুলাল চন্দ্র ঘোষ। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য নির্মল কুমার মন্ডল, যুগ্ম-আহবায়ক ও দেবহাটা প্রেসকাবের সভাপতি আব্দুর রব লিটু, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি গোলাম ময়নুদ্দীন, ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, ২নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মন্টু, ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি ও ইউপি সদস্য জগন্নাথ মন্ডল, ৭নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আরশাদ আলী, ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আনোয়ার মিলন চৌধুরী, ইউপি সদস্য আকবর আলী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রুহুল আমিন খোকন, ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাচ্চু প্রমুখ। এছাড়া উপজেলার পারুলিয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আয়োজনে এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির নের্তৃত্বে পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের, ১নং কুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আয়োজনে কুলিয়া আওয়ামীলীগ অফিস চত্বরে এবং ৪নং নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আয়োজনে ইউনিয়ন  আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দেবহাটায় কৃষকলীগের আয়োজনে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

দেবহাটা প্রতিনিধি

দেবহাটায় কৃষকলীগের আয়োজনে আওয়ামীলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধা ৬টায় উপজেলা কৃষকলীগের আয়োজনে দেবহাটা প্রেসকাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আলোচনা সভা শেষে কেক কাটা হয়। উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য নির্মল কুমার মন্ডললের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম-আহবায়ক ও দেবহাটা প্রেসকাবের সভাপতি আব্দুর রব লিটু, সদস্য সচিব আব্দুল্লা হীম, সদস্য এমএ মামুন, এসএম নাসির উদ্দীন প্রমুখ।

পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানী ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

তালা থানার এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে হয়রানী, হুমকি, সম্পত্তি বেদখল করা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন তালা উপজেলার মোঃ আব্দুল লতিফ নামে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। হয়রানীর অভিযোগ তুলে ধরে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তিনি। প্রতিকার চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার খুলনা প্রেসকাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ওই ভুক্তভোগী। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার ক্রয় করা সম্পত্তির ভুয়া মালিক দাবিদার তালা উপজেলার ইসহাক আলী মোড়লের পক্ষ নিয়ে তালা থানার এসআই মেহেদী হাসান তার পরিবারের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছে। উক্ত জমি নিয়ে তার প্রতিপক্ষের সাথে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন দায়ের করা রয়েছে। যা এখনও বিচারাধীন। জমিটিতে ১৪২৬ সাল পর্যন্ত খাজনাও পরিশোধ করেছেন তিনি। গত ৭ জুন নিজ জমিতে তার ছেলে নূর হোসেন কাজ করতে গেলে এসআই মেহেদী হাসানসহ প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাধা দেয়। এসময় এসআই মেহেদী তাকেসহ তার ছেলে ক্রিকেটার ইমরানকে গালাগালি করে এবং ছোট ছেলে নূর হোসেনকে আটক করে নিয়ে যায়। যদিও পরে থানার ওসি তাকে ছেড়ে দেয়। সেখানে কোন মারপিটের ঘটনা ঘটেনি। উক্ত জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপটি এসআই মেহেদীকে দিয়ে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি এর প্রতিকার দাবি করেন। অভিযোগ অস্বীকার করে তালা থানার এসআই মেহেদী হাসান বলেন,‘আমি কাউকে গালাগালি দেইনি। কেউ যেন বিরোধে না জড়ায় সেটি তদারকি করেছি মাত্র।’

তালা মৎস্য অফিসারের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক টাকা আতœসাতসহ সীমাহীন দূনীতির অভিযোগ

ইলিয়াস হোসেন তালা প্রতিনিধি

তালা মৎস্য অফিসার স্নীগ্ধা খা বাবলির বিরুদ্ধে লক্ষধিক টাকা আতœসাৎ সহ সীমাহীন দূনীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিবরনে,অনুসন্ধনে জানা যায়, তালা মৎস্য অফিস কর্তৃক ২৪টি সি আই জি সমিতির অনুকুলে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্ধ হয়। প্রতিটি সমিতির নামে বরাদ্ধকৃত ২০হাজার টাকা দিয়ে মাছ,মাছের খাবার এবং সাইন বোর্ড ক্রয় করে বিতরন করা হবে মর্মে উল্লেখ করা হয়। ১৮মে ২০২০ তারিখ মৎস্য অফিসার স্নীগ্ধা খা বাবলি ২৪টি সমিতির অনুকুলে ৩লক্ষ টাকা মুল্যের মাছ,মাছের খাবার এবং সাইন বোর্ড ক্রয় করে সমিতির সদস্যদের মাঝে বিতরন করেন। ১৭% টাকা আয়কর ও ভ্যাট বাবদ ৮১৬০০ টাকা ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। আয়কর ও ভ্যাটসহ সর্বমোট খরচ হয়েছে ৩লক্ষ ৮১হাজার ৬শত টাকা। বাকী ৯৮ হাজার ৪শত টাকা মৎস্য অফিসার আত্মসাৎ করেছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। খরচের বিবরনে নাম না বলা শর্তে সমিতির একাধিক  সদস্য বলেন, প্রতিটি সিআইজি সমিতিকে ১মন রুই মাছ বিতরন করা হয়েছে যার সর্বোচ্চ বাজার মুল্য ১৫০দ্ধ ৪০ = ৬হাজার এবং ৮বস্তা কার্প মেঘা ফিস মাছের খাবার, যার বাজার মুল্য ৮দ্ধ৭৫০=৬হাজার টাকা। সর্বমোট খরচ ১২হাজার টাকা এবং প্রতিটি সাইন বোর্ড তৈরীতে ব্যায় হয়েছে ৫শত টাকা। সর্বমোট ব্যায় ৬০০০+৬০০০+৫০০ = ১২৫০০ টাকা ৷ প্রতিটি সমিতির নামে মোট বরাদ্ধ ২০ হাজার টাকা। ২০০০০-১২৫০০=৭৫০০দ্ধ২৪টি সমিতি হতে ১লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে বলে সমিতির সদস্যরা অভিযোগ করেন। এছাড়া অনুসন্ধানে তার সত্যতা মেলে।

এ বিষয়ে সমিতির সদস্যরা বলেন, আমাদের সমিতির নামে বরাদ্ধকৃত অর্থ যেন ফেরৎ পায় এবং কেন মৎস্য অফিসার এমন দূণীতি করলেন তার জন্য বিভাগীয় তদন্তের দাবী জানিয়ে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তালা মৎস্য অফিসার স্নীগ্ধা খা বাবলি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ১লক্ষ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে আয়কর ও ভ্যাট বাবদ ১৭% টাকা অর্থাৎ ৮১৬০০ টাকা জমা করা হয়েছে। বাকী ৯৮৪০০ টাকার হিসাব তিনি এভাবে দেন। মৎস্য অফিসার বলেন, প্রতিটি সমিতিতে নমুনায়ন পরিদর্শন করার জন্য ১হাজার টাকা খরচ হবে।এছাড়া বিল ছাড় করতে করতে একাউন্ট অফিসে ৫% টাকা এবং অডিট বাবদ ৫% টাকা দিতে হবে।এতকিছু দেখানোর পরেও বাকী অর্ধ লক্ষ টাকার কোন হিসাব তিনি দেখাতে পারেন নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, আগামী কাল  বিষয়টি নিয়ে মৎস অফিসারের সাথে বসব। এর পরে আপনাকে জানাতে পারবো ।