খেলা ডেস্ক।।
মিশ্র অনুভূতি নিয়ে এবারের মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের গ্রুপপর্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর সুপার ফোরে ভারতের বিপক্ষে স্মরণীয় এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে লাল-সবুজেরা। মাঝে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জোড়া হার এবং পাকিস্তানের সঙ্গে একপেশে পরাজয়ও সঙ্গী হয়েছে সাকিব আল হাসানের দলের। সবমিলিয়ে এশিয়া কাপে শীর্ষ তিনে থেকে দেশে পা রেখেছে লিটন-মিরাজরা। তবে প্রশ্ন রয়েছে, লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের এই পারফরম্যান্স কতটা মনে ধরার মতো?
যদিও সাকিব-তাসকিনদের এমন পারফরম্যান্সে অনেকেই সন্তুষ্ট নন। তবে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুই জয় কোনোভাবেই কম না। কেননা, এশিয়া কাপে বাংলাদেশের যে স্কোয়াড গেছে, সেখানে ছিলেন না দলের নিয়মিত ওপেনার তামিম ইকবাল, পেসার এবাদত হোসেন। এমনকি প্রথম দুই ম্যাচে ছিলেন না ওয়ানডে সংস্করণের সহ-অধিনায়ক লিটন দাসও। এবারের আসরের প্রথম দুই ম্যাচে অবিশ্বাস্যও শুরুর পর সুপার ফোরের আগে ছিটকে যান ইনফর্ম টপ-অর্ডার ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। ভারতের সঙ্গে ম্যাচে ছিলেন না অভিজ্ঞ উইকেটকিপার ব্যাটার মুশফিকুর রহিমও।
সহজ করে বললে, ভঙ্গুর এক দল নিয়েই এবারের এশিয়া কাপের মিশন শেষ করেছে টাইগাররা। যে কারণে দেশে ফিরে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের কণ্ঠেও স্বস্তি কথা শোনা গেল। এমনকি আক্ষেপও করলেন সময়ের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।
বিমানবন্দরে মিরাজ আক্ষেপ করে বললেন, দলের সবাই সুস্থ থাকলে বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্ট আরও স্বস্তিদায়ক হতো।
এই অলরাউন্ডারের ভাষায়, এই জয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগ করবে। ভারত খুব ভালো টুর্নামেন্ট খেলছে। বিশ্বকাপ ভারতে, আমাদের ফাইনালে যাওয়ার রাস্তা নেই। আমাদের মধ্যে যে বিষয়টা কাজ করেছে; যদি এই ম্যাচ জিততে পারি, তাহলে বিশ্বকাপের আগে ভালো আত্মবিশ্বাস থাকবে, টিম স্পিরিট বেড়ে যাবে।
এবারের আসরে মিরাজকে মেকশিফট ওপেনারের ভূমিকায় দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, আমাকে এবার বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, মূলত দলের সমন্বয়ের জন্যই। ওপেনাররা সুস্থ থাকলে তো আমি ওপেন করতাম না, যারা ওপেনার তারাই করত। একদিন ভালো করার পর বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, মাঝখানে একদিন মুশফিক ভাই ছিলেন না। সব মিলিয়ে সবাই সুস্থ থাকতে অনেক ভালো একটা টুর্নামেন্ট হতো।
এদিকে এশিয়া কাপের মিশন শেষে সাকিব আল হাসানের দলের সামনে এবার নিউজিল্যান্ড সিরিজ। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে গড়াবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি। ২৩ ও ২৬ সেপ্টেম্বর হবে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ। সবগুলো ম্যাচই হবে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
গুঞ্জন রয়েছে, বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে এই সিরিজ থেকে বিশ্রামে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। এই সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে সাকিব, মুশফিক, তাসকিনকে। এ ছাড়া চোটে পড়েছেন বেশ কয়েক ক্রিকেটার। তাই মিরাজের আশা, চোট পাওয়া ক্রিকেটাররা যেন দ্রুতই সেরে ওঠেন।
অন্যদিকে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটি শেষ করেই বিশ্বকাপের বিমানে চাপবে টাইগাররা। ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে দেড় মাসের এই মহাযজ্ঞ।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশনটা শুরু হবে ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে। তবে এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ও ২ অক্টোবর শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ১১ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি হবে রাউন্ড রবিন লিগে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ।











































