রূপসা নদী থেকে মাঝির মরদেহ উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর রূপসা নদী থেকে মো. হান্নান (৫৫) মাঝির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিংহেরচর ঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আইচগাতি ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই ইব্রাহিম বলেন, গত ১০জুন জেলখানা ঘাট হতে পড়ে যাওয়া মো. হান্নান মাঝির মৃত দেহ নগরীর ২নং কাস্টম ঘাট এলাকায় রকি ডকইয়ার্ডে সামনে ভাসতে দেখে কয়েকজন মাঝি। তারা মাঝির পরিবারকে খবর দিলে পরিবারের লোকজন ও মাঝিদের সহায়তায় হান্নানের মরদেহ সিংহেরচর ঘাটে নিয়ে বেঁধে রাখে। পরে নৌ পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০জুন সকাল ১০টায় কয়রা উপজেলার এফরান সানার ছেলে মাঝি হান্নান সান াসেনের বাজার ঘাটে ট্রলারে ধাক্কা খেয়ে নদীতে পরে যায়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও ডুবরী দল চেষ্টা করেও নিখোঁজ মাঝির সন্ধান পাইনি। হান্নান সানা দীর্ঘদিন ধরে রূপসা উপজেলার সিংহের চর সাবেক চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী জুলুর বাড়িতে ভাড়া থাকতো।
খুলনায় ইউএনওসহ ৩৭জন করোনায় আক্রান্ত
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভীন সুলতানাসহ নতুন করে আরও ৩৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ১৪ জুন রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবের প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্য ডা.মেহেদী নেওয়াজ জানান, ২৮২টি নমুনার মধ্যে ৩৭টি পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এর মধ্যে খুলনা জেলার রয়েছে ২৯টি। বাকিগুলোর মধ্যে যশোরের চারটি, সাতীরার একটি, বাগেরহাটের দুটি এবং নড়াইলের একটি নমুনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।
এদিকে, জেলা প্রশাসন নগরীর ৭টি এলাকা লকডাউন ঘোষণা করেছে। ঘোষিত এলাকাগুলো হচ্ছে নগরীর দণি টুটপাড়াস্থ ১৪৯ ও ১৯৪ নম্বর তালতলা হাসপাতাল রোড, ২৩ নম্বর সাউথ সেন্ট্রাল রোড, খালিশপুর আবাসিক এলাকার ১৫০ নম্বর রোডের ৪৮ নম্বর বাড়ি, ক্রিসেন্ট জুটমিল কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন ‘শিউলী’ এবং খালিশপুরের মুজগুন্নি মেইন রোডস্থ ৫৩৫ নম্বর বাড়ি।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভীন সুলতানা হোম আইসোলেশনে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নগরীতে র্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ দু’মাদক কারাবারী গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর দৌলতপুর থানাধীন মধ্যডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬৫পিস ইয়াবাসহ দু’মাদক কারাবারী গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। ১০জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার দু’মাদক কারাবারী হলেন নগরীর দৌলতপুর থানার মধ্যডাঙ্গা গ্রামের মো. আজাহার শেখের ছেলে মো. মারুফ শেখ (৩০) ও একই গ্রামের মৃত. শেখ জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে মো. জীবন হোসেন (২২)।
র্যাব-৬ জানায়, ১০জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানাধীন মধ্যডাঙ্গা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। এসময় মধ্যডাঙ্গা ঈদগাহ্ মাঠের পশ্চিম পাশ থেকে ১৬৫পিস ইয়াবাসহ মারুফ শেখ ও জীবন হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
সাতীরায় র্যাবের অভিযানে ১কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার
সাতীরা জেলা সদরের রামেরডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এক কেজি গাঁজাসহ
এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ী হলেন সাতীরা জেলা সদরের কাওনডাঙ্গা গ্রামের গোলাম মোস্তফা মোল্লার ছেলে মো. ফিরোজ হোসেন (৩০)।
র্যাব-৬ জানায়, রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাতীরা জেলা সদরের রামেরডাঙ্গা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। এসময় রামেরডাঙ্গা গ্রামস্থ মোড়ল পাড়া মোড়ে আব্দুল আহাদ এর নির্মানাধীন দোকানের সামনে থেকে এক কেজি গাঁজাসহ ফিরোজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সাতীরা সদর সথানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
মা-বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন সাবেক মেয়র কামরান
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের দুই দফা জানাযা শেষে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। সোমবার বাদ জোহর সিলেট মহানগরীর মানিকপীর টিলাস্থ গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে মহানগরীর ছড়ারপারস্থ নিজ বাসভবনের সামনে প্রথম দফা জানাযা এবং মানিকপীর টিলার পাশে দ্বিতীয় দফা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জনসমাগম এড়াতে জানাযা ও দাফনের সময় ঘোষণা না হলেও দ্বিতীয় দফা জানাযায় সহ¯্রাধিক লোক সমাগম ঘটে। এতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয়পার্টিসহ সর্বদলীয় নেতাকর্মীসহ মহানগরীর সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে।
সোমবার ভোররাত তিনটার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সকালে তার লাশ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। দুপুর ১২টার দিকে তাকে বহনকারী এম্বুলেন্স সিলেটে পৌঁছায়।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গত ৫ জুন কামরানের করোনা (কোভিড-১৯) পজিটিভ ধরা পড়ে। ৬ জুন সকালে শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ৭ জুন সন্ধ্যায় এয়ার এম্বুলেন্সে ঢাকায় নেয়া হয়। সেখানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সেখানে প্লাজমা থ্যারাপি দেয়া হয়।
আস্থা রাখুন, বাংলাদেশ হার মানবে না : প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা অফিস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রতি জনগণকে আস্থা ও বিশ্বাসে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ কোন কিছুর কাছেই হার মানবে না, এমনকি করোনা ভাইরাসের কাছেও নয়। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই আমাদের মানুষের মধ্যে যেন একটা আস্থা থাকে, বিশ্বাস থাকে, সেই বিশ্বাস-আস্থাটা ধরে রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা হার মানবো না, মৃত্যু তো হবেই, মৃত্যু যেকোনো সময় যেকোনো কারণে হতে পারে। কিন্তু তার জন্য ভীত হয়ে হার মানতে হবে? এ ধরনের একটা অদৃশ্য শক্তির কাছে, এটাতো হতে পারে না। সেজন্য আমাদেরও সেভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন। দেশ ডিজিটাইজেশনের সুবাদে ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের কারণে জনসমাগমে না গিয়েও সকলের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সুবিধার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে ডিজিটাল পদ্ধতি আছে বলে আমি মানুষের কাছে যেতে পারছি, কথা বলতে পারছি এবং বার বার যাচ্ছি।’
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যা যা নির্দেশনা আছে, সেগুলো মেনে চলে নিজের জীবনকে চালাতে হবে। কারণ, নিজেকে সুরক্ষিত রাখা মানেই অপরকেও সুরক্ষিত রাখা। সেটাও মাথায় রাখতে হবে, সেটা যেন সবাই করেন।’ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এসএসএফ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাহিনী আমাদের সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ বাহিনী এবং আনসার ও ভিডিপি সকলের মিলিত একটি সংগঠন। যেহেতু, সকলের মিলিত একটি সংগঠন, তাই, এখানে একে অপরকে জানার ও বোঝার সুযোগ রয়েছে, কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমি মনে করি, এটা একটা চমৎকার কম্বিনেশন।’ তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এই বাহিনীর সদস্যদের সন্তানতুল্য আখ্যায়িত করে স্নেহমাখা কন্ঠে সরকার প্রধান তাঁদের ‘তুমি’ সম্বোধন করেন এবং বলেন, ‘তোমরা যেমন আমার নিরাপত্তার জন্য চিন্তা করো আমিও ঠিক তোামাদের নিরাপত্তার জন্য সবসময় চিন্তা করি।’
তিনি বলেন, ‘তোমরা সুরক্ষিত থাক, সেটাই আমি চাই। কারণ, তোমাদের জীবনের মূল্যটা অনেক বেশি, তোমাদেরতো ভবিষ্যত সামনে পড়ে রয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমরা নিরাপদ থাক, সেজন্য সব সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি। কারণ, তোমরা যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করো তাতে তোমাদের কর্ম দক্ষতায় সবাই মুগ্ধ।’
করোনা ভাইরাসের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগে যেভাবে পালন করতে সেভাবে হয়তো করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মটা মেনে যতটুকু উৎসব করা যায় তোমরা করবে। সেটাই চাই, কারণ, জীবন মৃত্যু খুব পাশাপাশি।’ তিনি সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সর্বশেষ সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহাম্মদ কামরানের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘একদিকে যেমন আমরা মুত্যুর খবর পাই অন্যদিকে অন্য কাজও করতে হয়। এটাই আমাদের জীবন।’
অতীতে দু’বার গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন কামরান-সেকথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাতও কামনা করেন। যেকোন পরিস্থিতিতেই প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য মহাপরিচালক এসএসএফকে তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশিক্ষণটা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ, নিজেকে সুরক্ষিত করতে হলে অথবা ভিআইপিদের সুরক্ষিত রাখতে হলে প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখাটা সবসময় জরুরী, সেজন্য যা যা করার আমি করে দিয়েছি।’ ‘নিজেদের শারিরীকভাবে সুস্থ রাখা, ফিট রাখা এবং এক একজন আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হয়ে তৈরী হবে, সেটাই আমি আশা রাখি,’যোগ করেন তিনি।
এসএসএফ’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, অনুষ্ঠানে এসএসএফ-এর মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ এবং কল্যাণ তহবিলের জন্য সকল এসএসএফ সদস্যদের পক্ষ থেকে তাঁদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এবং এক কোটি টাকার একটি চেক প্রদান করেন।
এসএসএফ সদস্যদের পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে উন্নত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জনের ও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, ক্রাইমের ধরণটাও বদলে যাচ্ছে। আগে এক ধরনের হতো (অপরাধ সংগঠন) এখন অন্যভাবে হয়। প্রতিনিয়ত আমরা এটাও দেখতে পাই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে, প্রযুক্তি যেমন ভালো কাজে ব্যবহার হয়, আবার মন্দ কাজেও ব্যবহার হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কি ধরনের ক্রাইম হচ্ছে সেটা জেনে নিয়ে সেই ক্রাইম কিভাবে প্রতিরোধ করতে হবে, তার জন্য যেমন প্রশিক্ষণ প্রয়োজন তেমনি ইক্যুইপমেন্টসও দরকার।’
’৯৬ সালে যখন প্রথমবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান তখন ভিআইপিদের নিরাপত্তা দেওয়ার মত সেরকম অবস্থা সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর ছিল না উল্লেখ করে তিনি এসময় এএসএফ-এর আধুনিকায়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহের উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যতদূর পেরেছি এসএসএফ-এর জন্য সব কিছু করেছি। সব ধরনের ব্যবস্থা, যখন যেটা আধুনিক আসে আমরা সংগ্রহ করার চেষ্টা করি।’ যারা নিরাপত্তায় নিয়োজিত তাদের জন্য নিজের চিন্তার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাঝে মাঝে চিন্তা করি, যাঁরা আমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত তাঁদের জীবনটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘এখানে শুধু যাকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে শুধু তাদেরটা নয়, যারা নিরাপত্তা দেবে তাদেরটাও আমার চিন্তা করতে হয়।’ একজন জননেত্রী এবং সরকার প্রধান হিসেবে তাঁকে সবসময় যে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে আবদ্ধ থাকতে হয় সেটাও তাঁকে নিরাপত্তা প্রদানকারীদের সুরক্ষার জন্যই অনেক সময় তাঁকে মেনে নিতে হয়েছে, এমনও ইঙ্গিত করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সেটা যদি চিন্তা না করতাম তাহলে এগুলো কিছুই আমি মেনে নিতাম না, এটা হলো বাস্তবতা। কারণ, আমি যখন বাংলাদেশে এসেছিলাম তখন আমার বাবা, মা এবং ভাইয়ের খুনীরা ক্ষমতায়।’ বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘খুনীরা দল করছে, ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, দূতাবাসে চাকরি করছে, তারা তখন অত্যন্ত শক্তিশালী। একদিকে যেমন ক্ষমতায় যুদ্ধাপরাধীরা আরেকদিকে তেমনি খুনীরা।’
তিনি বলেন, ‘সেই পরিবেশে বাংলাদেশে যখন এসেছি তখন তো আমরা কিছুই ছিল না। আলাদা গাড়িও ছিল না। আমি সেটা চিন্তাও করিনি। বাস ভাড়া করে চলেছি, রিক্সা-ভ্যানে চলেছি, নৌকায় চলেছি, সারা বাংলাদেশ ঘুরেছি।’ ‘কি কারণে করেছি- একটাই কারণ এদেশের জন্য কিছু করতে হবে। আমার বাবা যে কাজটা সম্পূর্ণ করতে পারেননি সেটা আমাকে সম্পূর্ণ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা আমাকে ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত করেছে, সুযোগ দিয়েছে তাদের সেবা করার।’
তাঁর সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও যথাযথ পদক্ষেপের কারণে এবং মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে উন্নত অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার অনেক কম বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই মুহূর্তের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এই প্রাণঘাতী ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত করা এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় আমি ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছি এবং ব্যক্তিগতভাবে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন তদারকি করছি। ইতোমধ্যেই তাঁর সরকার দুর্যোগ মোকাবেলায় নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে যার মধ্যে মানবিক সহায়তা প্রদান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখাসহ নানাবিধ আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম অন্যতম, বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের পরিকল্পিত আর্থিক প্রণোদনা এবং মানবিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। যা জিডিপি’র প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একদিকে মানুষকে বাঁচানো, আবার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা, চিকিৎসার ব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যবস্থা সেগুলো যাতে ঠিক থাকে সেদিকেও আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখছি।’
রেড-ইয়েলো জোনে সাধারণ ছুটি, গ্রীন জোনে সীমিত অফিস
ঢাকা অফিস
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের হার বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে যে তিনটি জোনে ভাগ করা হচ্ছে, তার মধ্যে রেড ও ইয়েলো জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারিকৃত আদেশে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘লাল ও হলুদ অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক বা অসামরিক সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বয়ত্তশাসিত বা বেসরকারি দপ্তরগুলো এবং রেড ও ইয়েলো অঞ্চলে বসবাসকারী এসব দপ্তরের কর্মকর্তারা সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। গ্রীন অঞ্চলে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এব বেসরকারি অফিস নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে।’ এছাড়াও গত ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে যেভাবে অফিস চলছে, গ্রীন জোনে অবস্থিত অফিসগুলো ১৬ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেভাবেই চলবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে ৩১ মে থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমিত পরিসরে অফিস-আদালত এবং ১ জুন থেকে গণপরিবহন খুলে দেওয়া হয়। ১৫ দিনের জন্য এ নির্দেশনা শেষে নতুন নির্দেশনা দেয় সরকার।
করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই জনের মৃত্যু
খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
করোনার উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলশনে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
মৃত দুই ব্যক্তিরা হলেন, সাতক্ষীরা শহরের পুরাতনসাতক্ষীরা এলাকার মৃত মান্দার সরদারের ছেলে শাহাবুদ্দিন সরদার (৭০) ও দেবহাটা উপজেলার টাউনশ্রীপুর এলাকার মৃত ঠাকুর চরনের ছেলে রাধাকান্ত চরন (৭৫)। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ রফিকুল ইসলাম জানান, জ¦র ও শ^াসকষ্ট নিয়ে গত ৮ জুন রাধাকান্ত ও ১৪ জুন শাহাবুদ্দিন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন। এরপর সেখানে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে শাহাবুদ্দিন ও সকাল ১০ টায় রাধাকান্ত মারা যান। তারা দুই জন যেদিন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলেন ওই দিনই তাদের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। তাদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, যথাযথ নিয়ম মেনেই ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে তাদের লাশ দাফন করা হবে। এদিকে, এনিয়ে সাতক্ষীরায় করোনার উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, সাতক্ষীরা জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৭৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস: সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা
খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে সাতক্ষীরার কলরোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মন্ময় মনিরের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। যার মামলা নং-১০।
এর আগে কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাগর হোসেন বাদী হয়ে রোববার রাতে কলারোয়া থানায় একটি অভিযোগ পত্র জমা দেন। পরে ওই অভিযোগ পত্রটি এজাহার হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রভাষক মনিরুজ্জাামান ওরফে মন্ময় মনির কলারোয়া উপজেলার মুরারীকাটি গ্রামের মৃত. আয়েজ উদ্দীন সরদারের ছেলে ও সীমান্ত আদর্শ কলেজের প্রভাষক।
কলারোয়া উপজেলার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাগর হোসেন জানান, মন্ময় মনির গত ১৩ জুন তার ফেসবুকে একটি আপত্তিকর ষ্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন। তার ফেসবুকে যে ষ্ট্যাটাস দিয়েছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো, “বড় বড় চোরদের মৃত্যুতে রাষ্ট্র নায়করা ব্যথিত হবেন, শোক প্রকাশ করবেন, এটাও বেদনার, এটাও শোকের”। এই ষ্ট্যাটাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তিনি যে উক্তি ব্যবহার করেছেন এটি মানহানিকর। তিনি জেনেশুনে দলের ও নেতাদের সুনাম নষ্ট করেছেন। তাই এ ঘটনায় বাধ্য হয়ে তিনি মন্ময় মনিরের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মুনীর উল গিয়াস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাগর হোসেনের দেয়া অভিযোগ পত্রটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এ মামলার আসামী মন্ময় মনিরকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নারী ও শিশুদের ভোগান্তি চরমে: শরণখোলার রায়েন্দা বাজারের তিনশত পরিবার পানিবন্দি
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের ৩’শ পরিবার প্রায় একমাস ধরে পানি বন্দি। রান্নাবান্না সহ না সমস্যা দেখা দিয়েছে পানিবন্দি পরিবারগুলোতে। ঘর থেকে বেরুলেই পঁচা পানি আর কাঁদা। এ অবস্থায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরম দুর্ভিসহ হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলের পিছন থেকে খাদ্য গুদাম পর্যন্ত প্রায় তিনশত পরিবার পানি বন্দি। পরিবারের নারী সদস্যরা তাদের শিশু সন্তানদের নিয়ে একরকম গৃহবন্দি হয়ে আছে। রান্না ঘরে পানি ওঠায় অনেকে ঘরের মেঝেতে চুলা পেতে রান্না করছেন। পায়খানার টেংকি পানিতে ডুবে যাওয়ার সর্বত্র ময়লা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। পরিবারের পূরুষ সদস্যদের জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে ময়লা পানি পেরিয়ে বের হতে হচ্ছে।
এসময় কথা হয় আউয়াল খানের স্ত্রী তহমিনা বেগম, হিরু হাওলাদারের স্ত্রী ময়না বেগম, বিধবা রহিমন বেগমের সাথে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্পানের পর থেকে বৃষ্টির পানি আটকে জলাবব্ধতার সৃষ্টি হয়। এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত বৃষ্টিতে পানি আরো বেড়ে গিয়ে ঘর-বাড়ি সব তলিয়ে গেছে। আমরা রানা-বান্না, গোসল ও পায়খানায় যেতে পারছি না। ঘর থেকে পাঁ ফেলতেই ময়লা পানি। এসব দেখার যেন কেউ নেই।
ওই এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক ওমর ফারুক, কাঠ ব্যাবসায়ী খলিল খা, শহিদুল খা, লতিফ খা, ফারুক খা জানান, আমাদের জীবিকার তাগিদে কাঁদা ও ময়লা পানি ভেঙ্গে বাইরে বের হতে হচ্ছে। তাই কাজের তাগিদে সারাদিন আমারা বাইরে থকি। কিন্তু পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা চরম দুর্ভিসহ জীবনযাপন করছে। ময়লাযুক্ত পানি গায়ে লেগে অনেকের চর্ম রোগ সহ পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। রায়েন্দা খালের পাশ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন শহর রক্ষা বেড়ি বাঁধের কারনে পানি নিষ্কাশনের সব পথগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে বিকল্প ড্রেন কেটে পানি নিষ্কাশনের দাবী জানান।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জালাল আহম্মেদ রুমি জানান, পাঁচ ছয়টি পয়েন্টের পানি নিষ্কাশনের পথ বেড়িবাঁধের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দ্রুত ড্রেন নির্মান না করলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, রোববার একটি পয়েন্ট থেকে পাইপ দিয়ে পানি নামানো ব্যাবস্থা করা হয়েছে কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। আরো একটি পাইপের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মূলত বেড়ি বাঁধের সাথে ১০ টি ড্রেন ধরা রয়েছে কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা এখনো নির্মান করছে না। এছাড়া এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যায়ে একটি বড় ড্রেন নির্মানের প্রকল্পের কাজ করোনা পরিস্থিতির কারনে শুরু হচ্ছে না। এগুলো নির্মান হয়ে গেলে আর এ সমস্যা থাকবে না।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, বিকেলে তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখবেন। এছাড়া বাঁধ প্রকল্পের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান।
এ ব্যাপারে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সিএইচডাব্লিউ নামের চায়নার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বর্ষা মৌসুমে কাজ করে না। তাই অধিকাংশ কর্মী ছুটিতে চলে গেছেন। যারা আছেন তারা আবার করোনার কারণে বের হচ্ছেন না। তারপরও আলাপ আলোচনা করে এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
কয়রায় ঘূর্নিঝড় আম্পানে বিধ্বস্থ ও লবণ পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ শতভাগ কাঁচাঘর বাড়ী
শাহজাহান সিরাজ, কয়রা
ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বিধ্বস্থ ও বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে লবন পানিতে ভেসে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কয়রায় শতভাগ কাঁচা ঘর বাড়ী। যে কারনে আম্পানের ২৬ দিন পরেও ঘরে ফিরতে পারেনি সহস্যাধিক পরিবার এবং তারা তারা আজও বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রেও অবস্থান করছে। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ঘূর্নিঝড় আম্পানে উপজেলার ৭ ইউনিয়নে কাঁচাঘর বাড়ী ৭৪৭৬ টি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ এবং ৮৭১২ টি আংশিক উল্লেখ করা হলেও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থের সংখ্যা শতভাগ। উল্লেখ্য ঘূর্ণিঝড় আম্পানে কয়রা সদর, মহারাজপুর, উত্তর বেদকাশি ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে ১৩ টি স্থানে ওয়াপদার বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৩২ টি গ্রাম লবণ পানিতে ভেসে যায়। অথচ এসব গ্রামে শতভাগ কাাঁচা ঘর বাড়ী বিধ্বস্থ হলেও উপজেলা প্রশাসনের সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থের তালিকায় ৬৮৪৮ টি ঘর উল্লেখ করা হয়। এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ২৬ দিন অতিবাহিত হলেও উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের হাজত খালী ও গাজীপাড়া বেঁড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় সেখানে জোয়ারভাটা অব্যহত আছে। অন্য দিকে মহারাজপুর ইউনিয়নে দশালিয়া বেঁড়িবাঁধ আম্পানের ২৪ দিন পর এবং কয়রা সদর ইউনিয়নে ঘাটাখালি ২১ দিন পর রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো হয়েছে। ফলে অনেক কাঁচা ও আধাপাকা ঘর বাড়ী আজও ধসে পড়তে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয় মহারাজপুর, কয়রা সদর ও উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু, সাংবাদিক হুমায়ুন কবির ও সরদার নুরুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ৩ দিনের মধ্যেই উপজেলা প্রশাসন ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা চাওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে সঠিক তালিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তারা বলেন, আম্পান পরবর্তী বেঁড়িবাঁধ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং প্রতিদিন জোয়ার ভাটার কারনে নতুন নতুন ঘরবাড়ী ভেসে গেছে। সেজন্য বাঁধ নির্মাণ হলেই তারা সঠিক তালিকা তৈরি করবেন। তবে আম্পানে কয়রায় ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ীঘর সহ বেঁড়িবাঁধ নিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আকতারুজ্জামান বাবুর সাথে কথা বললে, তিনি সাংবাদিকদের জানান, দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্নিঝড় আম্পান বেশি আঘাত করেছে এমনটি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয় অবগত আছেন।তিনি বলেন, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় অধিকাংশ এলাকায় লবণ পানিতে ভেসে এবং সমগ্র দুটি উপজেলায় শতভাগ কাঁচা ঘর বাড়ী সহ রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও মৎস্য ঘেরের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। সে জন্য তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয় সর্বক্ষণ যোগাযোগ করেছেন এবং তিনি আশা করেন সরকারের মাধ্যমে ক্ষতি গ্রস্থ ঘরবাড়ী নির্মাণ সহ বিভিন্নভাবে অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করবেন।
করোনায় এনজিওসমূহ ২০৮ কোটি টাকার ত্রাণ সহায়তা করেছে: এডাব
খবর বিজ্ঞপ্তি
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশও করোনা মহামারিতে আক্রান্ত। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা থেকে মুক্তির প্রথম এবং প্রধান উপায় হচ্ছে ব্যাক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা। করোনা দূর্যোগের শুরু থেকেই এনজিও’রা তাদের সাধ্য মতো করোনা প্রতিরোধে আত্মনিয়োগ করেছে এবং অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।করোনা প্রতিরোধ কাজে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের এনজিওসমূহ। ইতোমধ্যে কোভিড ১৯ প্রতিরোধে এনজিওসমূহ প্রায় ২০৮ কোটি টাকার ত্রাণ সহায়তা করেছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওসমূহের সমন্বয়কারী সংগঠন ‘এডাব’এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানায়। এডাব’র পরিচালক একেএম জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডাব-এর সদস্য সংস্থাসমূহ ছাড়াও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত এনজিও’সমূহ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কাজ করে চলেছে। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এনজিওসমূহ সারাদেশে বিপুল সংখ্যক লিফলেট বিতরণ, ব্যনার-বিলবোর্ড স্থাপন, গ্রাম্য হাট ও জনবহুল স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা জীবানুনাশক স্প্রে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ১৭ টি কমিউনিটি রেডিও’র মাধ্যমে অব্যাহতভাবে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছে। এডাব ও এর সদস্যরা করোনা মহামারিতে ২৩ মার্চ থেকে ১৩ জুন ২০২০ পর্যন্ত মোট ২৫.৩১ কোটি টাকা জরুরী ত্রাণ সহায়তা কাজে ব্যয় করেছে। যার মধ্যে রয়েছে ১৩.০৬ কোটি টাকা নগদ সহায়তা বাকীটা খাদ্য ও সুরক্ষা সামগ্রী সহায়তা। অন্যদিকে বিডিসিএসও প্রসেস এর হিসাব অনুযায়ী বিদেশী সহায়তাসহ ২৫ মে ২০২০ পর্যন্ত এনজিওদের ত্রাণ সহায়তার পরিমান প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা। ইতোপূর্বে ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনাকারী এনজিওসমূহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২৭ কোটি টাকা দিয়ে দেশের মানুষের প্রতি তাদের আত্মনিবেদনের প্রমাণ রেখেছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, শুধু অর্থ বা ত্রাণ সহায়তা নয় আইসোলেশান সেন্টার তৈরী, চিকিৎসকদের জন্য ভৌত সহায়তা, যানবাহন সহায়তা ও বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রীও প্রদান করেছে। ক্রমহ্রাসমান বৈদেশিক সাহায্য ও দীর্ঘদিন স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এনজিওরা নিজেরাই অর্থসংকটে, তারপরও মানবিক দূর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর স্বেচ্ছা প্রণোদনা ও দায়বদ্ধতা থেকেই তারা সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করছে যা টাকার অংকে মুল্যায়ন করা যায় না। এনজিওরা সবসময়ই মাঠপর্যায়ে উন্নয়নকাজে সরকারি বেসরকারি সহযোগিতা ও সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছে। করোনা’র মত মহামারিতেও প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন এর সুষ্ঠুসমন্বয় ও সম্মিলিত প্রয়াস, আর তাতেই হবে করোনামুক্তি।
গণ সচেতনতামূলক কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক
মাসুম হাওলাদার, বাগেরহাট
বাগেরহাটে সর্বস্তরের জনগণকে বাড়ির বাহিরে মাস্ক পরার বিষয়ে উদ্ভুদ্ধ করা ও মাস্কবিহীন ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রয় না করার জন্য বিক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন বাগেরহাট জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ। সোমবার (১৫ জুন) থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করে বাজারে এ প্রচারণা জোরদার করা হবে। এছাড়া এ সময় সবাইকে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি আবশ্যিকভাবে মেনে চলার বিষয়ে অনুরোধ করা হয়। ‘মাস্ক পরা না থাকলে আমি পণ্য বিক্রি করব না’। করোনা প্রতিরোধে এমন প্রতিপাদ্য নিয়ে বাগেরহাট বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতা সাধারণের প্রতি এ আহ্বান সংবলিত স্টিকার সেঁটে দিয়ে গণ সচেতনতামূলক কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।এছারা
রোববার বিকালে বাগেরহাট শহরের শালতলা মোড় থেকে করোনা প্রতিরোধে মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়।এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন
বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি লিয়াকত হোসেন লিটন,বাগেরহাট ফউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক আহাদ উদ্দিন হায়দার,আওয়ামী লীগ নেতা নকিব নজিবুল হক.শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন , শরীফা খানম, এ্যাড লুনা সিদ্দিকী, ছাত্রলীগ নেতা উল্কাসহ আরো অনেকে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাক্স ব্যবহারে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ব্যবসায়ীদের প্রতি বাগেরহাট জেলা চেম্বার অব কমার্স এ আহ্বান পালনের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। কাপড় ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি কার্তিক ভট্টাচার্য্য বলেন, বাগেরহাট শহরের কাপড় ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করছেন। তারা দোকানের সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার রেখে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং মূখে মাস্ক পরে কেনাবেচা করছেন। উল্লেখ্য রবিবার পর্যন্ত বাগেরহাট জেলায় মোট ৭৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হলে। এর মধ্যে ১৫ জন সুস্থ হয়েছেন। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির বলেন। এরআগে বাগেরহাটে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির এক জরুরী সভা শনিবার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাগেরহাট জেলা সুযোগ্য পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়,বাগেররহাট সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির,বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুল ইসলাম, পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির
উদ্দিন,ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন দাশ,বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানজিল্লুর রহমান,বাগেরহাট জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ফিরোজুল ইসলাম, চেম্বার অব কমার্স এ- ইন্ডাট্রিজের সভাপতি লিয়াকত হোসেন লিটন, বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদি আহাদ উদ্দিন হায়দার জেলা বিএমএ ও স্বাচিপ সভাপতি ডা. মোশাররফ হোসেন,বাগেরহাট সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খান রেজাউল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। উপস্থিত সকল সদস্যের মতামত নেয়ার পর জেলা প্রশাসক বলেন, সামাজিক দুরত্ব না মানা ও মাস্ক ব্যাবহার না করলে আরো কঠোর ব্যবস্থা, বাজার সরিয়ে নেয়া, ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকে বিশেষ পর্দার ব্যবস্থা, বিকাল ৪টার পরে সবাইকে ঘরে থাকা নিশ্চিত করা হবে।
ফুলতলায় ইউএনওসহ করোনা পজেটিভ ৯
ফুলতলা প্রতিনিধি
খুলনার ফুলতলায় নতুন করে ইউএনওসহ ২ ব্যাক্তির শরীরে কোভিট-১৯ রিপোর্ট পজেটিভ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ফুলতলা উপজেলায় মোট আক্রান্ত সংখ্যা দাড়ল ৯ জনে। রোববার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পিসিআরের রিপোর্ট অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভীন সুলতানা (৩৫) এবং ফুলতলার বুডিয়ারডাঙ্গা গ্রামের মৃতঃ দাউদ শেখের পুত্র ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারী মোঃ শেখ আসাদুজ্জামান (৫৩)।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ৮ জুন কোভিট-১৯ পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ৬দিন পর রোববার (১৪ জুন) রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পিসিআর থেকে কোভিট-১৯ এ পজেটিভ রিপোর্ট প্রকাশ পায়। প্রসঙ্গতঃ এর পূর্বে ফুলতলার দামোদর সাহাপাড়া এলাকায় দূর্গাপদ সাহার পুত্র সুমন সাহা (৩৮), ইস্টার্ন জুট মিলস লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার (একাউন্স এন্ড ফাইনান্স) মোছাঃ শারমীন আক্তার (২৭), একই মিল শ্রমিক ও অভয়নগরের নাউলী গ্রামের মোঃ ইবাদ আলী শেখের পুত্র মোঃ আজিজুর শেখ (৩৮), মিল শ্রমিক ও একই গ্রামের আজিবর শেখ এর স্ত্রী পারুল বেগম (২৯) এবং মিল শ্রমিক ও ফুলতলার (এম এম কলেজের পাশে) পয়গ্রামের কামরুজ্জামান ওরফে সনুর পুত্র মেহেদী হাসান (২৫) এবং ইস্টার্ন জুট মিলস লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপক (এক্সপোর্ট) মোঃ পারভেজ হোসেন (৪৩), ফুলতলায় আগত পুলিশের এএসআই মাহমুদ (৩২) কোভিট-১৯ এ পজেটিভ রিপোর্ট প্রকাশ পায়।
শরণখোলায় বজ্রপাতে কৃষকের দুই গাভীর মৃত্যু
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের শরণখোলায় বজ্রপাতে এক কৃষকের দুইটি গাভীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার খাদা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রায়েন্দা ইউপি সদস্য জালাল আহম্মেদ রুমি জানান, এদিন দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার খাদা গ্রামের চাররাস্তা এলাকার লাল মিয়া ফরাজির ছেলে হারুন ফরাজির দুইটি গাভী বৃষ্টিতে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে ছিল। এসময় প্রচন্ড ঝড় ও বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত ঘটলে বজ্রপাতে গর্ভবতী ওই গাভী দুইটির ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গাভী দুইটির আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় কৃষক হারুন ফরাজি দিশেহারা হয়ে পড়েন।
মণিরামপুরে প্রথম করোনায় মৃতের দাফনে তাকওয়া ফাউন্ডেশন
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সিরাজুল ইসলাম বাবু (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ীর ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত বাবু যশোরের মণিরামপুরের রামনাথপুর গ্রামের আব্দুল বারিক মোড়লের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অটোমোবাইলসের ব্যবসা করতেন। এদিকে সোমবার (১৫ জুন) সকালে তাকওয়া ফাউন্ডেশন মণিরামপুর শাখার উদ্যোগে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সিরাজুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এরআগে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তার মরদেহ মণিরামপুরের রামনাথপুরে পৌঁছায়। দাফনকাজে স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনটির সাত সদস্য আশরাফ ইয়াসিন, নাসিম খান, মাহমুদুল হাসান, সাইফুল ইসলাম, সবুজ হোসেন, মাওলানা সামছুজ জামান ও মোহাম্মদ ইউসুফ অংশ নেন। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানাজায় অংশ নিয়েছেন। তাকওয়া ফাউন্ডেশনের মণিরামপুর শাখার সমন্বয়ক নাসিম খান বলেন, করোনাকালীন দুর্যোগে যখন দেখলাম করোনায় মৃতদের দাফন কাপনে কেউ এগিয়ে আসছেন না। মৃতদেহ রেখে স্বজনরা বা এলাকাবাসী পালিয়ে যাচ্ছেন, তখন তাকওয়া ফাউন্ডেশনের ২০ জনের সমন্বয়ে আমরা একটি স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করি। যারা বিনা পারিশ্রমিকে করোনায় মৃতের দাফন কাপন করবেন। আমাদের টিমে দুই জন নারী সদস্য আছেন। যদি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মণিরামপুরে কোন নারীর মৃত্যু হয় তাহলে তাদের গোসলসহ কাপন পরানোর কাজ আমাদের নারী সদস্যরা করবেন। নাসিম আরো বলেন, এই প্রথম আমরা কোন করোনায় মৃতের দাফন করলাম। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমাদের পিপিইসহ অনেক ইকুইপমেন্ট সরবরাহ দিয়েছে। দাফন কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য জীবাণুনাশক স্প্রে মেশিন, সদস্যদের জন্য জীবানু রোধক চশমা এবং জুতার প্রয়োজন রয়েছে। যেগুলো আমাদের নেই। প্রয়োজনীয় সরাঞ্জামগুলো প্রদানে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার, বলেন সমন্বয়ক নাসিম।
প্রসঙ্গত, ১১ দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হন সিরাজুল ইসলাম বাবু। ছয় দিন বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর জ্বর না পড়ায় চারদিন আগে তিনি (বাবু) রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় মৃত্যু হয় তার।
ঝিনাইদহে নতুন করে আরও ৮ জন করোনায় আক্রান্ত
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে নতুন করে আরও ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ১০১ জন। সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিনা বেগম জানান, সোমবার সকালে কুষ্টিয়া ল্যাব থেকে ঝিনাইদহে ৩২ টি রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে ৮ টি পজেটিভ। আক্রান্তরা হলেন সদর উপজেলায় ২ জন, হরিণাকুন্ডু উপজেলায় ১ জন, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৪ জন এবং মহেশপুর উপজেলায় ১ জন। আক্রান্ত ১০১ জনের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ৪৩ জন।
বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক এ্যাড. সৈয়দা সাবিয়া খাতুনের সুস্থতা কামনা
খবর বিজ্ঞপ্তি
বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক এ্যাড. সৈয়দা সাবিয়া খাতুনের সুস্থতা কামনা করে বিবৃতি প্রদান করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি, খুলনা জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেনÑওয়ার্কার্স পার্টির খুলনা জেলা সভাপতি কমরেড এড. মিনা মিজানুর রহমান, মহানগর সভাপতি কমরেড শেখ মফিদুল ইসলাম, জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনসার আলী মোল্লা, মহানগর সাধারণ সম্পাদক কমরেড এস এম ফারুখ-উল ইসলাম, জেলা ও মহানগর সম্পাদকম-লীর সদস্য কমরেড দেলোয়ার উদ্দিন দিলু, কমরেড গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়, কমরেড শেখ মিজানুর রহমান, কমরেড মনির আহমেদ, কমরেড খলিলুর রহমান, কমরেড আব্দুস সাত্তার মোল্লা, কমরেড নারায়ণ সাহা, কমরেড আমিরুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য শেখ সাহিদুর রহমান, কমরেড মনিরুজ্জামান, কমরেড সন্দীপন রায়, কমরেড রেজাউল করিম খোকন, কমরেড কৌশিক দে বাপী, কমরেড আঃ হামিদ মোড়ল, কমরেড মোঃ আলাউদ্দিন, কমরেড মনির হোসেন, কমরেড আরিফুর রহমান বিপ্লব, কমরেড আনোয়ার হোসেন, কমরেড এড. কামরুল হোসেন জোয়ার্দ্দার, কমরেড অজয় দে, কমরেড বাবুল আখতার, কমরেড হাফিজুর রহমান, কমরেড গৌরী ম-ল প্রমুখ।
করোনা আক্রান্ত লকডাউনে থাকা পরিবারের মাঝে সিপিবি’র খাদ্য সহায়তা প্রদান
খবর বিজ্ঞপ্তি
করোনায় আক্রান্ত হয়ে লকডাইনে থাকা নগরীর কয়েকটি পরিবারের মাঝে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র খুলনা মহানগরের উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র খুলনা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এড. বাবুল হাওলাদার উপস্থিত থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেনÑযুব ইউনিয়ন নেতা সৈয়দ রিয়াসাত আলী রিয়াজ, আফজাল হোসেন রাজু, হাফিজুর রহমান প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ এলাকাবাসীকে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা আক্রান্তদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সকলকে মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও আহ্বান জানান।
সিটি মেয়রের শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান-এর ইন্তেকালে খুুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় সিটি মেয়র বলেন মরহুম কামরান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক একজন নিবেদিত প্রাণ জননেতা। মানুষের কল্যানে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। জনকল্যাণে তাঁর অবদান মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। সিটি মেয়র মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
সামাজিক দূরত্ব এবং লকডাউন নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে নৌবাহিনী
খবর বিজ্ঞপ্তি
করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি রোধকল্পে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোভিড-১৯ সংক্রামিত এলাকাসমূহে নানাবিধ সচেতনতামূলক কার্য পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। সরকার নির্ধারিত এলাকাসমূহে লকডাউন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়। সাধারণ জনগণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, একান্ত প্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে অবস্থানের ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক পরিধানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। জনগণকে কাঁচা বাজার, ঔষধের দোকান ও মসজিদ ব্যবহারে সরকারী নীতিমালা অনুসরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে নৌবাহিনী। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের অংশ হিসেবে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা জেলা সদর, বামনা, বেতাগী, তালতলী ও পাথরঘাটা এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ উপজেলাসমূহের বিভিন্ন স্থানে ১৫০টি সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১০০টি পরিবারের মাঝে সোলার প্যানেল বিতরণে সহায়তা প্রদান করা হয়। যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে ইজিবাইক ও মাহেন্দ্রের যাত্রীবহনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দু’জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে এবং মোটরসাইকেল হেলমেটসহ একজন চলাচলের নির্দেশ প্রদান করা হয়। প্রত্যেকের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং মাস্ক মুখের নিচে ঝুলিয়ে রাখলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। নৌ কন্টিনজেন্ট মংলা সামাজিক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিগরাজ বাজার, বুড়িরডাঙ্গা, বৈদ্যমারী, চটেরহাট, চরকানাই, চাদপাই, আপাবাড়ি, মংলা বাজার, হাসপাতাল চত্ত্বর ও ফেরিঘাট এলাকায় টহল অব্যাহত রেখেছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সর্ম্পকিত বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ এবং রাস্তা ও যানবাহনে ১০% কোরিনযুক্ত জীবাণুনাশক পানি ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়। নৌ কন্টিনজেন্ট মংলা জেলা প্রশাসনের ২৮৪টি দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণে সহায়তা প্রদানসহ নিয়মিত টহল ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে ।
ডুমুরিয়ায় গুটুদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পেটালো এক মেম্বরকে
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় গুটুদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এক ইউপি সদস্যকে পিটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার পঞ্চু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ এবং ডুমুরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন।অভিযোগ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৩ নং গুটুদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসান গাজীর সাথে ৪নং ওয়ার্ড সদস্য জয় কুমার মন্ডলের মতবিরোধ চলে আসছে। তারই জের ধরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসান তার দলবল নিয়ে ওই ইউপি সদস্য জয়ের বাড়ির সামনে গিয়ে অশ্লীল গালিগালাজ করতে থাকে। এরপর জয়কে ঘর থেকে টেনে হিছড়ে রাস্তার উপরে নিয়ে লাঠিসোটা দিয়ে পিটাতে থাকে। এসময়ে জয়ের বাবা সুভাষ মন্ডল (৬৯) এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাকেও মারপিট করে। একজন ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক একই পরিষদের এক ইউপি সদস্যকে মারপিটের ঘটনার সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই ইউপি সদস্য ও তার পরিবার।
এদিকে ন্যাক্কার জনক এ হামলার ঘটনায় এলাকাবাসির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনা প্রসঙ্গে জয় কুমার মন্ডল বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে সবসময় তার প্রতিপক্ষ ভাবেন। রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান তার দলবল নিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে রাস্তায় টেনে এনে বাঁশের লাঠি দিয়ে আমাকে এবং আমার বাবাকে মারপিট করে। আমরা ভীত সন্ত্রস্ত এবং অসহায় ও সংখ্যালঘু বলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমাকে ও আমার বাবাকে পিটিয়েছে।ঘটনার প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসান গাজী বলেন, মেম্বর জয় মন্ডল সব সময় আমার কাজের বিরোধিতা করে আসছে এবং আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নুন্যতম সম্মান করে না। এলাকায় আমার ভাবমূর্তি খুন্ন করা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় জমি-দখলের অসংখ্য অভিযোগ আছে। জয় একজন মেম্বর হয়ে সঠিকভাবে জনসেবামুলক কাজ করে না। আমি তার কাছে বিষয়টি জানার জন্য ঘটনার দিন পঞ্চু গ্রামে যেয়ে তাকে (জয়) গ্রাম পুলিশ দিয়ে ডাকি, কিন্তু জয় সকলের সামনে আমাকে অসম্মান করে। যার কারণে আমি তাকে পিটাতে বাধ্য হয়েছি। ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি জিডি হয়েছে। যার নং-৬৬২। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইসলামী আন্দোলন নেতার মৃত্যতে নগর কমিটির শোক প্রকাশ
খবর বিজ্ঞপ্তি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগরের আওতাধীন খানজাহান আলী থানার সহ সভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা, সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মোশারেফ হোসেন (৭২) গতকাল রবিবার রাতে স্টোক করে ইন্তেকাল করেন, ইন্নালিল্লাহে …. রাজিউন। মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতী আমানুল্লাহ, সহ সভাপতি মাওঃ মোজাফ্ফার হোসাইন, মুফতী মাহবুবুর রহমান, সেক্রেটারী শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওঃ দ্বীন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম সজীব মোল্লা, সহ সাংগঠনিক মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, প্রচার সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, সহ প্রচার আব্দুর রশীদ, দপ্তর সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম, সহ দপ্তর মুফতী আমিরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধা জিএম কিবরিয়া, সহ অর্থ আলহাজ্ব মোমিনুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতী ইসহাক ফরীদি, সহ প্রশিক্ষণ মাওঃ হাফিজুর রহমান, ছাত্র ও যুব বিষয়ক মাওঃ ইমরান হোসাইন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইঞ্জিনিয়ার এজাজ মানসুর, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুস ছালাম, মহিলা ও পরিবার বিষয়ক ডাঃ মাওঃ নাসির উদ্দিন, সংখ্যালঘু বিষয়ক আলহাজ্ব আবু তাহের, নির্বাহী সদস্য মাওঃ শায়খুল ইসলাম বিন হাসান, মাওঃ সিরাজুল ইসলাম, আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম, খানজাহান আলী থানার মোঃ মইন উদ্দিন ভূইয়া, মোঃ কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
সাবেক মেয়র কামরানের মৃত্যুতে আ’লীগের শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি গতকাল সোমবার রাত ২ টা ৩০ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। খুলনা মহানগর আওয়ামী পক্ষ থেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড সুজিত কুমার অধিকারি সহ দলের সকল স্তরের নেতাকর্মী। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন।
শর্টগান পরিষ্কার করার সময় গুলিতে পুলিশ কনস্টেবল আহত
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের কালিয়া থানার পুলিশ কনস্টেবল আলমগীর হোসেন (২৮) নিজের সরকারি শর্টগানের গুলিতে আহত হয়েছেন। তাকে প্রথমে কালিয়া হাসপাতালে ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকালে থানার অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
কালিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আহত কনস্টেবল আলমগীর হোসেন ওইদিন সকাল ৯টার দিকে তার নিজের নামে বরাদ্দ থাকা সরকারি শর্টগানটি গুলি ভর্তি অবস্থায় পরিষ্কার করার সময় একটি গুলি বের হয়ে তার বাম হাতের আঙ্গুলে বিদ্ধ হয়েছে। এরপর তাকে প্রথমে কালিয়া হাসপাতালে ও পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চুরি করতে এসে ফ্যাটে তিন দিন থাকা-খাওয়া সেই মাসুম কারাগারে
ঢাকা অফিস
ফ্যাটে চুরি করতে এসে তিন দিন থাকা-খাওয়ার পর গ্রেপ্তার সেই মাসুমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৫ জুন) ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদার রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন তাকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। মাসুমের পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদশ দেন।
জানা যায়, ক্যাফে বন্ধ থাকায় গুলশানের নর্থ অ্যান্ড কফির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুক্তরাষ্ট্রের রিচার্ড হাবার্ড দেশে ফিরে যান। ফ্যাটটি খালি থাকলেও এর ভেতরে ছিল সিসিটিভি ক্যামেরা।
‘গুলশানের ঘরটি নিরাপদে আছে কি না’ নিজের মোবাইল ফোন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘরে বসেই নিয়মিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতেন রিচার্ড। তবে শনিবারের (১৩ জুন) ফুটেজে হঠাৎ দেখতে পেলেন কেউ তার ঘরে হাঁটাহাঁটি করছে। ফ্রিজ থেকে খাবার ও ওয়াইন নিয়ে টেবিলে রেখে এক যুবকের নাচের দৃশ্য দেখে অবাক হন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে জানান তার বাংলাদেশের সহকর্মীকে। সহকর্মী খবর দেন পুলিশে। শনিবার (১৩ জুন) রাতে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ৮৯ নম্বর সড়কের ভবনে ঢোকে পুলিশ। সংযুক্ত ড্রয়িং ও ডাইনিং টেবিলে অবস্থান নেয় তারা। কাউকে দেখতে না পেলেও টেবিলের ওপর কিছু রান্না করা খাবার ভর্তি কড়াই, জুসের প্যাকেট ও ওয়াইনের বোতল দেখতে পান তারা।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে লুকিয়ে পরে মাসুম। পরে বেডরুমের টয়লেট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আগামী ৩ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা
ঢাকা অফিস
দেশে মৌসুমী বায়ু বিস্তার লাভ করায় আগামী তিনদিন বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্র বন্দরসমূহকে সতর্কতা সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। তবে নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ রাজশাহী, রংপুর, পাবনা, বগুড়া, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম/দক্ষিণ দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিন সকাল ৬টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, খুলনা,বরিশাল ও রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ারসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও-কোথাও মাঝারী ধরণের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ।
সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
ভার্চুয়াল বেঞ্চেই চলবে হাইকোর্টের মামলার শুনানি
ঢাকা অফিস
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল হাইকোর্টে মামলার শুনানি চলবে। সোমবার (১৫ জুন) হাইকোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য প্রধান বিচারপতি নিম্নরুপ বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন, বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামকে ফৌজদারি বেঞ্চের দায়িত্ব দিয়েছেন। বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি জে বি এম হাসান, বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান রিট বেঞ্চের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার দেওয়ানি বেঞ্চের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
পাইকগাছায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নুর মোহাম্মদ রেজা (৪৫) নামে ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছেন। সে দীর্ঘদিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে রোববার রাতে এসআই মুনতাসির মাহমুদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রেজাকে গদাইপুর থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সুত্র জানায়, তিনি সিআর- ১১৪/০৮ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী। ওসি মোঃ এজাজ শফী জানান, সোমবার সাজাপ্রাপ্ত পালাতক আসামী রেজাকে পাইকগাছার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
পাইকগাছায় ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে চাঁদা দাবীর অভিযোগ
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছায় ভোক্তা অধিকারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটের পরিচয় দিয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে ফাঁদে ফেলতে মিষ্টির দোকানদারদের কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মন্ডল জানান, ১৫ জুন সোমবার বেলা ১ টার দিকে ভোক্তা অধিকারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ০১৭১৩-১৬৬৬২১ মোবাইল নম্বর দিয়ে আমার কাছে ফোন করে বলেন, উপজেলায় কতগুলো মিষ্টির দোকান আছে এবং করোনা সংকট লকডাউনে পৌরসভার ক’য়টি মিষ্টির দোকান খোলা রয়েছে তাদের নাম ঠিকানা জানতে চান। আমার মাধ্যমে নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে তিনি মিষ্টির দোকানদার কুমারেশ মন্ডল, শচীন মন্ডল, শুভংকর ঘোষ সহ অনেকের কাছে ০১৯১০-৫৪১৯৩৯ নম্বর দিয়ে ফোন করে সীমিত আকারে দোকান খোলা রাখার কথা বলে অর্থ দাবী করেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যে কানাঘুষা হলে দ্রুত স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পর্যন্ত গড়ায়। জানা গেছে, পরবর্তীতে বিষয়টি পরিস্কার হবার জন্য ইন্সপেক্টর উক্ত ২টি মোবাইল নম্বর একাধিকবার ফোন দিলে তা বন্ধ থাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। অর্থ দাবীর বিষয়ে মিষ্টি ব্যবসায়ী কুমারেশ মন্ডল সত্যতা স্বীকার করে জানান, ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ঐ ব্যক্তি কাউকে কোন কিছু না বলার শর্ত দিয়ে মোবাইলে ১০ হাজার টাকা দাবী করেন। এ ঘটনায় ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মন্ডল বাদী হয়ে থানায় জিডি করেছেন, যার নং- ৮৩৮।
পাইকগাছায় মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে আরআরএফ-এর ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছায় আরআরএফ-এর উদ্যোগে পিকেএসএফ সহযোগিতায় ১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংস্থার উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে প্রত্যেকের ১২ হাজার করে টাকা প্রদান করেন ইউএনও জুলিয়া সুকায়না। আরআরএফ-এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, সংস্থার সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম সিদ্দিকী ফিরোজ, সমাজসেবা কর্মকর্তা সরদার আলী আহসান, শেখ আরিফুর রহমান, ইখলাছুর রহমান, প্রতীম সাহা, উজ্জ্বল কুমার মল্লিক ও মনিশংকর মন্ডল।
দৌলতপুর শাখার শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন(এসএনএফ) দৌলতপুর শাখার উদ্যোগে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এর কারণে কর্মহীন ও অসহায় হতদরীদ্র ২৫ জন সদস্যদের মাঝে সামাজিক ও শারিরিক দুরত্ব বজায় রেখে ১৫ জুন সোমবার বেলা ১১টায় মিরেরডাঙ্গা সেনপাড়া মোড়স্থ কার্যালয়ে খাদ্য সামগ্রী উপহার দেন। খাদ্য সামগ্রীর ভিতর ছিল ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ টা সাবান ও ১টি মাস্ক। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র শাখা ব্যাবস্থাপক মোঃ ওলিউল্লাহ, এরিয়া ইনচার্জ মোঃ শামিম আহম্মদ, অ্যাকাউন্ট অফিসার্স মোঃ কেসমত আলী, খানজাহান আলী থানা সাংবাদিক ইউনিটি’র সভাপতি শেখ বদর উদ্দিন সহ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ ।
গিলাতলা বারাকপুর খেয়াঘাটের উন্নয়ন মুলক কাজ পরিদর্শনে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
গিলাতলা বারাকপুর খেয়াঘাটের মাটি ভরাট ও ইটের সলিং এর উন্নয়ন মুলক কাজ ১৫ জুন সোমবার বেলা ১২ টায় পরিদর্শন করেছেন ফুলতলা উপজেলার ১নং আটরা গিলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ মনিরুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন দিশারি যুব পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদুর রহমান হিরোক, মোঃ আমজাদ হোসেন, গিলাতলা যুব সংঘের সভাপতি সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক , সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, শেখ শাহিনুর রহমান , সাংবাদিক মিহির রঞ্জন বিশ্বাস , মামুন মোল্লা , ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এর মোঃ মনিরুল ইসলাম, রফিক, তমজিদ , শেখ বাবু প্রমুখ ।
মহেশপুরে পুলিশের পৃথক অভিযানে ফেন্সিডিল ও গাজাসহ নারী-পুরুষ আটক
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মহেশপুর থানা পুলিশ গত রোববার রাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ মিরাজ হোসেন (২৬) ৫০০ গ্রাম গাজাসহ শখের বানু (৪০) নামের দু’ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। থানা সুত্রে জানাগেছে, রোববার রাত ৯টার দিকে থানার এস আই আওয়াল হোসেন ও এ এস আই সিরাজুল ইসলাম সীমান্ত বর্তী খোশালপুর গ্রাম থেকে ৫৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ খোশালপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেনকে আটক করে। একই সময় থানার এস আই আব্দুল জলিল পৌর এলাকার জলিলপুর গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম গাজাসহ রবিউল ইসলামের স্ত্রী শথের বানুকে আটক করে। মহেশপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মোহাম্মদ মোর্শেদ হোসেন খান জানান,আটক কৃতদেরকে ঝিনাইদহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
মহেশপুরে কৃষকলীগের আমের চাড়া রোপন
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি
সারাদেশে আওয়ামীলীগের উদ্যোগে গাছের চারা রোপনের অংশো হিসেবে গতকাল সোমবার সকালে মহেশপুর উপজেলা কৃষকলীগের উদ্যোগে ডাকবাংলো চত্তরে আমের চারা রোপন করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ,সাধারণ সম্পাদক মীর সুলতানুজ্জামান লিটন,উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আমিনুর রহমান,সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনিরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
মহেশপুরে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের সামগ্রী খাদ্য সামগ্রী বিতরন
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের উদ্দোগে করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্থ দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। সোমবার সকালে মহেশপুরে শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে শাখা ব্যাবস্থাপক শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে খাদ্য সামগ্রী বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর পৌর সভার মেয়র আব্দুর রশিদ খাঁন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর সভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহাগ খাাঁন, শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের মহেশপুর সাখার টিম লিডার ইব্রাহিম হোসেন ও ভিসিএফ ফাইসাল মাহমুদ জোয়াদ্দার প্রমুখ। এময় করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলার ১০৫ জন দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ১০ কেজি চাউল,৩ কেজি আলু,১লিটার তেল,১টি জিবানুনাশক সাবান ও মাস্ক বিতরন করা হয়।
ঝিনাইদহে কৃষকের বাড়িতে ডাকাতি, গরু, নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী গ্রামে সুলতান মিয়া নামের এক কৃষকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কৃষকের ৮ টি গরু, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল, বিদেশীয় কম্বলসহ মালামাল লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগিরা জানায়, গেল রাত আড়াই টার দিকে ট্রাক ও পিকআপ নিয়ে একদল ডাকাত পুলিশ পরিচয়ে কৃষক সুলতান মিয়ার বাড়িতে ঢোকে। এসময় তারা বাড়ির ৭ সদস্যকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ সাড়ে ১৬ হাজার টাকা ও ৫ টি মোবাইল ফোন লুটে নেয়। প্রায় এক ঘন্টা ধরে লুটপাট চালায়। এরপর গোয়াল থেকে ৮টি গরু ট্রাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে তারা রুমের জানালা ভেঙ্গে বাইরে এসে প্রতিবেশীদের খবর দেয়। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ^াস জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শর্ন করেছে। থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ডাকাতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।
ঝিনাইদহে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সচেতনতামুলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে সিভিল সার্জন অফিসের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল সায়েন্স হোম নামের একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের লাইফস্টাইল, হেলথ এডুকেশন এন্ড প্রমোশন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো। সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা: প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থ, ডা: নিশাত তাসনিম, স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন লাইফস্টাইল, হেলথ এডুকেশন এন্ড প্রমোশন এর টিম লিডার তানজীলা সুমাইয়া সিদ্দিকীসহ চিকিৎসকরা অংশ নেয়।
এসময় মহামারী করোনায় ভাইরাসসহ নানা রোগের সংক্রমন প্রতিরোধে হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য উৎস পর্যায় থেকে নির্দিষ্ট পাত্রে পৃথকীকরণ করে সংগ্রহ ও সঠিক উপায়ে ব্যবস্থাপনার করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেওয়া নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঝিনাইদহে করোনা প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর টহল
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে করোনার সংক্রমন প্রতিরোধে পথচারিসহ সকল মানুষকে মাস্ক পরা ও সরকারি বিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানিয়েছে সেনাবাহিনী। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলা শহরের পায়রা চত্বর, মুজিব চত্বর, আরাপপুরসহ বিভিন্ন স্থানে তারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসময় রিক্সা চালক, মোটর সাইকেল আরোহী, পথচারীদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন। এর আগে সেনাদল শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন ও স্বাস্থ্য বিধি মিনে চলার আহবান জানান।
ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক এডভোকেসী সভা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক এডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জনের সম্মেলন কক্ষে উইটি নেট সার্স নামের একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের, হেলথ এডুকেশন এন্ড প্রমোশন প্রকল্প। এসময় সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা: প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থ, ডা: নিশাত তাসনিম, স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুজ্জামানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের তত্বাবধানে ছিলেন , হেলথ এডুকেশন এন্ড প্রমোশন এর টিম লিডার শবনম নদী। এসময় বক্তারা, সড়ক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, গাড়ির ফিটনেস নিশ্চিত করা, গাড়ী চালানো অবস্থান মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন না করা, দৌড়ে রাস্তা পার না হওয়া, রাস্তা পারপারের সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোনে কথা না বলাসহ নানা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানান।
ঝিনাইদহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদোগে মসজিদ ও পাঠাগারে আলমারী, বই প্রদান
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত অর্থ হতে ৬টি উপজেলায় ১৬টি মসজিদে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার ১৬ টি আলমারী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত ১ম কিস্তির ১লাখ ২২ হাজার টাকার বই প্রদান করা হয়। সোমবার দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: আব্দুল হামিদ খান এর সভাপতিত্বে আলমারী ও বই প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলার জেলা প্রশাসক জনাব সরোজ কুমার নাথ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) খান মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভুটিয়ারগাতী আলিম মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাও: আবুবকর ছিদ্দীক, জেলার মসজিদের ইমাম ও মসজিদ কমিটির সভাপতিগণ । প্রধান অতিথি বলেন পাঠাগারের বই হচ্ছে জ্ঞানের খোরাক । আপনারা নিজে বেশী বেশী বই পড়বেন এবং অন্যদেরকে বই পড়তে উৎসাহিত করবেন। এছাড়াও বই সংরক্ষণের ব্যাপারে যথাযথ ভাবেই দায়িত্ব পালন করতে হবে । সরকারের পাশাপাশি পাঠাগারে বই বৃদ্ধিতে মসজিদ কমিটির সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। পরিশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনা করে এবং মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
সাতক্ষীরায় জব্দকৃত ৪৮ মেট্রিকটন সরকারি গম আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ
খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থেকে জব্দকৃত প্রায় ৪৮ মেট্রিকটন সরকারি গম অবশেষে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত উপকুলীয় এলাকা শ্যামনগর ও আশাশুনির ৬ টি ইউনিয়নের সাড়ে ৬ হাজার হতদরিদ্র বানভাসী মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। রোববার ও সোমবার সকালে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান নিজ হাতে এ গম বিতরণ করেন। এ সময় তাকে এ কাজে সহায়তা করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) জামিরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) ইয়াছিন আলী, জেলা বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হুদা, আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ গোলাম বারী, অনলাইন পত্রিকা ডেইলি সাতক্ষীরার সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম প্রমুখ।
পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এ সময় বলেন, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, পদ্মপুকুর ও কৈখালী এবং আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলার সাড়ে ৬ হাজার হতদরিদ্র বানভাসী মানুষের মাঝে ১৪ কেজি করে এই গম বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তিনি আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছেন।
ফুলতলায় রূপান্তরের এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক অনলাইনে সভা
ফুলতলা প্রতিনিধি
রূপান্তর আয়োজিত এসডিজি বাস্তবায়ন নাগরিকদের অংশগ্রহণ প্রকল্প ফুলতলা উপজেলা শাখার উদ্যোগে করোনাকালিন সময়ে ফুলতলায় স্বাস্থ্যসেবা, ত্রান ব্যবস্থাম স্বাস্থ্য বিধি, সরকারি নির্দেশনা ও প্রকল্পের সচেতনতামুলক কার্যক্রম বিষয়ে এক ভিডিও কনফারেন্স সোমবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি প্রধান শিক্ষক মনিরা পারভীনের সভাপতিত্বে এবং রূপান্তরের প্রজেক্ট অফিসার বিপুল রায়ের পরিচালনায় বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন প্রেসকাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রেসকাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, সমাজসেবক নূর হোসেন অঞ্জন ও সাবেক ইউপি সদস্য সাহিদা ইসলাম নয়ন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী এসএম মঞ্জুরুল ইসলাম, এম এন্ড ই অফিসার ফারাহ বি তাবাসসুম, প্রজেক্ট অফিসার গোলাম মোস্তফা ও ধনঞ্জয় সাহা বাপি প্রমুখ।
গিলাতলা বারাকপুর খেয়াঘাটের উন্নয়ন মুলক কাজ পরিদর্শনে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি
গিলাতলা বারাকপুর খেয়াঘাটের ( সন্নাসিরহাট খেয়াঘাটের) মাটি ভরাট ও ইটের সলিং এর উন্নয়ন মুলক কাজ সোমবার বেলা ১২ টায় পরিদর্শন করেছেন ফুলতলা উপজেলার ১নং আটরা গিলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মনিরুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন দিশারি যুব পর্ষদের সাধারন সম্পাদক কাজী আজাদুর রহমান হিরোক, মোঃ আমজাদ হোসেন, গিলাতলা যুব সংঘের সভাপতি সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক , সাধারন সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শেখ শাহিনুর রহমান , সাংবাদিক মিহির রঞ্জন বিশ্বাস , মামুন মোল্লা , ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এর মোঃ মনিরুল ইসলাম, রফিক, তমজিদ , শেখ বাবু প্রমুখ ।
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ সদর থানা শাখার জরুরী সভা অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
সোমবার, সকাল ৮ টায় জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ সদর থানা সভাপতি মুফতী ফখরুল হাসান কাসেমীর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাদের এর পরিচালনায় জরুরী সভা রেলস্টেশন মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জরুরী সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষত কয়রা উপজেলায় হাজারো পরিবার পানিবন্ধি, পানিতে ডুবে মানবেতর জীবন জাপন করছে, তাদের সহযোগিতার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। কারণ ঝড়ে তাদের সহায় সম্বল ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, রাস্তায় এবং সাইকোন সেন্টারে খারাপ অবস্থায় দিন রাত অতিবাহিত করছেন ওখানকার মানুষেরা। আইম্মা পরিষদ একটি ত্রাণ কমিটি গঠন করেছে, মহানগরীর আওতাধীন সব থানা থেকে সম্মিলিত ভাবে নগর কমিটি পানিবন্ধি অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করবেন। সভায় অতিথি ছিলেন আলহাজ্ব মুফতী আমানুল্লাহ, মুফতী মাহবুবুর রহমান, মুফতী আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মুফতী আলী আহমাদ, মুফতী ইমরান হুসাইন, মাওলানা শায়খুল ইসলাম বিন হাসান। উপস্থিত ছিলেন মুফতী আজিজুল হক, মুফতী রাকিব উদ্দিন, মুফতী আব্দুল্লাহ, মুফতী শেখ আমীরুল ইসলাম, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা ওসমান গনি, হাফেজ মাওলানা হুসাইন আহমাদ, মাওলানা আলী আকবার, মাওলানা ইসমাঈল হোসেন, মাওলানা আব্দুর জব্বার, হাফেজ জামিরুল ইসলাম, শায়েখ শামছুর রহমান বাবুল, মাওলানা গাজী হাবিবুল্লাহ, মুফতী জিয়াউর রহমান, মাওলানা আলী আজম সহ উলামায়ে কেরাম।
করোনা হতে আরোগ্য লাভ করায় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষে থেকে ফুলের শুভেচ্ছা
কে এম রেজাউলকরিম দেবহাটা:
দেবহাটায় মহামারী করোনা ভাইরাসকে জয় করে সুস্থ্য হওয়া ১৫ জন ব্যাক্তির বাড়ীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুল ও ঔষধসহ শুভেচ্ছা সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরীন দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ্য হওয়া ওই ১৫ জন ব্যাক্তির বাড়ীতে গিয়ে এসকল ফুল, ঔষধসহ শুভেচ্ছা সামগ্রী পৌঁছে দেন। প্রত্যেককে দেয়া শুভেচ্ছা সামগ্রীর মধ্যে ফুল ছাড়াও রয়েছে ১০ টি করে নাপা ট্যাবলেট, ১০ টি ভিটামিন সি ট্যাবলেট, ৬টি ওরস্যালাইন, ৪টি মাস্ক, একটি সাবান ও এক কেজি করে সেমাই ও চিনি। শুভেচ্ছা সামগ্রী বিতরণকালে দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, দেবহাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) উজ্জ্বল কুমার মৈত্র, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার শফিউল বশার ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আরমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে দেবহাটাতে নারায়নগঞ্জ ফেরত যে ২৪ জন ইটভাটা শ্রমিক একই সঙ্গে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তারমধ্যে থেকে উপজেলাতে প্রথমবারের মতো এই ১৫ জন করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ্য হয়েছেন। শনিবার খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে তাদের নমুনা পরীক্ষার পর ওই ১৫ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ বলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সাড়ে ৪৬ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস
ঢাকা অফিস
জাতীয় সংসদে বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট সোমবার কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। এ বাজেট পাসের মধ্যে দিয়ে ২৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে অতিরিক্ত ৪৬ হাজার ৫১৬ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয় করার অনুমতি দিয়েছে জাতীয় সংসদ। এর আগে সম্পূরক বাজেটের ওপর সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয় করতে ব্যর্থ হওয়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন এবং অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাবে আপত্তি জানান। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার জাতীয় সংসদে এই অর্থ অনুমোদনের জন্য ২৬টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে দুটি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হচ্ছে- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। বাকি মঞ্জুরি দাবিগুলো সরাসরি ভোটে দেয়া হয়। অবশ্য সব ছাঁটাই প্রস্তাবই কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল-২০২০ কণ্ঠভোটে পাস হয়। সম্পূরক বাজেট পাস শেষে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ অধিবেশন আগামী ২৩ জুন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।
সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈশ্বিক মহামারী থেকে দেশের জনগণকে রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, এখন যদি খরচ না করি তবে মানুষ বাঁচবে কেমন করে? আর মানুষকে যদি বাঁচাতে না পারি তবে দেশ কার জন্য? দেশের বাজেট কার জন্য? বাজেট তৈরি করেছি দেশের মানুষকে সামনে রেখে, দেশের মানুষকে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করতে। বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দেশের মানুষকে রক্ষায় এবার বিপুল অংকের অর্থ প্রণোদনা প্যাকেজ হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি মানুষকে রক্ষায় কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে পারেনি তাদের হ্রাসকৃত বরাদ্দের জন্য সংসদের অনুমতির কোন প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে কেবলমাত্র তাদের বরাদ্দই সংসদের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার সংসদে এই সম্পূরক বাজেট পাস হয়। সম্পূরক বাজেটের ওপর মোট ২৪টি দাবির বিপরীতে মোট ১৬৭টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনা হয়। ব্যয় বরাদ্দের বিরোধিতা করে ছাঁটাই প্রস্তাব এনে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির পীর হাবিবুর রহমান, রওশন আরা মান্নান, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও বিএনপির হারুনুর রশীদ। অবশ্য তাদের ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পক্ষে ৫টি মঞ্জুরি দাবি নিজেই উত্থাপন করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার উত্থাপিত দাবিগুলো ছিল- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সংশ্লিষ্ট।
সংসদে উত্থাপিত বিদায়ী অর্থবছরের সম্পূরক আর্থিক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটে ৬২টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের অনুকূলে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সংশোধিত বাজেটে ২৬টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের বরাদ্দ ৪৬ হাজার ৫১৬ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৩৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের বরাদ্দ ১৮ হাজার ৩৫৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা হ্রাস পেয়েছে। সার্বিকভাবে ২১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে সংশোধিত বরাদ্দ নিট দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ এক হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। সম্পূরক বাজেটে অর্থ বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার ৩৫৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে এবং সবচেয়ে কম এক কোটি ৫৪ লাখ কম বরাদ্দ পেয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। সংশোধনে তা ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি, কোন ছাড় নয়: ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত এক হাজার ২৩২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্দের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বলেন, করোনাকালীন সমন্বিত একটি তালিকা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়। জনগণের আমানত এই দুর্যোগে প্রকৃত মানুষের পাওয়া উচিত। অথচ ৭০ ভাগ যারা সাহায্য পাওয়র যোগ্য তারা বঞ্চিত হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণে নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জবাবে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান বলেন, প্রায় ৫ কোটি পরিবারকে সাহায্যের তালিকায় এনেছি। আর ত্রাণ বিতরণে কোন ধরনের দুর্নীতি না হয় সেজন্য ডাটাবেজ তৈরি করে বিতরণ করা হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে তালিকা বেড়েই যাচ্ছে। রেড জোনগুলোতে লকডাউন করার পর সেখানেও সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। ত্রাণ নিয়ে নয়-ছয়ের সঙ্গে জড়িত কাউকেই প্রধানমন্ত্রী ছাড় দেননি, গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের বিরোধিতা: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত ১২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে আরও অধিক স্বচ্ছতা আনা উচিত। বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে মানুষ চরম কষ্টে রয়েছে, কিন্তু বয়স্ক-বিধবা-স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা প্রদানেও স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য করা হচ্ছে। প্রবাস থেকে চাকরি হারিয়ে অনেকে ফেরত আসবে, কিন্তু এ মন্ত্রণালয় থেকে তাদের পুনর্বাসনে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিরোধী দলের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভাতা প্রদান করতে আমরা সক্ষম হবো। করোনার করালগ্রাস থেকে মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে সমাজকল্যাণ খাতের সব টাকা মানুষকে রক্ষায় ব্যয় করা হয়েছে। এজন্য এমপিদের খাতে বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হয়নি।
জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলার দাবি বিএনপির: করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা মোঃ হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। পৃথিবীর চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রুপে বিধ্বস্ত। তাই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরকার অবশ্যই জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা রাখি। এই সময়ে জাতির মধ্যে থাকা ক্ষতগুলো দূর করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের এই দুর্বিসহ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা কি? সরকারী হাসপাতালগুলোর কি অবস্থা? বিএসএমএমইউ’র মতো একটা স্পেশালাইজড হাসপাতাল সেখানে এখন পর্যন্ত কোভিডের চিকিৎসা চালু করা যায়নি। সারাদেশেই স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা খুবই করুন। করোনা নমুনা পরীক্ষার হার বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঘরে ঘরে উপসর্গ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে, নমুনা পরীক্ষা হার বাড়ানো। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দেশ, প্রতিদিন মাত্র ৮-১০ হাজার মানুষের নমুনা সংগ্রহ করছি, তার ফলাফল প্রকাশ করছি। এটি খুবই সীমিত। এখন পর্যন্ত জেলা হাসপাতালগুলোতে কোন ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি। জেলাগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহের ১০ দিন পর ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এটা দুঃখজনক। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেন আগে খরচ করব, টাকা কোথায় থেকে আসবে জানি না। একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে এ রকম বক্তব্য আসতে পারে? তাহলে বাজেট কী জন্য? বাজেট দিয়েন না, টাকা খরচ করতে থাকেন। টাকা খরচ করার পর বাজেট দিয়েন।
সর্বশেষ: ছুটি শুধু রেড জোনে
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
করোনাভাইরাসের আধিক্য বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে যে তিনটি জোনে ভাগ করা হচ্ছে, তার মধ্যে শুধু লাল (রেড) জোনে সাধারণ ছুটি থাকবে ১৬ থেকে ৩০ জুন। এসব অঞ্চলে বসবাসকারী সরকারি কর্মকর্তাও এই ছুটির আওতায় পড়বেন। তবে হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে সবকিছু। ১৫ জুন, সোমবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিবর্তিত নির্দেশনায় এ কথা জানানো হয়। এর আগে সোমবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় লাল ও হলুদ অঞ্চলে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। পরে সন্ধ্যায় এই পরিবর্তিত আদেশ আসে। পরিবর্তিত আদেশে বলা হয়, লাল অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক ও অসামরিক সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি দফতরগুলো এবং এলাকাগুলোতে বসবাসকারী ওই দফতরগুলোর কর্মকর্তাও সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে যেভাবে অফিস চলছে, হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে অবস্থিত অফিসগুলো ১৬ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেভাবেই চলবে বলে আদেশে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। সীমিত পরিসরে অফিস খোলা থাকার সময় অর্থাৎ ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের গণপরিবহনও চলাচল করতে পারবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অনুরোধ অনুসারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অঞ্চল সংক্রান্ত বিষয়াদি সমন্বয় করবে।
আদেশে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ (মূলত স্বাস্থ্য বিভাগ) লাল, হলুদ ও সবুজ অঞ্চল ভাগ করে জীবনযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যেক এলাকার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করতে হবে। এদিকে ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বর্তমান সময়ের মতো (৩১ থেকে ১৫ জুনের নিয়মকানুন) নিষেধাজ্ঞাগুলো থাকবে। এখনকার মতো ৩০ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও বিমান চলাচল করতে পারবে। অঞ্চলভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং ব্যবস্থাও চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দেবে। সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১২ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্র ছাড়া সব সভা ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আয়োজন করতে হবে। হাটবাজার, দোকানপাট ও শপিংমল এখনকার মতোই ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য বিষয়গুলোও এখনকারমতো নিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে পারবে।











































