খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার ৬ বছর আজ। আলোচনাতেই পার হয়ে গেছে অর্ধযুগ। কূটনৈতিক মহলে তোড়জোড় ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি নেই। এদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কমেছে অর্থ বরাদ্দ। বেড়েছে হত্যাসহ নানা অপরাধের ঘটনা। চলতি বছরেই ক্যাম্পে খুন হন ৫৩ জন, এরমধ্যে ৩৫ জনই রোহিঙ্গা নেতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ অপরাধের মতো করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থামানো যাবে না।
রাখাইনের মানচিত্র থেকে রোহিঙ্গাদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতে ২০১৭ সালে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই বছরের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ঢল বাংলাদেশের দিকে। পাঁচ মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে, আগের ছিল চার লাখ, আর এখন এই আশ্রিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৪ লাখ।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ২০১৮ সালে এবং পরে চীনের মধ্যস্থতায় বৈঠক হলেও ফলাফল শূন্য।
বিশ্ব রাজনীতি অন্য সমস্যায় জড়িয়ে যাওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যু কম গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যত দিন যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবতার দৃষ্টি তত দূরে সরে যাচ্ছে। চলতি বছরে, মার্চ ও জুন মাসে দুই দফায় আর্থিক বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।
রোহিঙ্গারা জড়াচ্ছে অপরাধকর্মে, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৮৫টি খুনের ঘটনা ঘটে, এরমধ্যে চলতি বছরেই ৫৩ জন খুন হন, যার মধ্যে ৩৫ জনই ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনায় জড়িত।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২২ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত মামলার চিত্রে দেখা যায়:
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলা: ২ হাজার ৪৩৮টি। আসামির সংখ্যা: ৫ হাজার ২২৬ জন। অস্ত্র সংক্রান্ত মামলা: ১৮৫টি। মাদক সংক্রান্ত: ১ হাজার ৬৩৬টি। ধর্ষণ: ৮৮টি। হত্যা: ১১৫টি। অপহরণ ও মুক্তিপণ সংক্রান্ত মামলা: ৩৯টি।
দিন যত গড়াচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কঠিন হয়ে উঠছে, এ জন্য মিয়ানমারের নানা ছলছুতাকে দায়ি করছে বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গারা নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে, যাকে ভবিষ্যতের জন্য হুমকি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।










































