ঢাকা অফিস।।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ বলে কোনও রাজনৈতিক দল আছে আমার সেটা মনে হয় না। কারণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শুধু শিখেছে কীভাবে ভোট চুরি করতে হয়। কীভাবে টেন্ডারবাজি করতে হয়। কীভাবে জায়গা দখল করতে হয়। আর গুম খুন করে কীভাবে এলাকা দখল করতে হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসসি) আয়োজিত ‘সিরাজুল ইসলাম খান এবং আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে এই দেশটা চালাচ্ছে কিছু দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী। তারা নিজেদের ব্যবসা যেভাবে চালায় সেইভাবে দেশটাও চালানোর চেষ্টা করছে। ব্যাংক লুটপাট, শেয়ার মার্কেট লুটপাট, মেগা প্রজেক্টের নামে লুটপাট করছে। এইভাবে তারা লুটপাট করছে, কিন্তু প্রশ্ন করা যাবে না।
তিনি বলেন, স্বয়ং আওয়ামী লীগের প্রধান নির্বাচনে বিশ্বাস করেন না। তিনি আইনের শাসন, মানবাধিকার বিশ্বাস করেন না। বিশ্বে এরকম কোনও দেশ আছে, এরকম কোনও দল আছে, যাদেরকে রাজনীতিবিদ বলা যাবে? এদের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নাই। এরা দখলদার।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস লিখবেন ইতিহাসবিদরা, কিন্তু যদি রাজনীতিবিদরা ইতিহাস লেখে তাহলে সেটার ইতিহাস থাকে না। বিশেষ করে বর্তমানে ভোট ডাকাত, ফ্যাসিবাদী অবৈধ সরকারের রাজনীতিবিদরা যদি ইতিহাস লেখেন তাহলে সেটা তো আরও বেশি ইতিহাস থাকে না। ইতিহাস ভালো থাকে না। এটা বর্তমানে বাংলাদেশে হচ্ছে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চুরি হয়ে গেছে। আরেকবার মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যারা চুরি করেছে তাদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত করে সিরাজুল আলম খানের কর্মসূচি দিয়ে আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস ও হত্যা করার জন্য এককভাবে ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগকেই দাঁড়াতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতির এমন একটি ভঙ্গি শুরু করেছে যে ক্ষমতা কিছুতেই ছাড়া যাবে না। গত ১৫ বছরে দেশের দুটি প্রধান দলের মধ্যে একটি বিএনপি। তারা উপলব্ধি করছে তাদের লাখ লাখ নেতাকর্মীর ওপর জুলুম নির্যাতন গুম খুন করা হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি যদি মনে করে স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগের এই শাসন ব্যবস্থা পুনরাবৃত্তি করবে তাহলে কিন্তু বাংলাদেশ এর মধ্যে থেকে বের হতে পারবে না। এই দেশ অস্তিত্বের হুমকির মধ্যে পড়বে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ টানা ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছিল। তখন শেখ হাসিনা বলেছিলেন ‘চিরকালের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকা দরকার’। তাই আমরা বলছি আপনার (প্রধানমন্ত্রী) সামনে আগস্ট মাসটা সম্ভবত সময় আছে। কখন কীভাবে বিদায় নেবেন, আলোচনা করেন।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন–রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জেএসডির সিনিয়র সহ সভাপতি তানিয়া রহমান, সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।










































