ঢাকা অফিস।।
আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে ভোটের আগের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালটসহ নির্বাচনীসামগ্রী পাঠানো হতো। তবে ব্যালটের অপব্যবহার রোধ করে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা বাড়াতে এবার ভোটের দিন সকালে এসব সামগ্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া আগামী নভেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।
ব্যালটের অপব্যবহার ঠেকাতে বেশ কিছু কৌশল নেওয়া হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। তিনি বলেন, সকালে কোথায় ব্যালট পেপার পাঠানো যাবে তা প্রথমে চিহ্নিত করবে কমিশন। আর যেখানে সকালে পাঠানো সম্ভব নয়, পথে অপব্যবহার বা চুরি এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে সেখানে রাতেই ব্যালট পেপার ও উপকরণ পাঠানো হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর চিন্তা-ভাবনা নেই বলে জানান মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ৩০০ আসনে যখন ভোট হয় তখন ৪ লাখ ভোটকেন্দ্র থাকে। সেখানে হয়তো বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র থাকবে, এতগুলো কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে তা দেখা কঠিন। সে ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা… আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশি সদস্য নিয়োগ করব। এদিকে গতকাল বুধবার দুপুরে নির্বাচন
ভবনে নিজ দপ্তরে কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনী অ্যাপ উদ্বোধন করা হবে। প্রার্থীদের অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা, ভোটার, দল, প্রার্থী, প্রতীক, ছবি, ভোটকেন্দ্রের তথ্যসহ বিভিন্ন সেবা এই অ্যাপে পাওয়া যাবে।
একই সময়ে তফসিল ঘোষণার আভাস দিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোট হওয়ার কথা। সাধারণত ৪৫ দিন আগে তফসিল দেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নভেম্বরের কথাই বলেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কমিশনে সিদ্ধান্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার জানান রাজনৈতিক দলগুলোকে আর সংলাপের জন্য ডাকবে না ইসি। তিনি বলেন, আমরা ফোন করেছিলাম এবং তারা সাড়া দেয়নি। রাজনৈতিক বিষয় রাজনীতিবিদদের হাতে থাকা উচিত।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, বিজি প্রেস থেকে ব্যালট পেপার জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যাবে। ব্যালট পেপার থাকবে জেলায় ট্রেজারিতে। উপজেলায় গেলে থানায় রাখা হবে। সেখান থেকে ভোটের দিন সকালে ভোটকেন্দ্রে যাবে। ইতোমধ্যে সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্র বাছাই করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠিত হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত খসড়া তালিকা ইসিতে জমা দেবে।
অ্যাপসে যা থাকছে
কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, মূলত টোটাল ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হবে ওটা (অ্যাপস)। নমিনেশন সাবমিট করা যাবে, এনআইডি নম্বর দিলে অনেক বিষয় অটোপূরণ হয়ে যাবে। ডকুমেন্ট স্ক্যান করে দিতে হবে। নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর নামের তালিকা, ছবি থাকবে। কে কোথায় কোন কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবে। এনআইডি নম্বর দিয়ে অ্যাপসে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এতে গুগল ম্যাপেও ভোটার তার ভোটকেন্দ্র দেখতে পারবেন। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নামের তালিকা থাকবে। দুই ঘণ্টার অন্তর অন্তর ভোট পড়ার হার জানানো হবে। ১০টা, ১২টা, ২টা ও বিকাল ৪টায় আপডেট থাকবে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ফলাফল আমরা অ্যাপসে কেন্দ্রভিত্তিক দেখতে পারব। বেসরকারি ফলাফলটাও দেখা যাবে।
ইসি আনিছুর রহমান বলেন, অ্যাপসের ফলে নির্বাচনে সহিংসতা বা শক্তি প্রদর্শন কমে আসবে। ভোটাররাও সহজেই কেন্দ্র সম্পর্কে জানতে পারবে। প্রার্থীও কত ভোট পড়েছে তাও জানতে পারবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার তালিকা ম্যানুয়ালি করতে হয়, এতে অনেক সময়ের ব্যয় হয়। এটা কমে আসবে।











































