Home জাতীয় দেশের অস্তিত্বের লড়াইয়ে আপস করা হবে না: আলাল

দেশের অস্তিত্বের লড়াইয়ে আপস করা হবে না: আলাল

22

 

ঢাকা অফিস।।

‘বাংলাদেশের অস্তিত্বের লড়াইয়ে আপস করা হবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে স্বাধীনতা ঐক্য পরিষদ।

বিএনপি নেতা আলাল বলেন, ‘আমরা শুধু অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছি না। এই লড়াই আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে আমরা কোনোদিন এই সরকারের সঙ্গে আপস করব না। এই অস্তিত্বের লড়াই করতে যারা যেখানেই আছেন বা যেই পরিচয়েই আছেন তারা আমাদের বন্ধু।’

আলাল বলেন, ‘বাংলাদেশ ডাকাতের খপ্পরে পড়েছে। বাংলাদেশকে এই ডাকাতের খপ্পর থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু জামায়াতে ইসলাম কেন, রাজপথে যারাই থাকবে, আমরা মনে করব তারা ন্যায়ের পথে এবং সংগ্রামের পথে আছে।’

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগেও আমরা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর মুখে শুনেছি জামায়াতে ইসলাম নিষিদ্ধ। সে অবস্থার মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে এমন কী হলো বা এমন কোন গোপন চুক্তি হলো যে, তাদের কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হলো। যাইহোক, আমরা এতে খুশি কারণ ডাকাত তাড়াতে যারাই আমাদের সঙ্গে থাকবে তারাই আমাদের বন্ধু। হোক সেটা জামায়াত, হোক সেটা কমিউনিস্ট বা অন্য কোনো দল। আর জামায়াত লড়াই করছে তাদের অধিকারের জন্য।’

স্বাধীনতা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

‘সংকট সমাধানে গণআন্দোলন ছাড়া কোনো পথ নেই’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে রাজপথে গণআন্দোলন ছাড়া কোনো পথ নেই। দেশে রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে— বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ও এ সরকারের পদত্যাগ ছাড়া তা সমাধান হবে না।’

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক অবস্থান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন শামসুজ্জামান দুদু।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের ওপর ‘হামলার’ প্রতিবাদে এবং ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের’ দাবিতে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পরিষদ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘যারা হাবিবুর রহমান হাবিবের ওপর হামলা করেছে, অনতিবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। এর আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের ওপর খাগড়াছড়িতে হামলা করা হয়েছে। এই সরকার তাদের জনপ্রিয়তা হারিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা নির্যাতন করে ক্ষমতায় থাকতে চায়।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির ২০ দলীয় জোটের একটি দলকে গত ১০ বছরে কোনো সভা সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু, হঠাৎ করে আইনমন্ত্রীর জ্ঞান হয়েছে। তিনি বলেছেন, তাদের বিচার এখনো চলমান, তাই তাদের অধিকার আছে সমাবেশ করার। নতুন করে তারা খেলা শুরু করতে চাচ্ছেন, খেলেন তবে আমাদের কিছু যায় আসে না।’

‘সরকার সংলাপ নিয়ে তামাশা করছে’ মন্তব্য করে দুদু বলেন, ‘এই সরকারের একজন সিনিয়র নেতা আমির হোসেন আমু বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে সংলাপ করতে তাদের কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। আমরা তো আপনাদের সঙ্গে সংলাপ করতে চাইনি। আবার ওবায়দুল কাদের বললেন, তারা সংলাপের কথা বলেননি। একজন সংলাপের কথা বলেন আর একজন না করেন। তারা একটা তামাশা সৃষ্টি করেছেন। তারা জনগণের সঙ্গে তামাশা করছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, এ সরকারের পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। সংলাপ পরের বিষয়।’

জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্র পরিষদের সভাপতি মোক্তার আখন্দের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, সাবেক সংসদ সদস্য নুর আফরোজ জ্যোতি, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, জাতীয়তাবাদী চালকদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবির।