খুলনাঞ্চল ডেস্ক।।
সব কিছু চূড়ান্ত করেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিনা রব্বানী খার। গতকাল সোমবার তিনি এ সফর বাতিল করেন। অন্যদিকে, সোমবারই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির-আবদুল্লাহিয়ানেরও সফর বাতিলের তথ্য পায় ঢাকা।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, লন্ডনে অবস্থানরত পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিনা রব্বানী খার ব্রিটেনের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশের ভিসা সংগ্রহ করেন। কিন্তু গতকাল সোমবার রাতে ইস্তাম্বুলস্থ ডি-এইট সচিবালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জানতে পারে হিনা তার ঢাকা সফর বাতিল করেছেন। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আন্তর্জাতিক সংগঠন) ওয়াহিদা আহমেদ বলেন, উনি (হিনা) আসছেন না। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বিলাওয়াল ভুট্টো) ভার্চুয়ালি সম্মেলনে যোগ দেবেন।
উন্নয়নশীল আট মুসলিম রাষ্ট্রের জোট ডি-এইটের মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা সফর করার কথা ছিল নাইজেরিয়া, ইরান, পাকিস্তানসহ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের। গত রোববার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বর্ণাঢ্য ওই আয়োজন নানা দিক তুলে ধরেন আয়োজক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির-আবদুল্লাহিয়ান এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিনা রব্বানী খার ঢাকা সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
এদিকে দু’দিন ধরে রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে ডি-৮ কমিশনের বৈঠক চলছে। আগামীকাল বুধবার মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। হাইব্রিড ফরমেটে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রী পর্যায়ের ওই সম্মেলন কাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিশরের একজন সহকারী মন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল, নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্বশরীরে উপস্থিত থেকে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
সূত্র জানায়, মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে। এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে। ঢাকা মনে করে, এগুলো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, বৈশ্বিক ইস্যু।
গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডি-৮ সম্মেলনে বাণিজ্য বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হবে। জোটভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কীভাবে আন্তঃবাণিজ্য বাড়ানো যায়, সেটা নিয়ে আলাপ হবে। এক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার (পিটিএ) ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, পর্যটন প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করব।’
ঢাকায় আসন্ন ডি-৮ সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে অভিহিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর ডি-৮ এর ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে। আজারবাইজান সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। দেশটিকে গ্রহণ করা হবে কি না, সেটা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের স্থায়ী প্রতিনিধি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নাইজেরিয়ায় ডি-৮ ইয়ুথ কাউন্সিল গঠনের বিষয়টি আলোচনা করা হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, জ্বালানি খাত নিয়ে ইদানিং বেশ আলোচনা হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা সব সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে থাকছে। ডি-৮ সম্মেলনেও তা আলোচনায় আসবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা খাদ্য নিরাপত্তার ওপর জোর দিচ্ছি। সম্প্রতি বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে। সরকার খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়ানোর জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া আমরা ভিন্ন দেশে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ নিয়ে কাজ করছি। ডি-৮ সম্মেলনে এটা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ইস্যু। অন্যরা কী করবে, সেটা বলতে পারছি না ।’
বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে ১৯৯৬ সালে ডি-৮ গঠিত হয়েছিল। ইস্তাম্বুলে এর সদর দপ্তর অবস্থিত। ডি-৮ এর মূল লক্ষ্য হল বিশ্ব অর্থনীতিতে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান উন্নত করা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহুমুখীকরণ ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা, আন্তর্জাতিক ফোরামে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জোরালো অংশগ্রহণ এবং জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানো। ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি, যেখানে বিশ্বের মুসলমানদের ৬০ শতাংশের বসবাস।










































