বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ফের বগোপসাগরে দুর্যোগের কবলে পড়েছেন জেলেরা। এ অবস্থায় উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে থাকা হাজারও ফিশিং ট্রলার টিকতে না পেরে তিন দিন ধরে সুন্দরবনসহ বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে মৎস্য বন্দরে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে আবহাওয়া বিভাগ মোংলাসহ দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরে ৩নং সতর্ক সংকেত জারি করেছে।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার মেহেরআলী খালে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা বগা এলাকার ফিশিং ট্রলার ‘এফবি সখিনার’ মাঝি মোশারেফ হোসেন ও ভেদাখালীতে আশ্রয় নেওয়া ফিশিং ট্রলারের মাঝি দুলাল হাওলাদার শুক্রবার বিকালে মোবাইল ফোনে জানান, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে বিশাল বিশাল ঢেউ ও তীব্র ঝড়োবাতাস বইতে থাকায় টিকতে না পেরে গত তিন দিন ধরে তারা সুন্দরবনের মেহেরআলী ও ভেদাখালী খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আছেন।
সুন্দরবনের কটকা খালে আশ্রয় নেওয়া অপর একটি ফিশিং ট্রলারের মাঝি নজরুল ইসলাম জানান, লঘুচাপের প্রভাবে সাগর খুবই উত্তাল হয়ে আছে। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে। প্রবল বেগে ঝড়োবাতাসের সঙ্গে হালকা মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ অবস্থায় হাজারও ফিশিং ট্রলার সাগরে টিকতে না পেরে তিন দিন ধরে মেহেরআলী, আলোরকোল, ভেদাখালী, নারিকেলবাড়ীয়া, কটকা, কচিখালীসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। আবার অনেক ফিশিং ট্রলার উপকূলের মৎস্য বন্দরে চলে গেছে। সাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতি ভালো হলে আবার সব ফিশিং ট্রলার নিয়ে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যাবেন বলে জানান তিনি।
শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে না পেরে গত তিন দিন ধরে বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলার হাজারের অধিক ফিশিং ট্রলার সুন্দরবন ছাড়াও উপকূলের শরণখোলা, রায়েন্দা, বাগেরহাটের কেবিঘাটসহ বিভিন্ন মৎস্য বন্দর ও খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আছে।
সাগরে মাছ আহরণে ৫৮ দিনের অবরোধের পরে গত এক মাসে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা ৩ দফা বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে জেলে ও মৎস্যজীবীদের অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান এই মৎস্যজীবী নেতা।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, প্রতিবারের মতো এবারো সাগরে দুর্যোগের কবলে পড়ে শত শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানের খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আছে। গত তিন দিন ধরে আশ্রয়ে থাকা জেলেদের যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয় সেই বিষয়ে বনরক্ষীরা নজর রাখছেন বলেও জানান ডিএফও।









































